বেতন বন্ধ করলো মাউশি, এলাকাবাসীকে অভিযুক্ত করে প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: পারিবারিক ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ জালিয়াতি করে আপন শ্যালিকাকে নিয়োগ দেওয়ায় মাউশির তদন্তের আলোকে মাউশি কর্তৃক বেতন বন্ধ হওয়া জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলাধীন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তার নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এলাকাবাসীকে অভিযুক্ত করে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার সকালে সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার নিজ কার্যালয়ে শ্যালীকা প্রধান শিক্ষিকাকে নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অভিযোগ তুলে স্কুলে এই সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন কি’না এই মর্মে মঙ্গলবার বিকেলে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মশিউর রহমান মোল্লা নামের বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি।  এর আগে গত রবিবার সাধুরপাড়া এলাকাবাসী উপজেলা সদরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে স্কুল থেকে অপসারণ ও এদের মদদদাতা ও বেতন চালু করার চেষ্টাকারী মাউশির পরিচালক প্রফেসর কাজী আবু কাইয়ুম শিশিরকে মাউশি থেকে অপসারণের দাবিতে মানবন্ধন ও শিক্ষা সচিব বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করে এলাকাবাসী। 

সংবাদ সম্মেলনে মাউশি কর্তৃক বেতন বন্ধ থাকা স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ লিখিত বক্তব্যে বলেন ,”স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের কিছু ব্যক্তি বিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগে অযোগ্যতার কারণে বাতিল হওয়ার পর থেকে আমাদের সুনামধন্য বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দায়ের করে অপপ্রচার ও সুনাম ক্ষুন্ন করে যাচ্ছেন। ওই মহলটি বিগত পতিত সরকারের আমল থেকে অনৈতিকভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে রাজী না হওয়ায় তারা আমাদের ক্ষিপ্ত ছিলো। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে তারা বাঁধাগ্রস্ত করতে চায়। তাই গত ২১ সেপ্টেম্বর আমাদের মাউশির পরিচালক অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশিরকে জড়িয়ে এবং প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগে একটি মানববন্ধন করেন।
উক্ত মানববন্ধনের মাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠান ও আমাদের নিয়ে অপপ্রচার করা হয়। ফলে আমাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়। তাই আমরা শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুনঃ

ইউএনও বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান মোল্লা জানান, “প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তার তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্ব) দুপুরে স্কুল কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু একটি বেসরকারি কার্যালয়, সেখানে সংবাদ সম্মেলন করা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য পরিচিত। জেলা প্রশাসক ও মাউশির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা (এমপিও) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ সত্ত্বেও নিজেদের বাঁচানোর জন্য তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন। ঘুষের বিনিময়ে এমপিও পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেই মানববন্ধনে সরব হয়েছিলেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত শিক্ষকেরা মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশিরের সঙ্গে আঁতাত করে বেতন চালুর চেষ্টা করছেন। প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ টানা ১৬ বছর ধরে তার শ্বশুরকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রেখেছিলেন এবং একটি বাতিল হওয়া কমিটির মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া, সহকারী প্রধান শিক্ষকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর জালিয়াতির প্রমাণও পাওয়া গেছে।”

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন  গণমাধ্যমকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্কুলে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পারিবারিক ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী ১৬ বছরের শাসনামলে সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ তার আপন শ্বশুর গোলাম মোস্তফাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ব্যাকডেটে তার আপন শ্যালিকা শরিফা আক্তারকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে মাউশি ও জামালপুর জেলা প্রশাসকের আলাদা দুইটি তদন্ত এই জালিয়াতি প্রমাণ হওয়া চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও শ্যালিকা সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের মাসিক বেতন ভাতা (এমপিও) বন্ধ করে দেয় মাউশি। আর এই এমপিও ফের চালুর চেষ্টা করছেন মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আবু কাইয়ুম শিশির। এরই প্রতিবাদে গত রবিবার সাধুরপাড়া এলাকাবাসী বকশীগঞ্জ উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ইউএনওর মাধ্যমে শিক্ষা সচিব বরাবর স্বারকলিপি প্রধান করেন। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.