নিউজ ডেস্ক।।
দীর্ঘ ১০ বছর আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপির কাউন্সিল।এরপর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-নিপীড়নের শিকার দলটির পক্ষে আর সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর দলীয় ফোরামে বিএনপির কাউন্সিলের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিয়য়টি আলোচনায় উঠে আসে। তৃণমূল পর্যায়ের কাউন্সিল শেষ করে চলতি বছরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসছে।
রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’
আগামীতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ ধরনের প্রত্যাশা আমার কখনই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনে। তিনি ছাত্র ইউনিয়েনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (শিক্ষা ক্যাডারের) সদস্য হিসেবে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে একজন সফল শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি কলেজের অধ্যাপনার ইতি টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলরে সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ৫ম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। এর আগে এই পদে ছিলেন তারেক রহমান। এ সম্মেলনে তারেক রহমান দলের ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন। ওই বছর আওয়ামী সরকার গঠন করলে বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল এবং বিরোধী দলীয় মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচিতি পান।
২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন দলের চেয়ারপারনর বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৬ সালে ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মহাসচিবে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
