আল আমিন হোসেন মৃধা, ঢাকা: এখতিয়ার না থাকলেও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা, শিক্ষক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে শোকজ, শোকজ বাণিজ্য করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী শিক্ষা ক্যাডারদের পুনর্বাসন, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ফাইল আটকে রাখা, ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর থেকে বদলিসহ নানা অভিযোগে শিক্ষা ক্যাডারের বহুল বিতর্কিত কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম ওরফে শিশিরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখার উপসচিব শাহিনা পারভীন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোনীত করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: মাহবুবুল হক পাটওয়ারীকে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের চিঠিতে বলা হয়, “কাজী আবু কাইয়ুম, পরিচালক (মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলো। উক্ত বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো”।
আরও পড়ুন
- এনসিটিবিতে কামিয়েছেন টাকা, ডিআইতেও অর্থের নেশায় বুদ ডিডি ওয়াজকুরনী
- মাউশির প্রশিক্ষণ বিতর্ক: নেতৃত্বে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে ডিডি প্রিম রিজভী
- শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ: মাউশির ডিডি প্রিম রিজভীকে শোকজ
- বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের ড. খাদেমুল এখন ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ
- মাউশিতে চিন্তক ফরহাদ মজহারের শিক্ষা নিয়ে দার্শনিক আলোচনা, বিতর্ক কেন?
গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক চিঠিতে মাউশির বিতর্কিত এই পরিচালককে শোকজ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে “শিক্ষা ক্যাডারের আবু কাইয়ুম শিশিরই যেন শিক্ষা উপদেষ্টা, মাউশি ডিজি তার ‘অধীনস্থ’!” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর ১৬ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে পত্রিকাটির প্রতিবেদক, সম্পাদক ও প্রকাশকের নামে মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইংয়ের পরিচয় ব্যবহার করে বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে ১০০ কোটি টাকার মানহানি (হয়রানী মূলক) মামলা করেন এবং গত ১০ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ছুটি না নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। সরকারি চাকুরিবিধি অনুযায়ী, সরকারের কোনো দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা যদি ঐ দপ্তরের নাম ব্যবহার করে মামলা করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের অনুমতি প্রয়োজন এবং আদালতে উপস্থিতির জন্যও ছুটি মঞ্জুরের প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষাবার্তা’র নির্বাহী (যাকে এক নম্বর আসামী করা হয়েছে) অধ্যাপক শিশির কর্তৃক যথাযথ অনুমোদন নিয়ে এই মামলা করেছেন কি’না এবং ছুটি মঞ্জুর করে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন কি’না এবং যদি তা না করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাউশির মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেন। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে মাউশি থেকে তাকে শোকজ করা হয়।
উল্লেখ্য, আজ রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) অধ্যাপক কাজী কাইয়ুমের শিশিরের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তাকে মাউশি থেকে অপাসরণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে কাজী কাইয়ুমের নিজ জেলা জামালপুরের বাসিন্দারা।
অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ দেখুন শিক্ষাবার্তায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
১. “শিক্ষা ক্যাডারের আবু কাইয়ুম শিশিরই যেন শিক্ষা উপদেষ্টা, মাউশি ডিজি তার ‘অধীনস্থ’!”
২. আরও বেপরোয়া মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির
৩. ‘খালেদা জিয়া’কে পুঁজি করে চাঁদাবাজি করা শিশির হতে চান এনসিটিবির চেয়ারম্যান
৪. মাউশির বিতর্কিত পরিচালক অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম শিশিরকে শোকজ
৫. ‘মাউশির পরিচালক কাইয়ুম শিশির’কে মাউশি থেকে অপসারণের দাবিতে জামালপুরে বিক্ষোভ
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
