এইমাত্র পাওয়া

এসএসসি পরীক্ষায় কড়াকড়ি: সিসিটিভি, হেলিকপ্টার মিশন ও জিরো টলারেন্স

নিউজ ডেস্ক |
আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা। নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার নিচ্ছে ব্যাপক ও সমন্বিত পদক্ষেপ। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পর্যায়ক্রমে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা, চালু থাকবে লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরিদর্শনও করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। এসব কেন্দ্র বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে এবং অনিয়মের সামান্য ইঙ্গিত পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে আবারও চালু করা হবে ‘হেলিকপ্টার মিশন’। অতীতের মতো হঠাৎ করে যেকোনো কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০০১-২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে নকল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনেন এহছানুল হক মিলন।

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই প্রতিটি শিক্ষা বোর্ড পরিদর্শন করবেন এবং বোর্ড চেয়ারম্যানদেরও প্রতিটি কেন্দ্র ঘুরে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কঠোর হচ্ছে মূল্যায়ন পদ্ধতি:
এবার থেকে খাতা মূল্যায়নে কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, শুধুমাত্র তার ভিত্তিতেই নম্বর দেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই মেধার প্রকৃত প্রতিযোগিতা হোক, দয়া-দাক্ষিণ্যের সংস্কৃতি বন্ধ হোক।”

ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল:
পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন হিসেবে এবার প্রায় সব ‘ভেন্যু কেন্দ্র’ বাতিল করা হয়েছে। শুধুমাত্র বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সহযোগী কেন্দ্র রাখা হচ্ছে না। এতে তদারকি সহজ হবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরিকল্পনা:
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা থেকে দেশের সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিষয় সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ফয়েল প্যাক ও বিশেষ সিকিউরিটি খামে প্রশ্ন সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা একবার খোলা হলে পুনরায় ব্যবহার সম্ভব নয়। পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫–২০ মিনিট আগে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় খাম খোলা হবে।

ডিজিটাল জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নজর:
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণ স্কুলে নকল তুলনামূলক কম হলেও কিছু মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে এখনো নকলের প্রবণতা রয়েছে। তাই দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল ও উপকূলীয় কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।

কঠোর শাস্তির সতর্কতা:
কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কেন্দ্র সচিব ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে চাকরিগত জটিলতায় পড়তে হবে সংশ্লিষ্টদের।

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ:
সারা দেশের পরীক্ষা তদারকিতে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করা হচ্ছে, যেখান থেকে সব শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এতে যুক্ত থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কঠোর অবস্থানকে “জিরো টলারেন্স” নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—স্বচ্ছ, নকলমুক্ত ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত পাবলিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.