নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: শিক্ষা ক্যাডারের বহুল বিতর্কিত কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম ওরফে শিশিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক চিঠিতে এই বিতর্কিত পরিচালককে শোকজ করা হয়।
জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে “শিক্ষা ক্যাডারের আবু কাইয়ুম শিশিরই যেন শিক্ষা উপদেষ্টা, মাউশি ডিজি তার ‘অধীনস্থ’!” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর ১৬ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে পত্রিকাটির প্রতিবেদক, সম্পাদক ও প্রকাশকের নামে মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইংয়ের পরিচয় ব্যবহার করে বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে ১০০ কোটি টাকার মানহানি (হয়রানী মূলক) মামলা করেন এবং গত ১০ সেপ্টেম্বর এই মামলায় ছুটি না নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। সরকারি চাকুরিবিধি অনুযায়ী, সরকারের কোনো দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা যদি ঐ দপ্তরের নাম ব্যবহার করে মামলা করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের অনুমতি প্রয়োজন এবং আদালতে উপস্থিতির জন্যও ছুটি মঞ্জুরের প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষাবার্তা’র নির্বাহী সম্পাদক আল আমিন হোসেন মৃধা (যাকে এক নম্বর আসামী করা হয়েছে) অধ্যাপক শিশির কর্তৃক যথাযথ অনুমোদন নিয়ে এই মামলা করেছেন কি’না এবং ছুটি মঞ্জুর করে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন কি’না এবং যদি তা না করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাউশির মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেন। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে মাউশি থেকে তাকে শোকজ করা হয়।
আরও পড়ুন:
- শিক্ষা ক্যাডারের আবু কাইয়ুম শিশিরই যেন শিক্ষা উপদেষ্টা, মাউশি ডিজি তার ‘অধীনস্থ’!
- আরও বেপরোয়া মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির
- ‘খালেদা জিয়া’কে পুঁজি করে চাঁদাবাজি করা শিশির হতে চান এনসিটিবির চেয়ারম্যান
- মাউশিতে চিন্তক ফরহাদ মজহারের শিক্ষা নিয়ে দার্শনিক আলোচনা, বিতর্ক কেন?
- এনসিটিবিতে কামিয়েছেন টাকা, ডিআইতেও অর্থের নেশায় বুদ ডিডি ওয়াজকুরনী
- মাউশির প্রশিক্ষণ বিতর্ক: নেতৃত্বে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে ডিডি প্রিম রিজভী
মাউশির শোকজের চিঠিতে বলা হয়, “মাউশি’র পরিচালক (মনিটরিং) অধ্যাপক কাজী মো: আবু কাইয়ুম কর্তৃক সাংবাদিকবৃন্দের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করার জন্য চাকুরিবিধি অনুযায়ী ডিজি মহোদয়ের অনুমতি ও আদালতে স্বশরীরে উপস্থিতির জন্য ছুটি মঞ্জুর করেছেন কিনা, না করলে চাকুরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষাবার্তা ডটকম-এর নির্বাহী সম্পাদক জনাব আল আমিন হোসেন মৃধা মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিটাল হাজিরা বিবরণী মোতাবেক আপনি (অধ্যাপক কাজী মো: আবু কাইয়ুম, পরিচালক, মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন উইং) গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না এবং এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি পত্র রেকর্ডে নেই। এছাড়া আপনি, বিজ্ঞ সি.এম.এম (এ.সি.এম.এম-৩) আদালত, ঢাকায় “সি.আর মামলা নং-592/2025 (ধানমন্ডি থানা)” সূত্রে যে মামলা করেছেন সেখানে পরিচালক, মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন উইং, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর পদবি ব্যবহার করেছেন। এমতাবস্থায়, সূত্রোক্ত পত্রের বিষয়ে আপনার লিখিত বক্তব্য আগামী ০৩ (তিন) কার্য দিবসের মধ্যে প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
উল্লেখ্য, ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদ থেকে বদলি হওয়া অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম ওরফে শিশির পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী (তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মাউশিতে মিছিলকারী) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে তাদের বিভিন্ন কলেজে পুনর্বাসন করেছেন। আওয়ামী শিক্ষা ক্যাডারের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক শিশির মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের নেতা অধ্যাপক ড. মোঃ খাদেমুল ইসলামকে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে পদায়ন করিয়েছেন এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর সাভার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মো: আখতারুজ্জামানকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) এর পরিচালক অথবা ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে তদবির করে ফাইল উঠিয়েছেন যা চলমান রয়েছে। আওয়ামী আমলের সুবিধাভুগি শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তাই বিভিন্ন দপ্তরে পদায়ন পেতে বর্তমানে তার দপ্তরে প্রতিনিয়ত আসছেন।
শিক্ষাবার্তা/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
