নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরেও দুইটি স্কুলের ফাইল অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এবং প্রভাব খাটিয়ে আটকিয়ে রাখার অভিযোগ তুলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আবু কাইয়ুম শিশিরকে মাউশি থেকে অপসারণ এবং আটকে রাখা তদন্ত প্রতিবেদনের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। উল্লেখ্য যে, মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আবু কাইয়ুম শিশিরের নিজ জেলা জামালপুর।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বকশিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। উপজেলার সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় ও ভাটিখেওয়ারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ করা হয় সমাবেশ থেকে। সমাবেশ শেষে বকশিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা সচিব ও মাউশির মহাপরিচালকের নিকট আলাদা আলাদা স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সমাবেশে বলা হয়, ‘মাউশির কর্তৃক তদন্তে বেতন বন্ধ হওয়া সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের ইনডেক্স কর্তন ও স্কুল থেকে অপসারণ এবং তদন্তে প্রমাণিত হওয়া ল্যাব সহকারীর সিফাতের বেতন বন্ধ করা ও একইসাথে ঘুস গ্রহণ করে এই জালিয়াতি চক্রকে বাঁচানোর চেষ্টাকারী মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আবু কাইয়ুম শিশিরকে মাউশি থেকে অপাসরণ করতে হবে।’

এ সময় বক্তরা অভিযোগ করেন, ‘সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ল্যাব সহকারী (অপারেটর) পদে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, জামালপুর এবং জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলাদা দুইটি তদন্ত করে মাউশিতে প্রতিবেদন প্রেরণ করে। প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের বেতন ভাতার সরকারী অংশ বন্ধ করা হয়। কিন্তু ল্যাব সহকারীর শুনানী হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি’।
তারা বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি এই ল্যাব সহকারীর চাকুরিচ্যুতের ফাইল আটকে রেখেছেন মাউশির ঘুসখোর পরিচালক অধ্যাপক শিশির। একই সাথে বেতন বন্ধ থাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককের বেতন পুনরায় চালু করার পায়তারা করছেন। বেতন বন্ধ থাকলেও তাদের স্কুল থেকে অপসারণ করা হচ্ছে না এই পরিচালকের ইশারায়। আমরা বেতন বন্ধ থাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের অপসারণ এবং ল্যাব সহকারীর চাকুরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম শিশিরকে মাউশি থেকে অপসারণের দাবি জানায়’।
অন্যদিকে সমাবেশে ভাটি খেওয়ারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানান, ‘ভাটি খেওয়ারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে ০৬ (ছয়) জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারী ও মার্চ মাসে এমপিওভুক্ত করান । শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর উপপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহের তদন্ত চিঠির আলোকে গত ১৯/০৮/২০২৪ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিসার সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর হতে ১/ মোঃ নুরুল আমীন আকন্দ, ২/ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ৩/ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ৪/ সাবিনা ইয়াসমিন, ৫/ মর্জিনা আক্তার, ৬/ মিথুন খন্দকার ০৬ (ছয়) শিক্ষককে শোকজ করা হয়। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় অধিদপ্তরে ০৩/০৮/২০২৫ তারিখে শুনানি হয়। শুনানি হওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইং এর পরিচালক কাজী মোঃ আৰু কাইয়ুম শিশির অধিদপ্তরে দফায় দফায় ফোন দিয়ে উক্ত ফাইলটি আটকিয়ে রাখে এবং তিনি রাজনৈতিক নেতাদের দিয়েও উক্ত ফাইলটির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। গত জুন মাসের ১৮ তারিখে তিনি নিজে তার দপ্তরের ল্যান্ড ফোন এবং অন্য আরেকটি মোবাইল ফোন দিয়ে ভাটি খেওয়ারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক (ভার.)কে তাদের ০৬ (ছয়) শিক্ষকের বেতন ছাড়ের জন্য ০১ দিনের আল্টিমেটাম দেন। তাছাড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপপরিচালকের মাধ্যমে দফায় দফায় প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করেছেন’।
তারা বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাসে হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত শিক্ষকদের বেতন EFT- তে ব্যাংকে জমা হয়। অভিযুক্ত ০৬ (ছয়) শিক্ষকের বেতন ibass++ থেকে ইনভিলিট অবস্থায় রয়েছে। ibass++ থেকে তারা ইনভিলিট থাকলেও কাজী আবু কাইয়ুম শিশির সাহেব emis cell থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে জুন ও জুলাই দুই মাসের বেতন ছাড় করেন। যা প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত কেউই জানেন না। এই কার্যক্রমটি সম্পূর্ণই নিয়ম বর্হিভূত। এমতাবস্থায় বিচারাধীন ফাইলটি অগ্রগামী করে অভিযুক্ত ০৬ (ছয়) শিক্ষকসহ জালিয়াতির প্রশ্রয়দাতা পরিচালক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম শিশির এর অপসারণ দাবী করছি’।
আরও পড়ুন:
- মাউশির বিতর্কিত পরিচালক অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম শিশিরকে শোকজ
- শিক্ষা ক্যাডারের আবু কাইয়ুম শিশিরই যেন শিক্ষা উপদেষ্টা, মাউশি ডিজি তার ‘অধীনস্থ’!
- আরও বেপরোয়া মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির
- ‘খালেদা জিয়া’কে পুঁজি করে চাঁদাবাজি করা শিশির হতে চান এনসিটিবির চেয়ারম্যান
- মাউশিতে চিন্তক ফরহাদ মজহারের শিক্ষা নিয়ে দার্শনিক আলোচনা, বিতর্ক কেন?
- এনসিটিবিতে কামিয়েছেন টাকা, ডিআইতেও অর্থের নেশায় বুদ ডিডি ওয়াজকুরনী
- মাউশির প্রশিক্ষণ বিতর্ক: নেতৃত্বে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে ডিডি প্রিম রিজভী
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
