অর্থ আত্মসাৎ ও স্বাক্ষর জালিয়াতি: মাদ্রাসা অধিদপ্তরে অধ্যক্ষ মঈনুলকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার হলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো: মইনুল ইসলাম পারভেজ এর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব (এফডিআর) থেকে অর্থ তছরুপ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে অধিদপ্তরের তলব করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

সোমবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই তথ্য জানা গেছে। 

চিঠিতে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাধীন হলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো: মইনুল ইসলাম পারভেজ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ হতে অত্র অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব (এফডিআর) সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্টস এবং অভিযোগে উল্লিখিত স্বাক্ষর জাল সংক্রান্ত মামলার কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন । উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বর্ণিত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জনাব মো: মইনুল ইসলাম পারভেজ এবং মো: নূর মিয়াকে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রসহ স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট ২০/১০/২০২৪ তারিখে সকাল ১১:০০ টায় ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, অধ্যক্ষ মোঃ মইনুল ইসলাম পারভেজ এর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে এর আগে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাধীন হলিয়ারপাড়া জামেয়া কাদেরিয়া সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসার (ডিগ্রী) অধ্যক্ষ মোঃ মইনুল ইসলাম পারভেজ এর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দিলে  গত ২৯ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-বশিরুল ইসলাম জগন্নাথপুর থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-বশিরুল ইসলাম নিজে তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোনীত হবার পরে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম পারভেজের সাথে তার ব্যক্তিগত সখ্যতা থাকায় একসাথে একাধিক বৈঠক করেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদন্তে মইনুল ইসলাম পারভেজকে অভিযোগের হাত থেকে রক্ষা করতে জগন্নাথপুরের ইউএনও আল-বশিরুল ইসলাম ইউনএনও হবার পূর্বে জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার সুবাদে তদন্তের দায়িত্ব দেন জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলমকে। শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম নিজ দায়িত্বে এবং ইউএনও’র নির্দেশের নিজের ইচ্ছেমত এক পাক্ষিক তদন্ত করার অভিযোগ করেন অভিযোগ দায়ের কারী ব্যক্তি। 

আরও পড়ুনঃ

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৪/১০/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.