আল আমিন হোসেন মৃধা: ২৪-জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সমর্থন ও অংশগ্রহণকারী দাবি করা শিক্ষা ক্যাডারের ১৩৪ জন কর্মকর্তাকে সদস্য করে জাতীয় নাগরিক কমিটির (জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পূর্ব নাম) প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। শিক্ষা ক্যাডারের এই ১৩৪ জন কর্মকর্তার নাম, পদবী ও বিসিএসের ব্যাচ নম্বর উল্লেখ করে “রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেন শিক্ষা ক্যাডারের ১৩৪ কর্মকর্তা!” শিরোনামে গত ২২ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরের দিনই সেই কমিটি ভেঙ্গে দেয় তৎকালীন জাতীয় নাগরিক কমিটি। এবার সাবেক ছাত্রনেতা (ছাত্রদল) ও প্রকৃতি ন্যাশনালিস্ট (জাতীয়তাবাদী) দাবি করে “ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন” নামে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারদের একটি সংগঠনের খোঁজ মিলেছে। যারা সম্প্রতি এই নামে নবাগত শিক্ষাসচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়েছেন এবং শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর ৪ দফা দাবিও জানিয়েছেন। তবে সংগঠনটির অধিকাংশ সদস্যই জানেন না জাতীয়তাবাদি এই কমিটিতে তাদের নাম অন্তভূর্ক্ত করা হয়েছে। তবে এই সমিতিই আসল সমিতি দাবি ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর সদস্য সচিবের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৪ আগস্ট নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামিম আরা লুনাকে উপদেষ্টা, ড. এস এম আলমগীর কবীরকে আহ্বায়ক ও গাজী মিজানুর রহমান, পিএইচডিকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ‘ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামিম আরা লুনা জানিয়েছেন তার অনুমতি না নিয়েই তাকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। চাকুরিবিধি অনুযায়ী, জাতীয়তাবাদী উল্লেখ করে ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন করার কোনো সুযোগ নেই বলছেন তিনি।
একাধিক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে আহ্বায়ক ও সরকারি মাদ্রাসা ই আলিয়া, ঢাকার (বর্তমানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক) সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খানকে সদস্য সচিব করে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের ৫১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কর্মরত ১৯ হাজার শিক্ষা ক্যাডারদের মূল সংগঠন বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনকে চ্যালেঞ্জ করে একই মাসের ১৮ জানুয়ারি ১৩৪ সদস্যের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। তারা তখন দাবি করে তারাই ২৪-জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সমর্থন ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষা ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তা। একই সাথে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আদলে একই মাসে “ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন” এর ফেসবুক ভিত্তিক আত্মপ্রকাশ করে। পরে আগস্ট মাসে ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়। ‘ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ কমিটির আত্মপ্রকাশের দিন দাবি করা হয় তারা সাবেক ছাত্রনেতা (ছাত্রদল) ও তারাই একমাত্র জাতীয়তাবাদী (ন্যাশনালিস্ট)।
“ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন” এর ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও মূলত ৫১ সদস্যের হদিস পাওয়া যায়নি। এই কমিটিতে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন, উপদেষ্টা প্রফেসর শামিম আরা লুনা, আহ্বায়ক ড. অধ্যাপক ড. এস এম আলমগীর কবীর, সদস্য সচিব গাজী মিজানুর রহমান পিএইচডি, যুগ্ম আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ শামসুদ্দোহা, প্রফেসর শাহনাজ পারভীন, প্রফেসর মো. ফিরোজ আলম, প্রফেসর ড. আমিরুল ইসলাম সবুজ, প্রফেসর মো. গোলাম ফিরোজ, সহযোগী অধ্যাপক মো. আবুয়াল কায়সার, মোসা. নুরজাহান পাখি, সহকারী অধ্যাপক গাজী মো. কাওছার, একেএম শাহাবউদ্দীন, মোশাররফ হোসেন, মো. সোলায়মান, মোহাম্মদ শেখ ফরিদ, মো. আনিসুর রহমান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও জুলমত হোসেন।
প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীরা কি ধরণের সংগঠন করতে পারবেন তা সার্ভিস রুলসে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ রয়েছে। বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা জাতীয়তাবাদী দাবি করে এই ধরণের অ্যাসোসিয়েশন করার কোনো ধরণের সুযোগ নেই বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, “ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন” এর মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদস্য সচিব গাজী মিজানুর রহমান ও আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এস এম আলমগীর কবীর। এই দুইজনের সাথে কাজ করছেন অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম সদস্য আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল ও কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক গাজী মো. কাওছার। এর বাইরে যাদের নাম এসেছে তারা অধিকাংশই এই কমিটিতে যে তারা আছে তা জানেন না। এমনকি তাদের অনুমতিও নেওয়া হয় না। তাছাড়া শিক্ষা ক্যাডারদের মূল সংগঠন বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তার নামও জাতীয়তাবাদী এই কমিটিতে দেখা গেছে।
ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামিম আরা লুনা শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমাকে উপদেষ্টা করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী নাম করে তা আমার অনুমতি নেওয়া হয়নি। একবার তারা আমার কাছে এসেছিল একটি কমিটি করার জন্য আমি বলেছিলাম বিগত ফ্যাসিস্ট রেজিমে যারা নির্যাতিত ও অবহেলিত রয়েছেন তাদের সমন্বয়ে কমিটি করা যায় কি’না সেটা নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু এর মধ্যেই দেখি আমাকে উপদেষ্টা করে কমিটি করে সেই কমিটি সচিব মহোদয়কে ফুল দেওয়া, উপদেষ্টাকে লিখিত দাবি জানানো ইত্যাদি কার্যক্রম করছে যা আমি একদম অকিবহাল নই। এ ধরণের নাম দিয়ে ক্যাডার সার্ভিসের কোনো সংগঠন করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘এমন কোনো সংগঠন করলে সেখানে সবার আগে থাকবে অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। শিক্ষা ক্যাডারের নানা বৈষম্য নিয়ে আমরা এক সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। জাতীয়বাদী নামে কমিটি করা কিংবা আমার নাম দেওয়ার প্রশ্নই আসে’।
ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর শাহনাজ পারভীন শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ‘এ জাতীয় কমিটি আছে আর তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে তা আমি আজই আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এই কমিটিতে আমার নাম থাকার কোনো সুযোগই নেই। তারা যে আমাকে এই কমিটিতে নাম রেখেছে তা আমার অনুমতি তো নেই-ই বরং একটা ফোন করেও এ বিষয়ে জানায় নাই।’
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈষম্য ও ফ্যাসিস্ট শব্দগুলো কথায় কথায় ব্যবহার করে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে নাম লিখিয়েছিলেন শতাধিক কর্মকর্তা। সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করতে হয়। এখন সেই একই সুযোগ সন্ধানীরা নাম লেখাচ্ছেন জাতীয়বাদী। বদলী ও পদায়নের জন্য এসব কমিটিতে নাম লিখিয়েছেন। মূলত এসব নব্য চেতনাবাজ নেতাদের মূখ্য উদ্দেশ্য হলো ভালো পদায়ন।
আরও পড়ুন:
- এনসিটিবিতে কামিয়েছেন টাকা, ডিআইতেও অর্থের নেশায় বুদ ডিডি ওয়াজকুরনী
- মিনিস্ট্রি অডিট খ্যাত ডিআইএ’র ‘ঘুষ’ বিতর্ক, আসলে কী ঘটেছিল?
- শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ: মাউশির ডিডি প্রিম রিজভীকে শোকজ
- বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের ড. খাদেমুল এখন ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ
- ‘খালেদা জিয়া’কে পুঁজি করে চাঁদাবাজি করা শিশির হতে চান এনসিটিবির চেয়ারম্যান
- মাউশির বিতর্কিত পরিচালক অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম শিশিরকে শোকজ
- মাউশির পরিচালক কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষার ২২ ব্যাচের কর্মকর্তা সহযোগী অধ্যাপক আবুয়াল কায়সারকে। তিনি ‘বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন। একই সাথে কিভাবে দুই কমিটিতে নাম লেখালেন জানতে চেয়ে তার সাথে যোগাযোগ করলে মুঠোফোনে শিক্ষাবার্তা’কে তিনি বলেন, ‘এই নামে কমিটি আছে তা আমি দুইদিন আগে উপদেষ্টা বরাবর একটা দাবি দাওয়া লেখা প্যাড দেখে জেনেছি। আর এই কমিটিতে যে আমি আছি তা আমি আপনার থেকেই প্রথমে শুনলাম। আমার অনুমতি নেওয়া তো পরের কথা। ছাত্র জীবনে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন করতে পারে। কিন্তু ক্যাডার সার্ভিসে এসে রাজনৈতিক ব্যানার তৈরি করে এ ধরণের অ্যাসোসিয়েশন করার কোনো সুযোগ নেই। আমার অনুমতি না নিয়ে কমিটিতে আমার নাম রাখা হলো কেন, অবিলম্বে আমি এটা নিয়ে মামলা করবো’।
প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দাবি করে “ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন” গঠন করার মূল কারিগরি গাজী মিজানুর রহমান ও অধ্যাপক ড. এস এম আলমগীর কবীর ছিলেন পতিত আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সুবিধাভুগী কর্মকর্তা। অধ্যাপক ড. এস এম আলমগীর কবীর অধ্যাপক হলেও গত ২৪ বছরের মধ্যে একবছরও করেননি শিক্ষকতা। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ছিলেন বিভিন্ন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ডিরেক্টর, গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়। অন্যদিকে ফ্যাসিস্টের অন্যতম সুবিধাভুগী ছিলেন গাজী মিজানুর রহমান। শিক্ষা ক্যাডারের হলেও শিক্ষায় থাকেননি তিনি। ফ্যাসিস্ট রেজিম ব্যবহার করে প্রেষণে শিক্ষার বাহিরের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক পদে আসীন ছিলেন।
শিক্ষা ক্যাডারের জাতীয়তাবাদী এই সমিতির কমিটিতে নাম রয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ২১ তম ব্যাচের গণিতের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ শামসুদ্দোহার। তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ‘এই কমিটিতে আমার নাম দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কিভাবে এই কমিটিতে তারা নাম দিলেন আমার সাথে কোনো ধরণের আলোচনা করেনি, অনুমতি নেওয়া তো পরের কথা’।
জাতীয়তাবাদী এই কমিটির আরেক সদস্য ২২ বিসিএসের গণিতের সহযোগী অধ্যাপক আনিসুর রহমান। তিনি জানান, ‘গাজী মিজানুর রহমান আমার পরিচিত। কিন্তু এই কমিটিতে নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে সে আমাকে কিছু জানায়নি এবং আমার অনুমতিও নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর সাবেক মহাসচিব শওকত হোসেন মোল্লা শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ‘শুধু শিক্ষা ক্যাডার নয় যে কোনো ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তা চাইলে পেশাজীবী সংগঠন করতেই পারে তবে সেটা হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কিন্তু জাতীয়তাবাদী নাম দিয়ে সংগঠন করার কোনো সুযোগ নেই। যা চাকরিবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। রাজনৈতিক নাম দিয়ে সংগঠন করা তো দূরে থাক সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের কেউ রাজনীতি করতে পারবে না যা বিধিমালায় সুস্পষ্ট বলা আছে’।
ন্যাশনালিস্ট বিসিএস সমিতির অন্যতম নেতা রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গাজী মো. কাওছার বলছেন ভিন্ন কথা। মুঠোফোনে তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী নাম দিয়ে সংগঠন করার সুযোগ আছে’। তার দাবি, ‘এই জাতীয়তাবাদ বিএনপির জাতিয়তাবাদ নয় এটা দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদ’। দেখা হলে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ‘ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর পক্ষ থেকে একটি প্যাডে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর চারটি লিখিত দাবি জানানো হয়। প্যাডে অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করা হয় ‘শিক্ষাবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ, মেহেরবা প্লাজা (১৪ তলা), ৩৩, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০’। মূলত অফিসের এই ঠিকানা বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের। বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলছেন, আমাদের অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করার কোনো প্রশ্নই আসেনা। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানিই না। তারা যেটা করেছেন সেটা অপরাধ।
প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দাবি করে ‘ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ করা কে এই গাজী মিজানুর রহমান ?
গাজী মিজানুর রহমান ২৪ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। নিজেকে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দাবি করলেও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী আমলের সর্বোচ্চ সুবিধাভুগী এই কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন বরিশাল বিএম কলেজে কর্মরত থাকার পরে ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারর একতরফা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে গাজী মিজানুর রহমান প্রেষণেপ্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) সহকারী পরিচালক পদে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক হিসেবে পদায়ন নেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই পদে কর্মরত ছিলেন। দুর্নীতির দায়ে তাকে এই অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী (বরিশাল-৫) জাহিদ ফারুক প্রতিমন্ত্রী হলে তার হাত ধরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও আইসিটি) পদে প্রেষণে পদায়ন নেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের হাত ধরেই ২০২২ সালের সেপ্টম্বর মাসে তিনি একই অধিদপ্তরের পরিচালক পদে পদায়ন বাগান। ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি এই পদে কর্মরত ছিলেন। গত দুই জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে তাকে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ, পিরোজপুরে বদলি করা হয়। তবে কলেজটিতে যোগদান করলেও তিনি সারাদিন মন্ত্রণালয়ে তদবির বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজটিতে একটি দিনের জন্যও ক্লাস নেননি তিনি। পদায়নের মাস দেড়েক পর তিনি ঢাকায় মাউশিতে ওএসডি হয়ে রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজে সংযুক্ত পদায়ন করিয়ে নেন। গত ১২ জানুয়ারি তিনি বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের কোনো পদ না পেয়ে নিজেই গঠন করেন ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন। আওয়ামী আমলের সর্বোচ্চ সুবিধাভুগী ড. এস এম আলমগীর কবীরকে (ভুয়া পিএইচডি ও নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে যার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান) আহ্বায়ক করে তিনি হন সদস্য সচিব।
জাতীয়তাবাদী উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্লাটফর্মে ক্যাডার সার্ভিসের অ্যাসোসিয়েশন করতে পারেন কি’না জানতে চাইলে গাজী মিজানুর রহমান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী কোনো দলের নাম না এটা দেশপ্রেম। আপনি গুগলে সার্চ (অনুসন্ধান) করলে জাতীয়তাবাদের আরেক নাম পাবেন ‘patriotism’। সেই জায়গা থেকেই এই নাম দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক হিসাব নেই। আর যে কেউই যে কোনো নামে সংগঠন করতে পারে তাতে কোনো বাধা নেই’। আপনার কমিটির অধিকাংশ সদস্যের অনুমতি না নিয়েই কমিটি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে’।
‘ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর প্যাডে ‘বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর অফিস ঠিকানা ব্যবহার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ভবন আমাদের সবার। বরং বর্তমান যে ৫১ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে তারাই দখলবাজ। তাদের কে মানে? মাউশির উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) শাহজাহানের রুমে বসে হাতে লিখে খান মঈনুদ্দিন সোহেল, আসাদ ও ড. মাসুদ রানা খান এই কমিটি করেছে। যা দখলবাজ কমিটি। আমরা অফিসের সঠিক ঠিকানা ব্যবহার করেছি তারাই দখলবাজ।
তিনি বলেন, ‘বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর যে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে এরা সুবিধাভুগী। শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতিজটসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধানে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। তাই আমরা বাধ্য হয়েই এই কমিটি করতে হয়েছে। সোহেল-মাসুদ কমিটিকে কেউ মানে না’।
আপনি পুরো আওয়ামী আমলে শিক্ষার বাইরে বিভিন্ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-পরিচালক পদে আসীন থেকে কিভাবে প্রকৃত ন্যাশনালিস্ট দাবি করেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আবারও বলছি ন্যাশনালিস্ট শব্দ অরাজনৈতিক। আর পদায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতায় পেয়েছি হয়ত সুপারিশও ছিল তাই। তিনি উল্টো প্রশ্নে রেখে বলেন, ‘বর্তমান ‘বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’ এর যে কমিটি আছে এর প্রায় সবাই আওয়ামী আমলের সুবিধাভুগী সেগুলো চোখে দেখেন না। মোঃ নওসের আলী (ডিডি বেসরকারি কলেজ, মাউশি) এর আগেও আওয়ামী আমলে ভবনে চাকরি করছে, মোঃ শাহজাহান (বিসিএস-২২, ডিডি, সাধারণ প্রশাসন, মাউশি) সারা জীবন ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজে চাকরি করছে, সমিতির সদস্য সচিব মাসুদ রানা দীর্ঘ দিন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছিল। কে সুবিধা নেয়নি?’
এ বিষয়ে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন যুগ্ম আহ্বায়ক আবুয়াল কায়সার বলেন, সমিতির প্রায় সব কর্মকর্তাি বিগত ফ্যাসিবাদি রেজিমে নিপীড়নের শিকার। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আমাকে ঢাকা কলেজ থেকে মঠবাড়িয়ায় পাঠানো হয়। ১৬ বছর জলের সাথে যুদ্ধ করে চাকরি করছি। এখন এদের মত জাতীয়তাবাদীর ধ্বজাধারীদের কারণেই ওএসডি আছি। সমিতির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিগত ১৬ বছর কোথায় কোথায় চাকরি করছে সেটা সবাই জানে, তিনি নিপীড়িত। আর এই কমিটি গঠন হয়ে সারাদেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঢাকা কলেজের অডিটরিয়ামে সকলের সর্বসম্মতিক্রমে।
জানতে চাইলে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ন্যাশনালিস্ট নামে কিভাবে শিক্ষা ক্যাডার সংগঠন করে তা আমার বোধ্যগম্য নয়। কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু করলে সেটা মন্ত্রণালয় দেখবে। বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের অফিস ঠিকানা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সাথে কোনো আলাপই করেনি। বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের নামে আপনারাই সমিতির ঐ রুম দখল করে আছেন তারাই প্রকৃত সমিতি গাজী মিজানুর রহমানের এই কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ অডিটরিয়ামে সবার সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। সে কি বললো তাতে কারও কিছু যায় আসে না। অফিস ঠিকানা ব্যবহারের জন্য আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।
ন্যাশনালিস্ট বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কে এই অধ্যাপক ড. এস এম আলমগীর কবীর ?
জানা গেছে, শিক্ষাক্যাডারের কর্মকর্তা হয়েও আলমগীর কবির গত ২২ বছরের মধ্যে এক বছরও শিক্ষকতা করেননি। তার চাকরির পুরো সময়টুকু প্রেষণে কেটেছে প্রশাসনে। ২০০১ সালে ঝিনাদহের সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন আলমগীর কবির। ২০০১ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের অভিপ্রায় অনুয়ায়ী এসএম আলমগীরকে সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়। তার পরের পদায়ন হয় মালয়েশিয়া হাইকমিশনে তৃতীয় সচিব হিসেবে। মালয়েশিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির সনদ তৈরি করেন। সেই সনদ ব্যবহার করে ও অভিজ্ঞতার জাল সনদ দিয়ে তিনি ১০ শতাংশ সরাসরি কোটায় সহযোগী অধ্যাপক পদে চাকরি নেন। এটা নিয়ে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলাও করে যা চলমান রয়েছে।
দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সালের ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১০ শতাংশ সরাসরি কোটায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আলগীর কবীর সরাসরি কোটায় সহযোগী অধ্যাপক পদে ২০০৬ সালের ২৫ মে পিএসসি বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে মালয়েশিয়ার ক্যামডেন বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএসএ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি গ্রহণের সনদপত্রের কপি জমা দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ক্যামডেন বিশ্ববিদ্যালয় নামে মালয়েশিয়া কোনো রেজিস্টার্ড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অর্থাৎ আসামির পিএইচডি ডিগ্রি সনদ জাল এবং ভুয়া। এ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপক পদে চাকরির আবেদনের জন্য ন্যূনতম আট বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা বলা হলেও এখানেও তিনি জালিয়াতি করেন। ২ বছর ৩ মাস ১১ দিনের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আট বছরের অভিজ্ঞতার সনদ দেখান। সনদ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগৃহীত নয় এবং যেসব শর্তাবলি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যুক্ত থাকা আবশ্যক ছিল, তারও উল্লেখ নেই। দুদকের মামলায় আরও বলা হয়েছে, আসামি প্রভাষক পদ থেকে প্রেষণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এপিএস এবং তৃতীয় সচিব হিসেবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মচারী হয়ে জাল ও ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির সনদ তৈরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অভিজ্ঞতার দুই বছরেরও বেশি ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে উল্লিখিত শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে মিথ্যা সনদ আবেদনের সঙ্গে জমা দেন। তার সহযোগী অধ্যাপক পদ এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক পদে আসীন হওয়াও প্রতারণা।
২০০৯ সালে নতুন সরকার আসার পর তিনি আত্মগোপনে যাওয়ার জন্য ছুটি নেন আলমগীর কবির। ২০১০ সালের ৭ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাউশিতে ওএসডি দেখান তবে এসময় কোথায় ছিলেন তা জানা যায়নি। পরবর্তীতে সময় সুযোগ বুঝে আবার মাউশিতে যোগদান করেন। এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘ইংলিশ ইন অ্যাকশন’ প্রকল্প পরিচালক, ২০১৮ সাল পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ১৫০০ কলেজে উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক, তারপর তাকে মাদারীপুর সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। সেখানে তার পদ না থাকায় তিনি যোগদান করতে পারেননি। এরপর ২০১৮ সালের ২৩ জুন তিনি ১৫০০ কলেজ প্রকল্পে পুনরায় যোগদান করেন। এরপর তিনি মাউশিতে ওএসডি ছিলেন। তার কিছুদিন পর অদৃশ্য শক্তিতে প্রথমে স্থানীয় সরকার ইন্সটিটিউটের উপ-পরিচালক এবং ৩০ জুলাই ২০২৫ ইং পর্যন্ত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তি নির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। আর এই প্রকল্পে ঢুকেই তিনি আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে দফায় দফায় ঘুষ বাণিজ্য করেন। এসব প্রকল্প পরিচালক হয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা। রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় তার রয়েছে নামে বেনামে সম্পত্তির পাহাড়। ঢাকার উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে বিলাশবহুল বাড়ি, বসুন্ধরার কে ব্লক ও এম ব্লকে ৫ কাঠার ৪টি প্লট, ইস্কাটনে ৩টি ফ্ল্যাট ও ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট। বাগেরহাটে চিংড়ি ঘের ছাড়াও আছে প্রায় ৩০ একর জায়গা। বর্তমানে তিনি ওএসডি আছেন।
আওয়ামী আমলের সর্বচ্চো সুবিধা নিয়ে প্রকল্পের পরিচালক হয়ে শত শত কোটি টাকা আয় করেও কিভাবে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী হয়ে উঠলেন জানতে চেয়ে তার মুঠোফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম বলেন, এই জাতীয়তাবাদী চেতনাধারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে নাম লেখানো কর্মকর্তাদের জন্য একটি দলের এক সময় দূর্ভোগে পড়তে হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের সার্ভিস রুল অনুযায়ী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সংগঠন করার কোনো ধরণের সুযোগ নেই। বিএনপির যেমন উচিত এদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়া তেমনি সরকারের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে সুযোগ সন্ধানী এমন হাজারো সরকারি কর্মকর্তা রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলবে যা দেশের জন্য এক ধরণের অশনিসংকেত।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
