আল আমিন হোসেন মৃধা: সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও নিয়োগ জালিয়াতি ধরা মিনিস্ট্রি অডিট খ্যাত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পতিত আওয়ামী সরকারের বিগত ১৬ বছর দপ্তরটি ছিল এমপিও শিক্ষকদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। এ সময়টাতে যেমন কোনো নিয়ম নীতি না মেনে দলীয় কোটায় ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনে ইচ্ছে মত চলেছে নিয়োগ বাণিজ্য, তেমনই এই নিয়োগ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম ধরার দপ্তর ডিআইএ’র মিনিস্ট্রি অডিটের নামে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীদের এক কিংবা দুই মাসের এমপিও’র (সরকারি অনুদানের অর্থ) টাকা সরাসরি যেত দপ্তরটির অডিট ও নিরীক্ষা কর্মকর্তার পকেটে। সে ভাগ যেতে দপ্তরের উপ-পরিচালক, পরিচালক থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত। তবে পাঁচ আগস্ট পরবর্তীতে দপ্তরটিতে নতুন পরিচালক পদায়নের পর সেই আওয়ামী আমলের নিয়মেই চলে দপ্তরটি। ঘুষ আদায়ের অভিযোগ মাথায় নিয়ে সে পরিচালককে তিন মাসের মাথায় ছাড়তে হয় চেয়ার। এরপর আসে আর এক নতুন পরিচালক। বেশ কিছু অভিযোগ তার বিরুদ্ধে থাকলেও পিআরএলে যাবার আগ পর্যন্ত তিনি চেয়ারে আসীন ছিলেন। বর্তমানে আসছে নতুন আর এক পরিচালক। সম্প্রতি এই দপ্তরটি নিয়ে ফের আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে শিক্ষকদের জিম্মি করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের বেশিরভাগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আসলেই কী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরেও চলছে এই বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্তৃক ঘুষ বাণিজ্য?
সম্প্রতি “এনসিটিবিতে কামিয়েছেন টাকা, ডিআইতেও অর্থের নেশায় বুদ ডিডি ওয়াজকুরনী” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। দপ্তরটির উপ-পরিচালক মো: ওয়াজকুরনীর ঘুষ দুর্নীতি নিয়ে তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশিত হলেও আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দোসর এই কর্মকর্তা এখনও বহাল রয়েছেন। জনশ্রুতি আছে তিনি উর্ধ্বতন টেবিল মেনেজ করেছেন ফলে তার আর বদলিজনিত কোনো আতঙ্ক কিংবা শাস্তির ভয় নেই। তারই উত্তরসূরী হয়ে উঠেছেন আরেক উপ-পরিচালক। এক সময় ছিলেন পতিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের ভাগ্নে এখন বিএনপি নেতা এ্যানির ভাতিজা। যিনি সম্প্রতি রাজধানীর একটি স্কুল এন্ড কলেজের তদন্ত করে অন্তত দশ লক্ষ টাকা পকেটে ভরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থ খেয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন যেখানে মোট ২৩টি অভিযোগের সিংহভাগই ‘অভিযোগ প্রমাণিত নয়’, ‘অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত নয় তবে বিধিবহির্ভুত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে’ উল্লেখ করেছেন ক্ষমতাধর এই ডিডি। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হওয়া প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ আগস্ট পরবর্তী অভিযোগকারীরাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। বাধ্য হয়েই ডিআইএ একই অভিযোগের তদন্তে পাঁচ জনের টিম পাঠিয়ে চলতি মাসেই তদন্ত করেছেন। (এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আসছে…)
সম্প্রতি দপ্তরটি নিয়ে করা একটি সংবাদ নিয়ে চলছে সমালোচনা। সংবাদটি দেখে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলছেন, আগের নিয়মেই চলছে দপ্তরটি। ‘আসলে কি আগের নিয়মেই চলছে’ এই শিরোনামের সূত্র ধরেই অনুসন্ধানে নামে শিক্ষাবার্তা। সংবাদটিতে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ড. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করে আসা দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রতিষ্ঠান থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও পরিদর্শন করা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। জানা গেছে, পরিদর্শক ড. আবুল কালাম আজাদ গত ১৮ জুন চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার নয়টি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করতে যান। তার সাথে সহযোগী হিসেবে যান দপ্তরটির অডিটর পবনা বেগম। পরিদর্শনের চিঠিটে দশটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকলেও অডিট ও নিরীক্ষা করা হয় নয়টি প্রতিষ্ঠানের। সেগুলো হলো- পাঁচলাইশ থানার ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ, পাঁচ লাইশ এস এম নাসির উদ্দিন সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজ, শেরশাহ কলোনী ডা. মাজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচলাইশ উচ্চ বিদ্যালয়, রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, আশেকানে আউলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইমারাতুন্নেছা এস এন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচলাইশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মোহাম্মদীয়া হাফেজুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা।
আরও পড়ুন:
- শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ: মাউশির ডিডি প্রিম রিজভীকে শোকজ
- বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের ড. খাদেমুল এখন ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ
- ‘খালেদা জিয়া’কে পুঁজি করে চাঁদাবাজি করা শিশির হতে চান এনসিটিবির চেয়ারম্যান
- মাউশির বিতর্কিত পরিচালক অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম শিশিরকে শোকজ
- মাউশির পরিচালক কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
প্রতিবেদক উপরোক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সাধারণ শিক্ষকদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হবার চেষ্টা করেছেন যে এই মিনিস্ট্রি অডিটে কে কত টাকা দিয়েছেন। তবে কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সাধারণ শিক্ষক অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তেও তারা অর্থ দিয়েছেন কি’না জানতে চাইলে অর্থ দেননি বলে জানান। এরমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে উঠিয়েছেন যা সাধারণ শিক্ষকদের ভাষ্য। তবে ঐ প্রতিষ্ঠান প্রধান এই অর্থ আদায়ের কথা অস্বীকার করছেন। উপরোক্ত ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রধান শিক্ষক কিংবা অধ্যক্ষ কর্তৃক বা সাধারণ শিক্ষক কর্তৃক ড. আবুল কালামের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত কিংবা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেন নাই। মন্ত্রণালয় ও ডিআইএ সূত্রও এ জাতীয় কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি মর্মে শিক্ষাবার্তা’কে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও শিক্ষাবার্তা’র চট্টগ্রাম প্রতিবেদক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তবে তিনিও এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রমাণ পাননি।
চট্টগ্রামের এই নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষার কাজে ভার্চুয়ালি মনিটরিং করেন ডিআইএ’র উপ-পরিচালক সাহানুল কবির (তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব রয়েছেন)। তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, নিরীক্ষা ও অডিট হওয়া পাঁচলাইশ এর প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলে রেখেছিলাম যেন কেউ কোনো আর্থিক লেনদেন না করে। আমার কাছে কেউ এ বিষয়ে মৌখিক বা লিখিত জানাননি। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন লেনদেন হয়েছি কি’না। আমার জানা মতে এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়নি। তবুও যদি আপনারা খোঁজ পান সেটা নিয়ে লেখেন অবশ্যই আমরা সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এবং পরবর্তীতে এ জাতীয় কর্মকাণ্ড করার কেউ সাহস করবে না।
মিনিস্ট্রি অডিটের নামে চট্টগ্রামের দশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা আদায় মর্মে অভিযোগ করা হলেও এই মর্মে কোনো লিখিত অভিযোগের কপি প্রচার না করে ফরিদপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে আব্দুল আওয়াল নামের এক ব্যক্তির করা অভিযোগ ড. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দেখা গেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর সিল দেওয়া একটি অভিযোগের কপি দেখানো হয়েছে। যেখানে পরিদর্শক ড. আবুল কালাম আজাদকে ‘র’ এর এজেন্ট সহ নানাবিধ অভিযোগ আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ জাতীয় কোনো অভিযোগের কপির খোঁজ পায়নি শিক্ষাবার্তা। পরবর্তীতে ফরিদপুর অঞ্চলে খোঁজ নেওয়া হয় কে এই অভিযোগকারী আব্দুল আওয়াল। সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ রোড, ফরিদপুর ঠিকানা ব্যবহার করে দেওয়া হয় এই অভিযোগ। তবে সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে আব্দুল আওয়াল নামের কোনো শিক্ষক কিংবা কর্মচারীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনকি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজেও এই নামের কোনো শিক্ষকের হদিস মেলেনি। তাহলে কে এই আব্দুল আওয়াল? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, কেউ যখন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় তখনই কোনো একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে অভিযোগ করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছে বলে মনে করেন তারা। চট্টগ্রাম থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠলেও ফরিদপুর থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগের মূলত ভিত্তি নেই বলে মনে করছেন তারা।
ছদ্মনামে দেওয়া লিখিত এই অভিযোগে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ড. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে পাঁচ আস্টের এক দিন আগে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পক্ষে মাউশিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ করা হয়, এবং ভিডিও ফুটেজ থেকে মার্ক করে দেখানো হয়। জানা গেছে, পরিদর্শক ড. আবুল কালাম আজাদ ডিআইএতে পদায়ন পান হাসিনা পালানার ঠিক ২৫ দিন আগে। তবে মাউশির ঐ মিছিলে তিনি নন তা তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে নিশ্চত হওয়া গেছে। এছাড়াও দপ্তরটির সে সময়ের পরিচালক পাঁচ আগস্টের আগের দিন ফ্যাসিস্ট হাসিনার পক্ষে এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে খুনি খালেদা উল্লেখ করে মিছিল করায় ডিআইএ’র ১৬ কর্মকর্তাকে শোকজ করেন (যদিও সেই পরিচালক টাকা খেয়ে এই শোকজ ফাইল পরবর্তীতে গায়েব করে দেন)। মিছিলে থাকেননি বলেই তার নামে তখন কোনো শোকজ চিঠি ইস্যু হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ফরিদপুর থেকে এই দপ্তরে আসতে চান মুক্তিযোদ্ধা কোটার স্পেশাল বিসিএসে ক্যাডার হওয়া সাধারণ শিক্ষার এক কর্মকর্তা। যেহেতু পদ ফাকা নেই তাই পাঁচ আগস্টের সপ্তাহ তিনেক আগে আসা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছদ্মনামে অভিযোগ দিয়ে তাকে এই দপ্তর থেকে সরিয়ে পদে আসতে চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআইএর কয়েকজন কর্মকর্তা শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, যারা মূলত এখনও আওয়ামী আমলের সেই চরিত্রই ধারণ করে আছেন তারাই রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। আর নিছক যারা সাধারণ কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে প্রোপ্যাগান্ডা চালানো হচ্ছে যাতে তাকে সরিয়ে এই পদ অন্য কেউ দখল (পদায়ন) করতে পারেন। তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা যখন তদন্ত, কিংবা অডিটে যাই আপনারা তখন খোঁজ রাখবেন। তাহলে দেখতে পারবেন আসলেই কি মিনিস্ট্রি অডিটের নামে সবাই দুর্নীতিতে জড়াচ্ছে কি’না। প্রকৃত ঘটনা তখন জানতে পারবেন এবং জাতির সামনে তুলে ধরতে পারবেন।
আসলেই কি ড. আজাদ ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী কিংবা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড. আজাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদায়। তার এক ভাই আব্দুস ছালাম যিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোসপ্যাক্টাস থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার প্রতিবাদে তার নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল এবং তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার তাকে গ্রেফতার করে ৩৬ দিন কুষ্টিয়া কারাগারে আটকে রেখেছিল। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় এবং নিজে ছাত্রদলের রাজনীতি করায় মুহা. আব্দুস ছালাম ২০০৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে যোগদান করলে বিএনপি করার কারণে ২০০৭ সালে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয় এবং পাঁচ আগস্ট পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ে চাকরি ফিরে পান। ছাত্র জীবনে শুধুমাত্র ছাত্রদল করার অপরাধে ২০০৭ সালে ৮৫ জন নির্বাচন কর্মকর্তার চাকরি কেড়ে নেওয়া হয় তার মধ্যে ড. আজাদের ভাই একজন। আবুল কালাম আজাদের আরেকভাই বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি।
আওয়ামী রাজনীতির সাথে ড. আবুল কালাম আজাদ কিংবা তার পরিবার সংশ্লিষ্ট ছিল কি’না জানতে চাইলে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, একটি পরিবার শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতি করায় তাদের উপর ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের ১৬ বছর নেমে আসে ভয়াবহ নিপীড়ন। ছাত্রদল করায় ছালামের চাকরি চলে যায়। ড. আবুল কালাম আজাদের পুরো পরিবার বিএনপির সাথে জড়িত। তার একভাই সরাসরি আমার সাথে রাজনীতি করেন, তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সহভাপতি। এই পরিবারকে যদি কেউ ফ্যাসিস্টের সহযোগী বলে আসল ফ্যাসিস্ট তারাই।
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে ডিআইএ’র পরিদর্শক ড. আবুল কালাম আজাদ শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আমি যদি পরিদর্শনে গিয়ে অর্থ এনে থাকি আর তা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে শুধু ডিআইএ থেকেই আমি চলে যাব না পুরো ক্যাডার সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে দেব। সরকার যে শাস্তি দেবে তা মাথা পেতে নেব।
তিনি বলেন, আমাকে বলা হচ্ছে র’এর এজেন্ট। কতোটা হাস্যকর আপনিই বলুন। এই এলিগেশন যে কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে করেছে তা সহজেই অনুমেয়। আমার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।
জানতে চাইলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর খন্দকার মাহফুজুল আলম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ডিআইএ’র পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলামের দপ্তরে গেলে দিনব্যাপী কর্মশালায় থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তিনি শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কি করা যায় দেখছি। আগামীকাল আসেন সরাসরি কথা হবে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম এ বিষয়ে শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অডিটের নামে ফ্যাসিবাদি জামানায় শিক্ষকদের পকেট কাটা হতো। এই দপ্তরটিকে কর্মকর্তা মনে করতেন টাকা ইনকামের টাকশাল। তবে আগের মত এখন ওতটা এই দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় না। যাদের এই দপ্তরে চাকরি করা তিন বছর হয়েছে তাদেরকে সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তিন বছর অন্তর অন্তর বদলির যে নিয়ম তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে বিতর্ক অনেকটাই কমে যাবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
