এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ: স্কুল শিক্ষক থেকে অধ্যক্ষ হওয়া সেই সাইদুলের বিরুদ্ধে তদন্তে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহঃ ‘স্কুল শিক্ষক থেকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ এবং এমপিওভুক্ত হয়ে বহাল সাইদুল শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর শেরপুর সদর উপজেলাধীন পাকুড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত নিজাম উদ্দিন আহম্মদ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুল ইসলামের নিয়োগ ও এমপিও জালিয়াতির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে চিঠি ইস্যু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চল। আগামী ২৩ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে সরেজমিনে এই তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। 

বুধবার (৯ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক এ.কে.এম. আলিফ উল্লাহ আহসান স্বাক্ষরিত তদন্তের নির্দেশ দিয়ে ইস্যু করা চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। 

চিঠিতে বলা হয়, “শেরপুর জেলার সদর উপজেলাধীন নিজাম উদ্দিন আহমেদ মডেল কলেজের (১) অধ্যক্ষ জনাব মো: সাইদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে শিক্ষাবার্তা ডট কম এ সংবাদ প্রকাশ (২) অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষক- কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যকরণ অভিযোগ ও (৩) একজন শিক্ষকের এমপিও সংক্রান্ত বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তের জন্য নিম্নস্বাক্ষরকারী ও সহকারী পরিচালক (কলেজ) আগামী ২৩/০৭/২০২৫ তারিখ রোজ বুধবার বেলা ১০.০০ ঘটিকায় আপনার কলেজে উপস্থিত থেকে তদন্তকার্য সম্পন্ন করবেন। সে মোতাবেক আপনার প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যসহ সকল শিক্ষক-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত পূর্বক উপযুক্ত প্রমাণকসহ আপনাকে উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যে সহায়তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।

জানা গেছে, গত ২০ মে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘স্কুল শিক্ষক থেকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ এবং এমপিওভুক্ত হয়ে বহাল সাইদুল” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। শেরপুর সদর উপজেলাধীন পাকুড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত নিজাম উদ্দিন আহম্মদ মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুল ইসলাম (ইনডেক্স নং-N56851732) টানা আট বছর চাকরি করেছেন শেরপুর জেলার সদর উপজেলাধীন  চর জংগলদী রাহেতুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) পদে যার ইনডেক্সধারী নং- N1127908। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করা অবস্থাতেই ২০২২ সালে ৬ জুলাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও আওয়ামী সাংসদ ও মন্ত্রীদের মদদপুষ্ট নন এমপিও ১০৯ টি ইন্টারমিডিয়েট কলেজকে এমপিওভুক্ত করলে ইনডেক্সধারী সহকারী শিক্ষক থেকে সরাসরি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হয়ে বাগিয়ে নেন এমপিও। অর্থ্যাৎ ইনডেক্সধারী সহকারী শিক্ষক থেকে সরাসরি ইনডেক্সধারী প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। তৎকালীন আওয়ামী লীগের (বর্তমান নিষিদ্ধ ঘোষিত) প্রভাবে এভাবেই কোনো নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অধ্যক্ষ পদে এমপিওভুক্ত হয়ে এখনও দাপটের সাথে চাকরি করছেন অধ্যক্ষ সাইদুল। 

আরও পড়ুনঃ 

তবে অধ্যক্ষ সাইদুলের এমন জালিয়াতি নিয়ে করা সংবাদ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেও একই সাথে অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষক- কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যকরণ অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক।  অর্থ্যাৎ একই চিঠিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এবং অধ্যক্ষের পক্ষে তদন্ত যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কলেজটির একাধিক শিক্ষক। তারা বলছেন, যে সাইদুল ইসলাম টানা একটি এমপিওভুক্ত হাইস্কুলের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করে আমাদের কলেজটি এমপিও হবার সাথে সাথেই নিজাম উদ্দিন আহম্মদ মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বর্তমান নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ আলহাজ্ব মোঃ আতিউর রহমান আতিকের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তার হাত ধরেই তিনি এখানে খাতা কলমে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত হয়ে যান। আওয়ামী লীগের পেশী শক্তি ব্যবহার করে তিনি কলেজটিকে এতদিন জিম্মি করেছিলেন। অথচ আওয়ামী সুবিধাবাদী এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তের চিঠিতে অধ্যক্ষের পক্ষেও তদন্ত করা হবে যা তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিভাবে একটি চিঠিটে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং পক্ষে তদন্ত করা সম্ভব ? প্রশ্ন রাখেন তারা। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষের সাথে আলাপ করেই আগামী ২৩ জুলাই তদন্তের দিন ঠিক করা হয়েছে। এমনকি অধ্যক্ষের সাথে আলাপ করেই অধ্যক্ষের পক্ষে অভিযোগ নিয়ে তা একই চিঠিতে  তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

অধ্যক্ষের সাথে আলাপ করে তদন্তের দিন ঠিক করা যায় কি’না এবং একই চিঠিতে অধ্যক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে তদন্ত করা যায় কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক আলিফ উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকার একজন উইং ডিরেক্টর শিক্ষাবার্তা’কে বলেন,  তদন্তের নির্দেশ দাতা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কোনদিন সরেজমিনে কলেজটিতে তদন্তে পাঠাবেন তা তিনি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা ঠিক করবেন, এখানে অভিযুক্তের সাথে আলাপ করে তদন্তের দিন ঠিক করা কোনভাবে স্বাভাবিক ব্যাপার নই। তাছাড়া যার বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগ ও এমপিওভুক্তিকরণের অভিযোগ একই চিঠিতে তার পক্ষের তদন্ত এটা কিভাবে সম্ভব তদন্তের নির্দেশদাতা কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।  মাউশি থেকে এরকম তদন্তের চিঠি এ যাবতকালে কখনও আমি দেখি নাই। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১০/০৭/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading