শিক্ষাবার্তা ডেস্ক, ঢাকাঃ “আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়: জালিয়াতিতে ভরা হিন্দু ধর্ম শিক্ষক শিপ্রার নিয়োগ” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (হিন্দু) শিপ্রা রানী রায়ের নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়।
রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত পত্রে শেরপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সরেজমিনে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন অত্রকার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলাধীন আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষক (হিন্দু) বিধান চন্দ্র রায় উক্ত বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাবস্থায় শিপ্রা রানী রায়কে সহকারী শিক্ষক (হিন্দু) পদে ২০০৫ সালে প্যাটার্ন বহির্ভূত ও কাম্য যোগ্যতা বিহীনভাবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ প্রদান করেন। এ বিষয়ে শিক্ষাবার্তা ২২/১১/২০২৩খ্রি: এক রিপোর্ট প্রকাশ করেন। রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন অত্রকার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
জানা গেছে, হিন্দু ধর্ম শিক্ষক বিদ্যামান, নেই পান্ডিত্যের সনদ তবুও হিন্দু পন্ডিত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (হিন্দু) শিপ্রা রানী রায়। ২০০৫ সালে নিয়োগ পেলেও একই বিষয়ের শিক্ষক বিদ্যমান থাকায় ২০১০ সালে তিনি এমপিওভুক্তি হন। ১৯৯৫ সালের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাধিক হিন্দু ধর্ম শিক্ষক প্রাপ্যতা নেই, হিন্দু শিক্ষক হতে হলে অবশ্যই স্নাতক ২য় শ্রেণিসহ পান্ডিত্যের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক।
শিক্ষাবার্তা’র প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) শিপ্রা রানী রায় ৬ মার্চ ২০০৫ তারিখে নিয়োগ পেয়ে ৮ মার্চ ২০০৫ তারিখে যোগদান করেন। ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি দৈনিক স্বদেশ সংবাদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বাস্তবে এই পত্রিকা সে সময়ে কোন অনুমোদন ছিল না যা পত্রিকা অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি যে সময়ে যোগদান করেন সে সময়ে স্কুলটিতে হিন্দু ধর্ম শিক্ষক ছিলেন বিধান চন্দ্র রায় যার ইনডেক্স নম্বর ১৬৫৫৭২। শিপ্রা রানীর নিয়োগ পত্রে দুইটি শর্ত উল্লেখ করা হয়। ১. নিয়োগপত্র প্রাপ্তির পাঁচ বছরের মধ্যে আদ্য, মধ্য, কাব্য পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। ২. এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্কুল হতে বেসরকাঈ বেতন প্রদান করা হবে না (নিয়োগ বিধির পরিপন্থী)। যেখানে এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী ধর্ম শিক্ষকের পান্ডিত্যের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক সেখানে পাঁচ বছরের মধ্যে তাকে এই ডিগ্রি নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয় যা নীতিমালার লঙ্ঘন। এছাড়া শিপ্রা রানী রায় ২০০০ সালের নেত্রকোণা সরকারি কলেজ থেকে ৩য় বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। যেখানে নিয়োগ বিধিতে ২য় বিভাগ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। হিন্দু পন্ডিত শিক্ষক হিসেবে ( ২০০৫ সালে) নিয়োগ পেলেও ২০১৯ সালে উলিপুর গোবিন্দ জিউ সংস্কৃত কলেজ থেকে আদ্য, মদ্য ও কাব্য ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এই ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকার অনুমতি/ছুটি ছাড়াই চুপিসারে তা সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে একাধিক হিন্দু পন্ডিত শিক্ষক থাকার কোন সুযোগ না থাকলেও ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এমপিওভুক্ত পন্ডিত শিক্ষক ছিলেন শ্রী বিধান চন্দ্র রায়।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৯/০২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
