নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার সুপার কাজী মোঃ তাজুল ইসলাম আলফাজের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি করে নিয়োগ ও নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, বাল্য বিয়ে, কাবিন ও বয়স জালিয়াতি করে নামে বেনামে কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর সুপার কাজী মোঃ তাজুল ইসলাম আলফাজকে তলব করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে “৪৮ বছরের নারীকে ৩৫ বানিয়ে নিয়োগ দিলেন জগন্নাথপুরের সুপার তাজুল” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বৃহস্পতিবার মাদরাসা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রুবেল হোসাইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে অধিদপ্তরে তলব করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার জনাব কাজী মোঃ তাজুল ইসলাম আলফাজের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি করে ৪৮ বছরের নারীকে ৩৫ বছর বানিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করার একটি অভিযোগ শিক্ষাবার্তা ডটকম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
এমতাবস্থায়, উক্ত অভিযোগের বিষয়ে আগামী ৩০/১২/২০২৪ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত শুনানীতে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
শিক্ষাবার্তা’র ঐ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসায় সৃষ্ট পদে ১ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং সৃষ্ট পদে একজন আয়া নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ পান ইসলামুল হক এবং আয়া পদে নিয়োগ পান মোছাঃ তাজফুল বেগম। নিয়োগে তাজফুল বেগমের বয়স দেখানো হয় ২ জানুয়ারি ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ। কিন্তু তাজফুল বেগমের জাতীয় পরিচয় পত্রে দেওয়া বয়স ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী মাদ্রাসার কর্মচারী পদে বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ বছর। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনের যোগ্যতা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হলেও নিয়োগের দিন তার বয়স ছিল ৪৮ বছর। বিস্তারিত প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

উল্লেখ্য, একই উপজেলার হুলিয়ারপাড়া জামেয়া কাসেমিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মইনুল ইসলাম পারভেজের বিরুদ্ধেও বর ও কনে পক্ষকে নানা কায়দায় প্ররোচিত করে কাবিনামায় বয়স জালিয়াতি করে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার এমপিও কেন বন্ধ করা হবে না তা জানতে চেয়ে শোকজ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। একই সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের নির্দেশে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের করা তদন্তের তদন্ত প্রতিবেদনে কাবিন জালিয়াতির বিষয়টি উঠে আসে। তবে তার এমপিও এখনও বন্ধ হয়নি।
আরও পড়ুনঃ
- অর্থ আত্মসাৎ ও স্বাক্ষর জালিয়াতি: মাদ্রাসা অধিদপ্তরে অধ্যক্ষ মঈনুলকে তলব
- ডিআইএ’র তদন্ত: ‘ধার করে’ শিক্ষার্থী এনে দেখালেন অধ্যক্ষ মঈনুল
- অধ্যক্ষ মইনুলের এমপিও বাতিল কেন হবে না জানতে চেয়েছে মাদ্রাসা অধিদপ্তর
- জালিয়াতির মাধ্যমে ১৭ বছর ধরে অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম পারভেজ!
- শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশ, সেই অধ্যক্ষ মইনুলকে অধিদপ্তরে তলব
- অধ্যক্ষ মইনুলের এমপিও বাতিল কেন হবে না জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর
- ভুয়া আবেদন এবং স্মারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হলেন সেই অধ্যক্ষ মইনুল
- সেই অধ্যক্ষ মইনুলের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
- জগন্নাথপুর: অধ্যক্ষ মইনুলের জালিয়াতি চিঠি চালাচালিতেই আটকা!
- যুক্তরাজ্যে বসেই বেতন তুলছেন জগন্নাথপুরের মাদ্রাসা প্রভাষক আলী আসকার
- শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ: সেই মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মঈনুলের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য!
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৯/১২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
