মাউশিতে চিন্তক ফরহাদ মজহারের শিক্ষা নিয়ে দার্শনিক আলোচনা, বিতর্ক কেন?

আল আমিন হোসেন মৃধা, ঢাকা:  শিক্ষা  নিয়ে দার্শনিক ভাবনা, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও মানব জীবনে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা জানাতে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে মাউশির কার্যক্রম জানতে বিশিষ্ট চিন্তক, কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহারের সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ দপ্তরটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে প্রাণবন্ত এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার সাথে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন নিয়ে অনাড়ম্বর এই মতবিনিময়ে উপস্থিত সবাই উপভোগ করেন পুরোটা সময়।

গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় মাউশির কনফারেন্স রুমে এই অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল সাড়ে দশটায় প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খানের রুমে প্রবেশ করেন বিশিষ্ট এই চিন্তক। তিনি প্রফেসর আজাদ খানকে মাউশি সম্পর্কে এবং মাউশির শিক্ষা কার্যক্রম জানতে এবং তাঁর শিক্ষা ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখান। যেহেতু বিশিষ্ট এই বুদ্ধিজীবী একজন সুপরিচিত মানুষ তাঁর সম্মানে মহাপরিচালক মাউশির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এই মতবিনিময়ের আগ্রহের বিষয়টি জানান। যারা আসতে আগ্রহী তাদেরকে আসতে বলেন। 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মহাপরিচালকের কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তার পাশের কনফারেন্স কক্ষে অনানুষ্ঠানিক এই আলোচনা সভাটি হয়। কনফারেন্স রুমে উপস্থিত সবার থেকেই শুরুতে মাউশির কার্যক্রম সম্পর্কে শুনেন এবং পরবর্তীতে তিনি তাঁর শিক্ষা ভাবনা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। উপস্থিত দুই একজন বাদে প্রায় সব কর্মকর্তাই ব্যতিক্রমী এই আলোচনা বেশ উপভোগ করেন। 

ফরহাদ মজহার প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার একজন কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মানুষের নিপীড়িত হওয়ার কারণ, যা পূর্বের সমাজতান্ত্রিক প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতা ও সমসাময়িক দর্শন ও রাজনীতির উন্নয়ন দ্বারা প্রভাবিত। তিনি একটি নতুন, জনমানুষের পক্ষে থাকা রাজনীতির কথা বলেন এবং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দেন যা নিপীড়িত মানুষের কথা বলে। তিনি মনে করেন, একজন ব্যক্তির শিক্ষা বা রাজনীতিতে তার মূল পরিচয় হওয়া উচিত তিনি নিপীড়িত শ্রেণির পক্ষে আছে কি’না। এ বিষয়সহ একজন শিক্ষার্থীকে কিভাবে রাজনীতি সচেতন নাগরিক হিসেবে তৈরি করা যায় সেই বিষয়গুলোকে তুলে ধরেন তার আলোচনায়। শিক্ষার চলমান প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে শোনেন। এ সময় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্যাডার সার্ভিসে তাদের যে বৈষম্য তা নিরসনে তিনি সহযোগিতা করতে পারেন কি’না সে বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়। 

চিন্তক ফরহাদ মজহারের শিক্ষা ভাবনার মতবিনিময় সভা নিয়ে বিতর্ক কেন ? 

চিন্তক ফরহাদ মজহারের এই অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভার মিনিট দশেক পরেই চেয়ার ছেড়ে উঠে যান অধিদপ্তরটির পরিচালক (মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইং) কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম। ফরহাদ মজহার সরকারের কেউ না হয়েও কিভাবে মাউশিতে তিনি মতবিনিময় সভা করেন। অধ্যাপক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে একটি পোষ্ট শেয়ার করেন যেখানে ফরহাদ মজহারকে “ড. ইউনুস সরকারের নতুন ‘উপদেষ্টা’ জনাব ফরহাদ মাজহার” এবং “বউ কোটায় উনার উপদেষ্টা হয়ে ওঠার চেষ্টা” উল্লেখ করে কটুক্তি করা হয়। শেয়ার করা ঐ ফেসবুক পোষ্টে উল্লেখ করা হয়, “পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি ড. ইউনুস সরকারের নতুন ‘উপদেষ্টা’ জনাব ফরহাদ মজহারকে। যিনি আজকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একপ্রকার বাধ্য করেই সকলের কাজের ব্যপারে জবাবদিহিতা ও নির্দেশনা মূলক মিটিং করেছেন। বউ কোটায় উনার উপদেষ্টা হয়ে ওঠার চেষ্টাকে আপনারা কিভাবে দেখছেন?”

আরও পড়ুনঃ

মাউশির এই পরিচালক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করেন, মাউশি মহাপরিচালকের চেয়ারের পাশে যে চেয়ার সেটা উপদেষ্টার চেয়ার সেই চেয়ারে ফরহাদ মজহারকে বসানো হয়েছে। পূর্ব থেকে এই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য সব উইংয়ের পরিচালক, উপ-পরিচালকদের ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার সময় হঠাৎ জরুরিভাবে মৌখিক নোটিশে এ সভাটি আহ্বান করা হয়। মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান নিজে ফোন করে এ সভায় উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। অন্য কোনো কাজ অথবা সভা থাকলে সেটি স্থগিত করে এ সভায় বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। সভার দিন সকাল সাড়ে নয়টায় প্রত্যেককে ডিজির দপ্তর থেকে ফোন করে সভার কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়। ফরহাদ মজহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি ব্যক্তিত্ব নন, তিনি সরকারের অন্য কোথাও কোনো পদে নেই। শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তার স্বামী সে কারণে তিনি এই সভা করেছেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের একে একে সবার কার কী কাজ জানতে চাইলেন। অর্থ্যাৎ কাজের জবাবদিহিতা চেয়েছেন।  এছাড়াও আরেকটি অভিযোগ তোলা হয়েছে এই সভায় কিভাবে সাত কলেজের প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ইলিয়াস উপস্থিত থাকেন। যদিও মাউশির কাজের সঙ্গে তার কোনোই সংশ্লিষ্টকতা নেই এবং তার এ সভায় উপস্থিত থাকারও কথা নয়।

মাউশির একাধিক পরিচালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই মতবিনিময় সভায় কাউকে বাধ্য করা হয়নি। বরং ইচ্ছুক যারা তাদের বলা হয়েছিল। অন্য জরুরি কাজ বা সভা-মিটিং রেখে এখানে আসতেই হবে এভাবে ডিজি অফিস থেকে বলা হয়নি। মিটিং থাকায় মাউশির মাধ্যমিকের পরিচালক এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকেননি।  উইং ডিরেক্টরা জানান, ফরহাদ মজহার একজন সুপরিচিত মানুষ তাঁর সম্মানে এবং তার আগ্রহেই এই সভা হয়েছে। আমরাও শিক্ষা ক্ষেত্র নিয়ে কিভাবে নতুন করে ভাবা যায় তা উপলব্ধি করতে পেরেছি। আমরা আমাদের ভাবনার কথাও তুলে ধরেছি। আর ডিজি স্যারের পাশে যে চেয়ার এই চেয়ার কোনো উপদেষ্টার চেয়ার নয়। শেখ হাসিনার আমলের মত প্রতি দপ্তর কিংবা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে বঙ্গবন্ধু চেয়ার বাধ্যতামূলকভাবে স্থাপন করা হতো ঠিক তেমনই এই চেয়ারকে উপদেষ্টার চেয়ার বলে গুজব রটিয়ে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। মাউশির ডিজির পাশের চেয়ার সেটা  অতিথি চেয়ার। আর ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ইলিয়াস এ সময় ডিজির রুমে তাঁর কাজে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত থাকায় তিনি এই আলোচনায় অংশ নেন। 

এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মাউশির এইচআরএম শাখার উপ-পরিচালক মোঃ শওকত হোসেন মোল্যা। জানতে চাইলে তিনি শিক্ষাবার্তা’কে জানান, এটা বাধ্যতামূলক কোন সভা বা মিটিং ছিল না। ফরহাদ মজহার একজন রাষ্ট্রচিন্তক মানুষ। তিনি তার শিক্ষা ভাবনা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করতে আগ্রহী হওয়ায় আমি উপস্থিত ছিলাম। ফরহাদ মজহার কোনো কাজ নিয়ে জবাবদিহিতা করেননি। তিনি মাউশির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং তিনি শিক্ষা নিয়ে তাঁর ভাবনাগুলো এখানে শেয়ার করেছেন। আমি কিছু সময় থেকে চলে এসেছি অন্য জরুরি কাজ থাকায়। 

মাউশির মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মোঃ ইউনুছ ফারুকী শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, মঙ্গলবার সকালে ডিজি স্যারের অফিস থেকে আমাকে স্যারের রুমে যেতে বলা হয়। আমি গিয়ে শুনতে পাই যে শিক্ষার ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভা হবে। আপনাকে আপনার কাজ নিয়ে চিন্তক ফরহাদ মজহার জবাবদিহি করেছেন কি’না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জবাবদিহি বলতে আমি প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করছি কি না, আমার ফাইল পেন্ডিং থাকছে কি’না কিংবা আমার কাজের কোনো গাফিলতি আছে কি না এগুলো। এখানে এমন কিছুই হয়নি। তিনি মাউশির উইংগুলোর এবং প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন আমরা বলেছি। এছাড়াও তিনি সুন্দর করে তাঁর শিক্ষাভাবনা গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। 

এ বিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. একিউএম শফিউল আজম মিটিংয়ে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রফেসর মোঃ সাঈদুর রহমান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, এটি একটি শুধুমাত্র গুনী মানুষের সম্মানার্থে এক আলোচনা সভা যা ডিজি স্যারের রুমে বসে অবস্থাতে। ফরহাদ মজহার আসছেন শুনে অনেকেই নিজ আগ্রহে এখানে আসায় ডিজি স্যারের কক্ষে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাশের কনফারেন্স রুমে হয়েছে। আমরা আমাদের কার্যক্রম গুলো তুলে ধরেছি। উনি তাঁর শিক্ষা ভাবনা গুলো নিয়ে বলেছেন। আলোচনা ছিল প্রাণবন্ত। আমি বেশ উপভোগ করেছি। এখানে জবাবদিহিতা করার প্রশ্নই আসেনা। আর আগে থেকে ফোন করে আমাকেও কেউ ডাকে নি। আমি ঐদিন সকালেই জানতে পারি উনি আসছেন। এরপর আমি সেখানে গিয়েছি। 

মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, আমার জরুরি মিটিং থাকায় আমি উপস্থিত ছিলাম না। আপনাকে আগে থেকে ডিজির দপ্তর থেকে এই আলোচনায় ডাকা হয়েছিল কি’না এমন প্রশ্নে বলেন, আমি ঐদিন সকালে জানতে পারি। উনি ভালো চিন্তক  আমার মিটিং না থাকলেও আমিও তাঁর আলোচনা শুনতে পারতাম।  

জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, এটা এক অনানুষ্ঠিক সভা। শিক্ষার ভাব ও ভাবনা বিনিময়। তিনি একজন ওয়েলনন ব্যক্তিত্ব। আমরা তাঁর কথা শুনেছি আমাদের কাজ গুলো সম্পর্কে বলেছি। আমাদের সংকটের কথা বলেছি। এখানে চেয়ার নিয়ে যে বিতর্ক তোলা হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দেখেন আমার চেয়ার, আমার চেয়ারের পেছনে আর একটা চেয়ার রাখা। যখন কোন উর্ধতন কর্মকর্তা আমার দপ্তরে আমার রুমে দেখা করতে আসেন। তখন এই চেয়ারটাতে তাকে বসতে দেওয়া হয়। আপনি যদি এই ছবি ভিন্ন উদ্দেশ্যে একাধিক এঙ্গেলে তোলেন দেখা যাবে আমার চেয়ার তাকে দিয়ে আমি পাশে বসেছি। ঘটনা এমনটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে করা হয়েছে। আর ওটা উপদেষ্টার চেয়ার নয়, অতিথির চেয়ার। আর কোন জবাদিহিতা করা হয়নি। তিনি আমাদের মাউশি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কি, তা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। বলা হচ্ছে তিনি তো সরকারের কেউ নন তাহলে কিভাবে এই আলোচনা সভায় অংশ নিলেন এই প্রশ্নে প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান বলেন, তিনি একজন রাষ্ট্রচিন্তক, জুলাই অভ্যন্থানের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তাঁর ভাবনা শেয়ার করা তো স্বাভাবিক ঘটনা। এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক  প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, গত মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) ১১টার দিকে কবি ফরহাদ মজহার আমার অফিসে এসেছিলেন। অনেক জন বসে উনার শিক্ষা ভাবনা শুনেছি। আমার কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পাশের রুমে বসে কথা শুনেছি। একজন নাগরিক একটি সংস্থা বা দপ্তরে এসে দপ্তর সম্পর্কে জানতে, বুঝতে চাইলে সে সুযোগ বারিত করা যায় না। এটা সৌজন্য। সংবাদকর্মীরা আমার দপ্তরে আসেন, কত প্রভাবশালী লোক আসেন। আমরা তাদের সাথে কথা বলি। জনগণ এর সাথে সম্পর্ক তৈরি করেই চলতে হয়। জনাব ফরহাদ মজহার একজন সুপরিচিত মানুষ। তাঁকে সম্মান জানানোটা কোনো অপরাধ নয়। আমার কক্ষে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না বলে পাশের রুমে চলে যাই। তিনি আমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে শুনেছেন, মন্তব্য করেছেন। শিক্ষা নিয়ে অনেক মৌলিক কথা, চিন্তামূলক কথা বলেছেন। ২/১ জন ছাড়া সবাইকে ইমপ্রেসড মনে হয়েছে। আমরা চিন্তার খোরাক পেয়েছি। ঋদ্ধ হয়েছি। শিক্ষার সাথে রাষ্ট্র, রাজনীতি, সংস্কৃতির সম্পর্ক, মানব জীবনে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, প্রকৃত শিক্ষা কি ইত্যাদি তাত্ত্বিক বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে। 

চেয়ার বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, মাউশি ডিজির চেয়ার নির্ধারিত। একটি অতিরিক্ত চেয়ার থাকে সেখানে অতিথি আসলে বসার ব্যবস্থা থাকে। অথচ বলা হয়েছে ওটা উপদেষ্টার চেয়ার। কী অদ্ভুত ব্যাপার। তাঁকে কোন চেয়ারে বসানো হয়েছে তা নিয়ে অসৌজন্যমূলক মন্তব্য কোনো কোনো মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে- যা অত্যন্ত গর্হিত মনোবৃত্তির প্রকাশ।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, আওয়ামী লীগের চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য আমরা লড়াই করেছি। কেরানি এবং সরকারের আজ্ঞাবহ জনগোষ্ঠী তৈরির শিক্ষার বিরোধিতা করেছি আমরা। এখানে সেই শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদি কেউ বলে আওয়ামী লীগের আমলের চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলতে আমি বাধ্য করেছি তাহলে আমি বাধ্য করেছিই। এটা একটি অনানুষ্ঠিক আলোচনা। কোনো ঘোষণা দিয়ে করা হয়নি। আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সব জায়গাতেই আলোচনা করেছি। আমি এক আলোচনা সভা থেকেই আপনার সাথে এই মুহুর্তে মুঠোফোনে কথা বলছি। আমরা কথা বলি আমাদের শিক্ষার ভবিষ্যত উজ্জ্বল নিয়ে। এটা নিয়ে বিতর্ক করার কোনো সুযোগ নেই। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.