এইমাত্র পাওয়া

আরও বেপরোয়া মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির

আল আমিন হোসেন মৃধা: গত ১৪ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে “শিক্ষা ক্যাডারের আবু কাইয়ুম শিশিরই যেন শিক্ষা উপদেষ্টা, মাউশি ডিজি তার ‘অধীনস্থ’!” শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর ফের “বেপরোয়া হয়ে দেদারচ্ছে” শোকজ চালিয়ে যাচ্ছেন মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইংয়ের পরিচালক ও মাউশির অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা অধ্যাপক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম শিশির। এবার একযোগে আরও ১৭ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে শোকজ লেটার পাঠিয়েছেন তিনি। আগের মত এই শোকজ লেটার পাঠানোর আগে নেওয়া হয়নি মাউশির মহাপরিচালকের অনুমতি। এই ১৭ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও আছেন। সব মিলিয়ে পাঁচ আগস্টের পর এই কর্মকর্তা শিক্ষা ক্যাডারের মোট ৫৮ জন কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। 

গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইং থেকে পৃথক ১৭টি চিটিতে ১৭ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা  শোকজ লেটার পাঠানো হয় । চিঠিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক কাজী মোঃ আবু কাইয়ুম শিশির। এই নিয়ে মাউশির মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইংয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম ধাপে গত ২৪ জুন ২১ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে শোকজ করে। তারপর ১ জুলাই আরও তিন কর্মকর্তাকে এবং ৮ জুলাই ইডেন কলেজের এক অধ্যাপককে শোকজ করেন অধ্যাপক শিশির। এ নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের ৪২ কর্মকর্তাকে শোকজ করলেন তিনি। যার একটি চিঠিতেও মাউশির ডিজির অনুমোদন প্রয়োজন পরেনি। শুধু ডিজি নয় এই চিঠির অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগেও প্রেরণ করা হয়নি। মাউশির পরিচালক পদের আগে অধ্যাপক শিশির পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে থাকার সময় গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে দপ্তরটির শিক্ষা ক্যাডারের ১৬ কর্মকর্তাকে শোকজ করেন তিনি। মোটা অংকের অর্থ বাগিয়ে সেই ফাইল আবার গায়েবও করে ফেলেন তিনি।   

১৭ জনকে পাঠানো পৃথক শোকজের চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বর্ণিত কর্মকর্তারা গত ৪ আগস্ট ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে তারা তৎকালীন আওয়ামী সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের পক্ষে এবং বিএনপি’র চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। কেন তারা এই স্লোগান দিলেন আগামী মঙ্গলবার (২২ জুলাই) স্বশরিরে উপস্থিত হয়ে তাদের ব্যাখ্যা তলব করেছেন অধ্যাপক শিশির। 

যে ১৭ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে শোকজ লেটার পাঠানো হয়েছে
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি অধ্যাপক নেহাল আহমেদ (যিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মাউশির সাবেক পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী, মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং)  প্রফেসর ড. একিউএম শফিউল আজম, মাউশির সাবেক পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য, মাউশির সহকারী পরিচালক (ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মাউশির গবেষণা কর্মকর্তা-১ (প্রশিক্ষণ) মো: মোশারফ হোসাইন, মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (ব্যক্তিগত নথি-সাধারণ প্রশাসন) হোসনে আরা ফেরদৌস, মাউশির গ্রন্থাগারিক মোছাঃ মনিরা খাতুন, ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা) অদ্বৈত কুমার রায়, মাউশির প্রকল্প কর্মকর্তা (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পার্থ বিশ্বাস,  মাউশির  লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রজেক্টের প্রকল্প কর্মকর্তা দিবস চাকমা, মাউশির সহকারী প্রকল্প পরিচালক (সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালসমূহের উন্নয়ন প্রকল্প) মাহফুজ আল মামুন, মাউশির সাবেক সহকারী পরিচালক-২ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অসীম কুমার বর্মন, মাউশির সাবেক উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. মোনালিসা খান, সরকারি তিতুমীর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এম.এম. আতিকুজ্জামান, মাউশির সাবেক উপ-পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) ড. মুহম্মদ মনিরুল হক ও মাউশির  ডিসেমিনেশন অব নিউ কারিকুলাম স্কিমের উপ-পরিচালক সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) ড. মোহাম্মদ কুদরত-ই-হুদা ও মাউশির  লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রজেক্টের সহকারী প্রকল্প পরিচালক (প্রশিক্ষণ-১) মোহাম্মদ আজিজুল হক। 

দুই ধাপে শোকজ করা ৩৮ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অর্ধেকের বেশিই মিছিলে অংশগ্রহণ করেনি।  শিক্ষা ভবনের মূল ভবনের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঐদিন শিক্ষা ভবনে কর্মরত যারা  ভবনে উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে নিচে নামতে বাধ্য করে শিক্ষা ক্যাডারের আওয়ামী পন্থী কিছু কর্মকর্তা। মিছিলে স্লোগান দেয়নি, অথবা মিছিলেও যোগ দেয়নি এমন কর্মকর্তার সংখ্যায় বেশি। মিছিলে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল ছাত্রলীগ করে আসা শিক্ষা ক্যাডারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ১৬ কর্মকর্তা। অথচ তাদের শোকজ করেও প্রায় কোটি টাকা নিয়ে সেই শোকজ ফাইল গায়েব করেছেন অধ্যাপক শিশির। 

জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘এ যুগের রাজাকার’ উল্লেখ করে মন্তব্য করেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এর পরপরই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ৩ আগস্ট চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে হামলা চালায়। এই হামলার প্রতিবাদে পরদিন ৪ আগস্ট শিক্ষাভবনে বিক্ষোভ করেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রথমে তারা শিক্ষাভবন চত্বরে স্লোগান দেন। এরপর প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে সরকারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওই মিছিলে অংশ নেন প্রায় ৪০ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা, যারা ওই সময় ডিআইএ, মাউশি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। ওই দিনের আলোচিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও শিক্ষা ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তা মুকিব মিয়া, যিনি আওয়ামী লীগের লিফলেট বিতরণ করে কারাগারে আছেন। এছাড়া এই মিছিলের সম্মুখ সাড়িতে ছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ১৬ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা যারা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন।

ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপককে শোকজ, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রীদের ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নিতে পত্র প্রদান
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেনকে ইডেন কলেজ থেকে গত ২ জুলাই সরকারি তিতুমীর কলেজে বদলি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক সংকট, অভিজ্ঞ ও আদর্শবান, সৎ, পিতৃতুল্য শিক্ষকের বদলি মানতে না পেরে বিভাগের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করতে থাকে। অধ্যাপক জাকির হোসেনের বদলির আদেশ বাতিল করতে তারা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরিত স্বারকলিপি প্রদান করে। ৮ জুলাই বিভাগের প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী কলেজটিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। এদিন মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইং থেকে অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশির স্বাক্ষরিত নোটিশে অধ্যাপক জাকির হোসেনকে শোকজ করা হয়। শোকজের চিঠিতে উল্লেখ্য করা হয়, “ইডেন মহিলা কলেজে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং প্রাইভেট টিউশন ছাত্রীদের দিয়ে মব ভায়োলেন্স তৈরি করে ক্যাম্পাসে আতংক সৃষ্টি করে বদলির আদেশ বাতিলের প্রচেষ্টা, দীর্ঘ ১৮ বছরের অধিক কর্মকালে নানান অনিয়ম এবং ইতঃপূর্বে ২০০৭ সালে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ব্যানবেইসে বদলি করা হলে তখনকার ছাত্রলীগের কর্মীদের দিয়ে মব ভায়োলেন্স তৈরি করে বদলির আদেশ বাতিল করান বলে ছাত্রীদের পক্ষ হতে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এমতাবস্থায়, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৫ (পরিমার্জিত ২০১৮) এর ধারা ৫.১.২ (চ) এবং ৭.১ (গ) মোতাবেক উল্লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কিত তথ্য, প্রতিবেদন, কাগজপত্রাদি, লিখিত/মৌখিক বক্তব্য যাচাই-বাছাই করার নিমিত্ত আগামী ১৩/০৭/২০২৫ খ্রি. তারিখ সকাল ১০.০০টায় আপনাকে মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং এ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত/মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।” 

প্রিয় শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে আন্দোলন করা প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং প্রাইভেট টিউশন ছাত্রী” ট্কযাগ দিয়ে মব ভায়োলেন্স তৈরির অভিযোগ আনায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিভাগটির ৬/৭ শিক্ষার্থী ৯ জুলাই মনিটরিং উইংয়ে যান উইং পরিচালক অধ্যাপক শিশিরের সাথে স্বাক্ষাৎ করতে। অধ্যাপক শিশির শিক্ষার্থীদের সাথে কোন ধরণের আলাপ না করে তাদের সাথে “রুরু আচরণ” করে তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে মনিটরিং উইংয়ে আসা এসব শিক্ষার্থীদের ছবি দিয়ে ১০ জুলাই  ইডেন কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী পরিচয়ে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইং এবং অনিক এর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ ট্যাগ দেওয়া ও প্রাইভেট টিউশন ছাত্রী উল্লেখ করা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক ও ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার 
অধ্যাপক জাকির হোসেনের বদলির আন্দোলনের অন্যতম মূখ্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী লামিয়া রায়হান। যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে ১৬ জুলাই ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশের ডাক দিলে সেই সমাবেশে যাবার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রহারের শিকার হন যা দেশী বিদেশে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং এই ছবির সূত্র ধরে আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। অধ্যাপক জাকিরের বদলির আদেশ বাতিলের আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী জুলাই যোদ্ধা। অথচ অধ্যাপক শিশির তাদেরকে ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। 

লামিয়া রহমান তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ভাইরাল ছবির মেয়েটি আমি, ইডেন কলেজ, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। আমি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম আমাদের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া গুলো যেখানে আমাকে সাহসী মেয়ে বলেছে, সেখানে আমাকে সহ আমার ডিপার্টমেন্টের মেয়েদের কিনা ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়া হলো! কিন্তু কেন? কারণ আমরা আমাদের ডিপার্টমেন্টের ভালোর জন্য আমাদের শিক্ষক জাকির হোসেন স্যারের বদলি স্থগিতের মতো ছোট্ট একটা আবদার করেছিলাম? আমাদের ডিপার্টমেন্টে Already শিক্ষক সংকট, তারউপরে জাকির স্যারের মতো experienced, আদর্শবান, সৎ, পিতৃতুল্য শিক্ষক হারানোর মতো ক্ষতি আমাদের জন্য অপূরণীয়। যার প্রভাব আমাদের Academic life এ খুবই evident.” 

জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার লামিয়া রহমান, যিনি জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। ছবিঃ গণমাধ্যম থেকে সংগ্রহীত

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা স্যারকে আমাদের সাথে রাখার জন্য প্রিন্সিপালের কাছে খুবই formal একটা আবেদন করি। এটা কি আমরা খুব বড় অন্যায় করে ফেলেছিলাম যে মাউশির মনিটরিং উইং থেকে স্যারের নামে অনেক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয় এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের “ছাত্রলীগ” ট্যাগ দেয় এবং বলে আমরা নাকি স্যারের টিউশন ব্যাচের স্টুডেন্ট, যারা স্যারের প্ররোচনায় তার বদলি আটকাতে ক্যাম্পাসে মব ভায়োলেন্স করেছি। যেখানে আমার ডিপার্টমেন্টের অসংখ্য মেয়ে জুলাইয়ের সামনে সারির যোদ্ধা এবং আমরা ৮০% স্টুডেন্টই স্যারের টিউশন স্টুডেন্ট নই। আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে তারা মব ভায়োলেন্স বলে অপবাদ দেন। মাউশি পরিচালক (অধ্যাপক শিশির) কোন ভিত্তিতে এমন মিথ্যা নোটিশ পাঠাতে পারে? Moreover, আমাদের প্রতিনিধি টিম যখন পরিচালক মহোদয়ের সাথে এ বিষয়ে দেখা করতে যায় তখন তিনি প্রচন্ড Rough বিহেভ করে এবং রীতিমতো মেয়েদের অপমান অপদস্ত করে বের করে দেয় আমরা আমাদের শ্রদ্ধেয় জাকির হোসেন স্যারের Stay order চাই এবং মাউশি পরিচালক মহোদয়ের কাছে জাকির স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া ও আমাদের ডিপার্টমেন্টের মেয়েদের ছাত্রলীগ বলার জবাবদিহিতা চাই।” 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইডেন কলেজের কয়েকজন অধ্যাপক শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, অধ্যাপক শিশির শোকজ লেটারে “ইতঃপূর্বে ২০০৭ সালে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ব্যানবেইসে বদলি করা হলে তখনকার ছাত্রলীগের কর্মীদের দিয়ে মব ভায়োলেন্স তৈরি করে বদলির আদেশ বাতিল করান বলে ছাত্রীদের পক্ষ হতে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে” উল্লেখ করেছে আদতে ২০০৭ সালের এই বিষয়টি এখন বর্তমান কোন শিক্ষার্থী জানার কথা নয়। অথচ শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন উল্লেখ করেছেন। মূল ঘটনা অধ্যাপক শিশির ইডেন কলেজে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন তিনিও ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন ঝামেলা থাকতে পারে। সেই রেষারেষিতেই তিনি শোকজ করেছেন। তবে অধ্যাপক জাকির একজন ভালো অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং ছাত্রীরা তাকে সবাই পছন্দ করে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। 

অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার কাজ কী
অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার (অনিক) কাজ মূলত সরকারি দপ্তরের কোন সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে কেউ অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করবেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন। অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা অভিযোগের কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা অভিযোগকারীকে অবহিত করবেন। অনিক কর্মকর্তা প্রতিটি অভিযোগের বিষয়টি মাসিক এবং বাৎসরিক প্রতিবেদন তৈরি করে তার সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানকে জানাবেন। সেবা প্রদানে একই অভিযোগ যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেই উদ্দেশ্য সাধন করা মূলত অনিকের কাজ।

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে শৃঙ্খলা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ‘অনিক’ (অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা) বা অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনায় একজন কর্মকর্তাকে মনোনীত করা হয়। সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষমতা দিয়েছে। মাউশির ক্ষেত্রে মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক এই ‘অনিক’ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। অনিকের কার্যপরিধির ৫.১.২. অনুচ্ছেদের (চ) ধারায় বলা আছে, ‘প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, প্রতিবেদন বা চিঠিপত্রে অভিযোগের উপাদান থাকলে, সেগুলো পরীক্ষান্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।’

অনিক কর্মকর্তা অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশির কর্তৃক প্রায় সবগুলো শোকজ নোটিশে উল্লেখ করেছেন, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৫ (পরিমার্জিত ২০১৮) এর ধারা ৫.১.২ (চ) এবং ৭.১ (গ) ধারার কথা।  ৫.১.২. অনুচ্ছেদের (চ) ধারায় বলা আছে, ‘প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, প্রতিবেদন বা চিঠিপত্রে অভিযোগের উপাদান থাকলে, সেগুলো পরীক্ষান্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।’ ৭.১ (গ) ধারায় বলা আছে, “এসব অভিযোগ সম্পর্কিত নথি, প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র লিখিত/মৌখিক বক্তব্য আকারে গ্রহণ করে তার প্রতিকার করা যাবে।” 

উল্লেখ্য যে, ৭.১.২ অনুচ্ছেদের ক ও খ ধারায় বলা আছে, এসবের ক্ষেত্রে অনিক দপ্তর প্রধানের অনুমোদনক্রমে উল্লেখিত কাজগুলো করতে পারবেন। কিন্তু তিনি তার কোন ধার না ধেরের নিজের ইচ্ছে মত এগুলো করছেন। 

শোকজের উদ্দেশ্য দুইটি- অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি নেতাদের মনোরঞ্জন করা এবং মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য
শিক্ষা ক্যাডারের অন্তত দশ জন অধ্যাপকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার কার্যক্রম পূরোদমে শুরু হয় ২০১৮ সাল থেকে। সেই থেকে মাউশির যতজন মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক পদে এসেছেন তারা অভিযোগ নিষ্পত্তি (অনিক) কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ তাদের এরকম বিতর্কিত কোন কার্যক্রম আমাদের নজরে পরেনি। এমনকি ৫  আগস্টের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার দায়িত্বে যিনি আছেন তিনিও এধরণের শোকজ করেননি একটিও। 

তারা বলেন, অনিকের কাজ মূলত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন সেবা গ্রহীতা সেবা থেকে বঞ্চিত হলে অনিক এর মাধ্যমে তা প্রতিকার চাইতে পারে। অনিক কর্মকর্তা প্রতিকারের জন্য অভিযোগ আমলে নিয়ে তা যাচাই বাছাই করে নথিভুক্ত করে তদন্তের প্রয়োজন পরলে তা সেই দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রেরণ করবেন। উদাহরণ স্বরুপ বলা হয়, বেসরকারি কলেজের কোনো শিক্ষক কিংবা কর্মচারী কোন বিষয়ে অনিক কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করলে তা  যাছাই বাছাই করে তদন্তের প্রয়োজন পরলে অনিক কর্মকর্তা অভিযোগ তদন্তের জন্য মাউশির ডিজির বরারর প্রেরণ করবেন। ডিজি তা আমলে নিয়ে কলেজ শাখা থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে অনিক কর্মকর্তাকে জানাবেন। অনিক কর্মকর্তা সেবাগ্রহীতাকে জানাবেন প্রতিকার বিষয়ে। এভাবে তিনি মাসিক এবং বাৎসরিক প্রতিবেদন তৈরি করবেন যেন এ জাতীয় অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা ভবনে মিছিলের দোহাই দিয়ে এভাবে শোকজ করে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়েছেন সেই ক্রেডিট নিয়ে অন্তর্বতী সরকারকে তিনিও জুলাইয়ের অগ্রসৈনিক দেখানো অন্যদিকে মিছিলকারীদের আ’লীগ পন্থী ট্যাগ দিয়ে নিজেকে বিএনপি পন্থী জাহির করা। শিক্ষা ভবনে আলোচিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও শিক্ষা ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তা মুকিব মিয়া, যিনি আওয়ামী লীগের লিফলেট বিতরণ করে কারাগারে আছেন। এছাড়া এই মিছিলের সম্মুখ সাড়িতে ছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ১৬ জন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা যারা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। এই ১৬ কর্মকর্তাকে শোকজ করে তাদের থেকে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে সেই ফাইল গায়েব করে দিয়েছেন তিনি। একইভাবে মাউশির শোকজ করা অন্য কর্মকর্তাদের থেকে ঘুষ বাণিজ্য করাই তার অন্যতম উদ্দেশ্য।

শিশিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং গুরুদণ্ড প্রদানের ফাইল গায়েব
পটুয়াখালী সরকারি কলেজে কর্মকালীন ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখ পর্যন্ত ৯০ (নব্বই) দিন অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন কলেজটির ইংরেজি বিভাগে কর্মরত অধ্যাপক শিশির। টানা ৯০ দিন কলেজে অনুপস্থিত থাকায় পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। তদপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী “অসদাচরণ” ও “পলায়ন” এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। এই প্রেক্ষিতে অধ্যাপক শিশিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলে শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২)(ঘ) অনুযায়ী তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে শিশিরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নথিপত্র পর্যালোচনায় এবং তদন্ত প্রতিবেদনের প্রদত্ত মতামতের আলোকে আপনার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী “অসদাচরণ” ও”পলায়ন” এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে শিশিরের বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শেখ হাসিনা দেশত্যাগের ঠিক এক মাস আগে অর্থ্যাৎ ৩০ জুন ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষা সচিব সোলেমান খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, “কাজী মো: আবু কাইয়ুম (১০৩৫৭), অধ্যাপক (ইংরেজি), কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম-কে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী “অসদাচরণ” ও “পলায়ন: এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আপনার বিরুদ্ধে গুরুদন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় একই বিধিমালার ৭(৯) বিধি অনুযায়ী কেন আপনাকে চাকরি হতে বরখাস্ত বা বিধিতে বর্ণিত অন্য কোনো গুরুদন্ড প্রদান করাহবে না তার জবাব এ নোটিশ প্রাপ্তির ০৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।” সে সময়ে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু কেন্দ্রীয় নেতার সাথে ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক থাকায় তিনি এই শোকজ ধামাচাপা দেন। এর ঠিক এক মাস পর শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করলে মন্ত্রণালয় থেকে তিনি তার ফাইলই গায়েব করে দেন। 

মামলাবাজ শিশির কর্তৃক মামলার হুমকি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করা, কথায় কথায় মামলার হুমকি দেওয়া অধ্যাপক কাইয়ুম শিশির শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশ এবং প্রতিবেদকের নামে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ও সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা করার হুমকি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। এমনকি শিক্ষাবার্তা’য় প্রকাশিত সংবাদের লিংক শিক্ষাবার্তা’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে পোস্ট করলে সেই পোস্টেও তিনি একইভাবে মামলার হুমকি দিয়ে কমেন্ট করেন। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুল করিম চৌধুরী ওরফে স্বপন চৌধুরীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা করেন অধ্যাপক শিশির। শুধু এক স্বপন চৌধুরীর নামেই তিনটি মামলা করেন তিনি। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়েও একাধিক ঠিকাদারি ব্যবসায়ের সাথে জড়িত অধ্যাপক শিশিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার করার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে মামলাবাজ শিল্পপতি শিশির নামেই তিনি বেশি সমাদৃত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিক্ষা প্রশাসনের  প্রথম (সিঙ্গেল অর্ডার) পদায়ন পান ডিআইএ তৎকালীন পরিচালক প্রফেসর কাজী কাইয়ুম। শোকজ বাণিজ্য, ট্যুর বিক্রিসহ একাধিক অভিযোগ ওঠায় পদায়নের তিন মাস না যেতেই গত ২১ নভেম্বর ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয় তাকে। যথারীতি ২৫ নভেম্বর তিনি দপ্তর থেকে রিলিজ (ছাড়পত্র) নেন। কিন্তু হঠাৎ সরকারের এ বদলির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন শিশির। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তার বদলি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। সেই আদেশ নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর ভোরে ডিআইএ-তে আসেন তিনি এবং জোর করে তার অফিসকক্ষ দখল করেন। অর্থ্যাৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করতেও তার সাহস অবিচল। 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন উইংয়ের পরিচালক ও অনিক কর্মকর্তা অধ্যাপক আবু কাইয়ুম শিশিরের বক্তব্যে চেয়ে তাকে লিখিত পাঠালে তিনি ইমেইলে বা হোয়াটসঅ্যাপে কোন বক্তব্য প্রদান করবেন না বলে জানান। স্বশরীরে তার সাথে দেখা করে বক্তব্য নিতে বলেন।  

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খানের বক্তব্য নিতে তার দপ্তরে গেলে তিনি মন্ত্রণালয়ে থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তার বিষয়ে মন্ত্রণালয় অতিষ্ঠ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে পদায়নের জন্য বিভিন্ন তদবির করছেন। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২০/০৭/২০২৫ 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading