এম পি ও নীতিমালা -২০১৮ এর সংশোধনকল্পে প্রস্তাবনা

“এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর সংশোধনের জন্য প্রযোজ্য :-

ইতিমধ্যে নিন্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সকল এম পি ও ভূক্ত প্রতিষ্ঠানের এম পি ও নীতিমালা ২০১৮ সংশোধন করার লক্ষে কমিটি করা হয়েছে ।
এই নীতিমালা পর্যালোচনা করে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ প্রদান করতে ইতিমধ্যে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কিন্তু এই ২০১৮ এর এমপিও নীতিমালায় ২০১০ ( সংশোধিত ২০১৩) এ এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের যে সকল সুযোগ- সুবিধা ছিল তার অনেকটাই এমপিও নীতিমালা ২০১৮ তে রাখা হয়নি।

এই নীতিমালার কিছু অসঙ্গতি হলোঃ-

১. এ নীতিমালায় এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের টাইমস্কেল বাদ দিয়ে উচ্চতর গ্রেড প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি করা হয়েছে।

২. সকল প্রভাষকের দাবির পরও বহাল রয়েছে সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতির কালো আইন ৫:২ অনুপাত প্রথা।

৩. এ নীতিমালায় জেনারেল শিক্ষকদের প্রশাসনিক পদে নিয়োগ ও অন্যসকল অফিসিয়াল পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো সুস্পস্ট ও সুসংবদ্ধ করা হয়নি।

তাই সংশোধিত এই নতুন এমপিও নীতিমালায় শিক্ষকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিম্নোক্ত পরিবর্তন এবং সংশোধন দাবি করছি :

১. এ নীতিমালায় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হোক এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা করা হোক।

২. প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিদ্যমান কালো আইন ৫:২ অনুপাত প্রথা বাতিল করা হোক।

৩. সংশোধীত এই নীতিমালায় অধ্যক্ষ / উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক/ সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার/ সহ- সুপার সহ অফিসিয়াল পদগুলো যোগ্যতা ও জোষ্ঠতার ভিত্তিতে NTRCA এর মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক ও এম পি ও ভূক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা দ্রুত চালু করে তা NTRCA এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হোক।

৪. এম পি ও ভূক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সরকারী চাকরিজীবীদের ন্যয় ঈদ উৎসব বোনাস ও বাড়িভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা এই নীতিমালায় রাখা হোক।

৫. এম পি ও ভূক্ত শিক্ষকদের পারিবারিক পেনশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা এ নীতিমালায় সন্নিবেশ করা হোক।

৬. সরকারী চাকরিজীবীদের মতো এম পি ও ভূক্ত শিক্ষক- কর্মচারীদের গৃহঋণ সুবিধা প্রদানের বিষয়টি এই নীতিমালায় রাখা হোক।

৭. সংশোধীত নীতিমালায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে (প্রতিটি শাখা সহ) সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য নির্ধারিত করে দেওয়া হোক যার ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, এতে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর ভারসাম্য সৃষ্টি হবার মধ্যদিয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেতে পারে ।

৮. সংশোধীত এই নীতিমালায় কোটা সংস্কার নীতিমালা অনুযায়ী সরকারী বিধি মোতাবেক ১ম ও ২য় শ্রেণির গ্রেডের পদ সমূহের বিপরীতে প্রদত্ত কোটাপদ্ধতি বাতিল করা করা হোক।

৯. এই নীতিমালায় যত্রতত্র ব্যঙের ছাতার মতো ব্যক্তিমালিকানায় বাণিজ্যিকভাবে যেন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠতে পারে তার জন্য কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করা হোক এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সরকার প্রদত্ত বিধিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা তদারকিতে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

১০. সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়/ স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় সকল ছাত্র-ছাত্রীর সমান ভাবে সরকারী সুযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি এই নীতিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়ণ হোক।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর নিরসন না করে শিক্ষার সার্বিক মান কখনোই বাড়ানো সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি ।

তাই অচিরেই এই সংশোধণীগুলো নীতিমালায় অন্তর্ভূত করে দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

পরিশেষে বলবো, Sustainable Development অর্জনের জন্য
এমপিওভূক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা “জাতীয়করণ” এখন সময়ের দাবী। আর এটি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সু-দৃষ্টি ও প্রচেস্টা শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে বলে আশা করছি।

লেখকঃ-
মো: শাহাদাত হোসাইন শিমুল
সহকারী শিক্ষক
সায়েস্তানগর ইসলামীয়া মিশন দাখিল মাদ্রাসা


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.