নিউজ ডেস্ক।।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলির সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এ নীতিমালায় সমমান এবং সমস্তর নামক দুটি জটিল শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এই শর্তের ফলে অধিকাংশ শিক্ষক বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সচিব মো. দাউদ মিয়া।
প্রকাশিত বদলি নীতিমালার ৩.৫ ধারায় একজন শিক্ষক অথবা শিক্ষিকা সমমানের/সমস্তরের মাদ্রাসায় সমপদে বদলির আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারার ফলে শিক্ষকদের বদলির পথ বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা বলছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলো একাধিক স্তরের হয়ে থাকে। অধিকাংশ মাদ্রাসা দাখিল স্তরের হলেও এর সঙ্গে এবতেদায়ী স্তরও যুক্ত রয়েছে। ফলে যে মাদ্রাসাগুলোতে এবতেদায়ী স্তর নেই সেখানে শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন না।
তাদের দাবি, একইভাবে আলিম স্তরের অনেক মাদ্রাসায় দাখিল ও এবতেদায়ী স্তর; ফাযিল মাদ্রাসায় আলিম, দাখিল এবং এবতেদায়ী স্তর এবং কামিল মাদ্রাসায়, ফাযিল, আলিম, দাখিল এবং এবতেদায়ী স্তর সংযুক্ত রয়েছে। ফলে বদলির ক্ষেত্রে ব্যাপক জটিলতার সৃষ্টি হবে। এ অবস্থায় এই ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সিলেটের জাকিগঞ্জ সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক এবং সর্বজনীন বদলিপ্রত্যাশী ঐক্যজোটের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসার বদলি নীতিমালায় জটিল শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সমস্তর বা সমমানের মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করায় এক শতাংশ শিক্ষকও বদলির সুযোগ পাবেন না। ফলে এই বদলি আমাদের কোনো কাজে আসবে না। আমরা নীতিমালার সংশোধনি চাই।’
সর্বজনীন বদলিপ্রত্যাশী ঐক্যজোটের আরেক সদস্য আতিকুল ইসলাম আতিক বলেন, ‘বদলি নীতিমালায় কেবল সমপদের কথা উল্লেখ থাকা দরকার ছিল। তাহলে যে কেউ যে কোনো মাদ্রাসায় বদলির সুযোগ পেত। উদাহারণ দিয়ে এ শিক্ষক বলেন, ‘আমি বদলি হতে চাই। বর্তমানে একটি ফাযিল মাদ্রাসায় কর্মরত রয়েছি। তবে দেখা যাচ্ছে, যে জেলায় যেতে চাচ্ছি সেখানে ফাযিল মাদ্রাসা নেই। ফলে বদলির সুযোগ পাব না। সরকারের কাছে অনুরোধ দ্রুত বদলি নীতিমালা সংশোধন করুন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) মো. উবায়দুল হক বলেন, ‘আপাতত নীতিমালা সংশোধনের কোনো পরিকল্পনা নেই। মাত্র নীতিমালা জারি হয়েছে, এখন সফটওয়্যার তৈরির দিকে অগ্রসর হতে হবে। সফটওয়্যার তৈরির পর কোনো সমস্যা থাকলে তখন বিষয়গুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
