নিউজ ডেস্ক।।
সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ১২ হাজার শারীরিক শিক্ষা বা ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার নতুন জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কাজের জন্য ইতিমধ্যে নতুন পদ সৃষ্টির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কারাতে, দাবা, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট সাতটি জনপ্রিয় খেলাকে নতুন পাঠ্যবই ও প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হবে, যা নিয়ে গত ২৫ মার্চ একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ৪ মে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রথম ঘোষণা দিয়েছিলেন যে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে আলাদা ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বা ডিপিই এর দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। ডিপিই সূত্র আরও জানায়, গত ৬ মে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় আটটি ক্রীড়া ইভেন্ট পরিচালনার জন্য অন্তত তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয় এবং সেই হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে মোট ১১ হাজার ৮৮০ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
অবশ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো প্রাথমিক প্রশাসনিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নথিপত্র ও কাঠামো তৈরি নিয়ে আলোচনা চলছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
