যৌনতার দৌরাত্ম্য

যৌনতা! বর্তমান সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। হেন স্থান নেই, যেখানে যৌনতার প্রতি আহ্বান করা হচ্ছে না। প্রতিটি জায়গায় যৌনতার ছাপ বিদ্যমান। যে দিকে তাকায় যৌনদৃশ্য হাতছানি দিয়ে আহ্বান করছে মানবতাকে ধ্বংস করার জন্য। যদিও যৌনতা মানুষের উদ্ভাবন নয়, এটি ঈশ্বরের দান।

প্রতিটি সুন্দরের পেছনে যৌনতার ভূমিকা রয়েছে। মানুষসহ সমস্ত প্রাণীই যৌনতার ফল। যে সুন্দর ফুলটি দেখছেন, মন জুড়িয়ে যাচ্ছে, সেটিও যৌনতার ফল। কিন্তু বিষয়টি গোপন থাকার কথা ছিল। এ বিষয়ে মানুষকে হাতে-কলমে দৃশ্য ধারণ করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই।

গাভীর পেট থেকে বাচ্চা বাহির হয়ে অল্প কিছুক্ষণ পরেই ওলানে মুখ দেয়। তাকে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হয়না। এটি ঈশ্বরের দান। তদ্রূপ যৌনতাও ঈশ্বরের দান। কিন্তু সেটাকে আজ সমাজের প্রতিটি স্তরে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা প্রতিরোধ করা সাধ্যাতীত। যার ফলে সামাজিক-নৈতিক অবক্ষয় প্রতিনিয়ত লক্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিভিতে যৌনতায় পরিপূর্ণ। কিন্তু প্রতিরোধের পথ রুদ্ধ। ওটা যে সিনেমা!

আধুনিকতার নামে চলচ্চিত্রে যা উপস্থাপন হচ্ছে, তার ফল জাতি তড়িৎগতিতে পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু করার কিছুই নেই। বইয়ের ভেতর যৌনতাকে উপস্থাপন করা হচ্ছে, আর তা কবিতার নাম দিয়ে। যার ফলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের পথ রুদ্ধ। ক্যাসেট ভর্তি যৌনতা। এখানে যৌনতার কি আছে! ওটাতো সংগীত। সংগীতের নামে পিতা-পুত্র, পরিবারের সব সদস্য মিলে যৌনতাকে অবলীলায় গিলে খাচ্ছে।

অথচ পিতা চাচ্ছে তার সন্তান সুপুত্র হোক। যা কিনা ঝড়ের সময় নিম গাছের নিচে আমের আশায় বসে থাকার নামান্তর। আর কোন জায়গায় আপনি চোখ রাখবেন! রাস্তায় হাঁটছেন তিনমাথা, চারমাথা, পাঁচমাথা মোড়ে বিশাল বোর্ডে নারীকে যৌনলিপ্সা করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনি ঘৃণা করলেও কিছুই করতে পারবেন না। কেন পারবেন না? আপনি কি অক্ষম! না, আপনি অক্ষম না হলেও সক্ষম নন। ওটা যে বিজ্ঞাপন! জাতীয়ভাবে ওটা বৈধতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

কোথায় যাবেন আপনি! সকালের আনন্দঘন হিমেল হাওয়া খেতে, আর একটু মেদ কমানোর জন্যে দৌড়াতে দৌড়াতে পার্কে যাবেন! সেখানেও যৌনতা আপনাকে ছাড়বেনা। পাথর ভর্তি যৌনতাকে উপস্থাপন করা হয়েছে ভাস্কর্যের নামে। নির্বাক, প্রাণহীন পাথরকেও আপনার সামনে যৌনকামী করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আপনি চোখ খুললেই দেখছেন যে, সমগ্র পৃথিবীর ভাঁজে-ভাঁজে, পাহাড়ে-নহরে, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-নগরে, শহরে- বন্দরে যৌনতার দৌরাত্ম্য জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে খেলাতে-মেলাতে, বসতবাড়িতে-যাত্রীবাহী গাড়িতে, পাটক্ষেতে-পাঠশালাতে, ডেটিংয়ে-মিটিংয়ে,কোচিংয়ে-প্রাইভেটে সবস্থানে শিশু-কিশোরী, মধ্যা-বৃদ্ধা উত্ত্যক্ত ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।

জাতি আজ দিশেহারা, পথহারা, ইজ্জতহারা, সর্বহারা অবস্থায় অপমান-অপদস্থ, লাঞ্ছনা-গঞ্জনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এভাবে একটি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনা। একটি রাষ্ট্রকে বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক স্থানে নিতে হলে আবশ্যকীয় ভাবে সৎ ও সততা, সত্য ও সত্যবাদিতার সহিত, যোগ্য-বিজ্ঞ-অভিজ্ঞতা দিয়ে জনগণের প্রতি বিশ্বাস ও বিশ্বস্ততা অর্জন করে যৌনতার দৌরাত্ন্যকে রুখে দিয়ে আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা চাই।

‘যদি কোন ব্যক্তি খারাপ কাজ দেখে, সে যেন হাত দিয়ে প্রতিহত করে, অক্ষম হলে মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করে, অক্ষম হলে আন্তরিক ঘৃনা প্রদর্শন করে জনমত তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তুলে।’ (আল-হাদিস)

লেখক: কাজী তাসনীম আহমাদ
শিক্ষার্থী: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.