স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি লোহানীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় তোলা ছবি । ছবিঃ শিক্ষাবার্তা

স্বাধীনতা দিবসেও লোহানী পাড়া স্কুলে ওড়েনি জাতীয় পতাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুরঃ জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানী পাড়া ইউনিয়নের লোহানী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়নি (এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিলো সরকার), শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ হয়নি, স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালি, আলোচনা সভা কিংবা চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতাসহ কোন কর্মসূচিই পালন করা হয়নি।

সরেজমিনে রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, পতাকা টানানো হয়নি ওই বিদ্যালয়ে। খালি পড়ে আছে পতাকা স্ট্যান্ড। পুরো বিদ্যালয় জুড়ে সুনশান নিরবতা, কক্ষগুলোতে ঝুলছে তালা।  খালি পড়ে আছে শহীদ মিনার।

শুধু তাই নয় গতকাল শনিবার (২৫ মার্চ) গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্কুলের কর্মসূচী নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সুর্নিষ্ট কর্মসূচী থাকলেও স্কুলে আসেনি কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থী। পালিত হয়নি কোন কর্মসূচী। সারাদিন ছিল বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ।

গত মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সব স্কুল-কলেজের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে কর্মসূচি নির্ধারণ করে দিয়ে আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। কর্মসূচির মধ্যে ছিল, সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সঠিক মাপ ও রঙের জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা,  দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ লেখা, পোস্টার ও শিল্পকর্ম স্কুল-কলেজের শেখ রাসেল দেয়ালিকায় উপস্থাপন করা। মাউশি’র সহকারী পরিচালক রূপক রায় স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ও কলেজে ও শিক্ষা অফিসে এসব কর্মসূচি পালন করতে হবে।

একই দিন আরেক প্রজ্ঞাপনে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে গণহত্যা দিবসের কর্মসূচিও ঠিক করে দেয় মাউশি। তবে মাউশি থেকে কর্মসূচী পালনে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও কোন ধরণের কর্মসূচি পালন করেনি লোহানী পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন।

সরেজমিনে কথা হয় কয়েকজন স্থানীয়দের সঙ্গে। তারা জানান, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিব লোহানী জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তারা স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস এবং গতকালের গণহত্যা দিবসের কোন কর্মসূচী পালন করেনি। স্কুলে স্বাধীনতা দিবসের কোন কর্মসূচী পালন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, স্বাধীনতা দিবসের স্কুলে আসার জন্য স্কুল থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। আমরা টিভিতে আজকের প্রোগ্রাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেক কুচকাওয়াজ দেখলাম, অনুষ্ঠান দেখলাম। শিক্ষকরা যদি বলতেন তবে অবশ্যই আমরা স্কুলে যেতাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, গতকাল রাতে স্কুলের অফিস সহায়ক শিক্ষকদের ফোন করে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। আমরা ১১ টার দিকে বিদ্যালয়ে আসি। প্রধান শিক্ষক আসেন এর পরপরই। প্রধান শিক্ষক আসার পরে কিছু সময় পর শুধু মোনাজাত ধরে সব শিক্ষকরা চলে যান। ঐ শিক্ষকরা বলেন, কোন শিক্ষার্থীকে ডাকা হয় নাই। জাতীয় পতাকা উত্তলোন করা কেন হয়নি জানতে চাইলে তারা বলেন, ১১ টা বা এর আশেপাশের সময়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিব লোহানীও বিদ্যালয়ে আসেননি।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এডহক) সভাপতি হাবিব লোহানী মুঠোফোনে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালন না হওয়ার বিষয়টি অবহতি করলে তিনি বিস্তারিত শুনে কোন মন্তব্য না করেই মুঠোফোনটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তিনি মুঠোফোনটি বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ এনায়েত হোসেন বলেন,  আমি তো জেলা সদরে থাকি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউনএও)কে অবহিত করেন।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাঈদ বলেন, সরকারে নির্দেশনা অমান্য করে কেউ যদি বিদ্যালয়ে কর্মসূচী পালন না করে এমনকি জাতীয় পতাকাও উত্তোলন না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লোহানী পাড়া স্কুলের বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি। এরকম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এক সময়ের জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর, বর্তমানে যুদ্ধপরাধের দায়ে দণ্ডিত আসামী এ টি এম আজহারুল ইসলামের পরিবারের সাথে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে লোহানী পাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অনাবিল লোহানীর পরিবারের। অনাবিল লোহানী বিদ্যালয়টির বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি হাবিব লোহানীর কাজিন। হাবিব লোহানী এবং প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী অনাবিল লোহানীর নির্বাচনে এলাকাবাসীর দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে বেড়িয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট আরও খবরঃ-

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৬/০৩/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.