নিজস্ব প্রতিবেদক।।
উইলস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আবারও বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সামসুল আলমের দায়িত্বকাল শেষের দিকে—এমন গুঞ্জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও একজন আর্মি প্রিন্সিপাল নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই নতুন আর্মি প্রিন্সিপাল দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে নানা অস্থিরতা, আন্দোলন এবং প্রশাসনিক জটিলতার মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে উইলস স্কুল। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অভিভাবকদের অসন্তোষ এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। ফলে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সামসুল আলম দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ছিল। তবে বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৭ হাজারের ঘরে—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষকদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা—এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি এবং প্রয়োজনীয় কঠোরতার অভাবের কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাদের মতে, একটি বড় প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিতে হলে দৃঢ়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আপসহীন অবস্থান জরুরি—যা বর্তমান নেতৃত্বে ঘাটতি হিসেবে দেখা গেছে।
অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের অনেকে বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের চেয়ে প্রশাসনিক সংকটই বেশি আলোচনায় এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা দ্রুত কার্যকর পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আর্মি প্রিন্সিপাল নিয়োগের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে এই প্রতিষ্ঠানে আর্মি থেকে আসা প্রিন্সিপালদের সময়ে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—এমন ধারণা শিক্ষক-অভিভাবকদের একটি অংশের মধ্যে এখনো বিদ্যমান। কঠোর প্রশাসন, সময়নিষ্ঠতা এবং নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কারণে সেই সময়কে উইলস স্কুলে এন্ড কলেজের স্বর্নযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে সামসুল আলমের বিদায় নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে উইলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বর্তমান নেতৃত্বের বিদায় এবং সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের আগমন—এই পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর্মি প্রিন্সিপাল আগমনে প্রতিষ্ঠানটি আবার আগের সুনাম ফিরিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
শিক্ষাবার্তা /এ/ ২২/০৪/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
