মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন।।
বিশ্বে করেনায় মৃত প্রায় ১২ লক্ষ! এখনও প্রতিদিন অসংখ্য লোক আক্রান্ত হচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে । শীতে করোনার প্রকোপ বাড়বে। বহির্বিশ্বের কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের দেশেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধু আমাদের দেশেই না বরং করোনা আক্রান্ত অধিকাংশ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো এখনও বন্ধ আছে।
করোনা কতোটা মরণঘাতী তা বিশ্ব খুব ভালো করেই দেখছে। করোনার শুরু থেকেই আমাদের সরকার এর ভয়াবহতা অনুধাবন করে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। দীর্ঘ মেয়াদী অঘোষিত লকডাউনও পালন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব ছিলো তা করেছে। যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ পাকের রহমাতে আমরা করোনার ভয়াল রুপ অনেকটাই দেখি নাই। করোনা আমাদের দেশে যতটা মরণঘাতী হওয়ার কথা ছিলো ঠিক ততোটা হতে পারেনি।
সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এ কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মানি না। করোনায় একটা বছর সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লেখাপড়া সব গোল্লায় গেছে। সকল কিছু চলছে, করোনা শুধু ঢোকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এমনো নানান রংয়ের নানান ঢংয়ের কথা শোনা যায় কিছু অবিবেচক লোকজনের মুখে। আসলে করোনার ভয়াবহতা তারা যদি দেখতো তাহলে এমন কথা তাদের মুখ থেকে বের হতো না। আগে বাঁচুন। সময় অনেক পাওয়া যাবে। প্রাণে বেঁচে থাকলে পরে সকল ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে।
আসুন আমরা আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব চিত্রটা দেখি। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে যে পরিমান ছাত্রছাত্রী আছে তাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখক কক্ষ নাই। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে কক্ষ থাকলেও পর্যাপ্ত সংখক শিক্ষক নাই। তাছাড়া কচিকাঁচা ছাত্র ছাত্রীদের দ্নারা স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মানানো যাবে সেখানেও সংশয় আছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকেেে ছেলে মেয়েরা কিছুটা বুজদার। তবে এ স্তরেও অবকাঠামোগত সমস্যা আছে। আছে শিক্ষক সংকটও।
তবে, বিশ্ব বিদ্যালয় গুলো খুলে দেয়া যেতে পারে। সেখানেও করোনা কালীল ক্লাস নেয়ার জন্য বেশ কিছু পূর্ব প্রস্তুতি মূলক কাজ রয়েছে।
বাস্তবতা অনুধাবন না করে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জিকির করলে চলবে না। বর্তমানে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর যে অবস্থা তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনই খুলে দিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে বেশি একটা সময় লাগবে না। তাই, করোনার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হলে এর বেশ কিছু পূর্ব প্রস্তুতি আছে। আগে সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তারপর ভেবে দেখতে হবে খোলা যায় কিনা। বিশ্বের করোনা আক্রান্ত অধিকাংশ দেশ গুলোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ আছে। বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ই আমাদেরকে চলতে হবে। কোনো রকম তারাহুরো করা যাবে না। বেশি তারাহুরায় মারাত্মকপরিনতি বয়ে আনতে পারে।
করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অথবা ভ্যাকসিন বাজারে না আসা পর্যন্ত অনলাইন শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। অনলাইন শিক্ষাকে কিভাবে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করা যায় তা ভাবতে হবে। ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে হবে। অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢেলে সাজাতে হবে টোটাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে কোনো রকম তারাহুরো করা যাবে না। অতিরিক্ত তারাহুরো বয়ে আনতে পারে মারাত্মক পরিনতি।
লেখক-
প্রভাষক,
জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
