এইমাত্র পাওয়া

মাউশির ডিজির সাথে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মতবিনিময়

ঢাকা, বুধবার:

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালকের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় নেতৃত্ব দেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষা খাত বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটে নিমজ্জিত, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার গুণগত মানের ওপর। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় তিনি ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় জটিলতা, বকেয়া বেতন পরিশোধে বিলম্ব, নির্দিষ্ট তারিখে বেতন প্রদান না থাকা, শতভাগ উৎসব ভাতা ও বাড়িভাড়া নিশ্চিত না হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, এখনও অনেক শিক্ষক ইএফটি ব্যবস্থার আওতায় আসেননি, আবার অন্তর্ভুক্ত হলেও অনেকের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়নি। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া, প্রশাসনিক জটিলতা ও আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষক বকেয়া বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে নেতারা বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অবসরে গেলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে নতুন নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে, ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ও সহজ নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।

উপজেলা ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়ে নেতারা বলেন, দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত শিক্ষকরা নানা আর্থিক ও পারিবারিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।

সভায় শিক্ষকদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারণ, বেতন কর্তন ও সুবিধা সংক্রান্ত বৈষম্য দূরীকরণসহ বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে ১০% বেতন কর্তনের বিপরীতে মাত্র ৬% সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাকি ৪% সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমস্যার সমাধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলোও ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইএফটি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করতে কাজ চলছে। বেতন প্রদানে শৃঙ্খলা আনা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়েও আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছি। শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় হলে সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান করা সম্ভব হবে।”

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নিয়মিত মাসিক ভিত্তিতে ডিজির সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এটিকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মনিরুল হক বাবুল, অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী, প্রফেসর মো: কাজী মাঈনুদ্দিন, এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান, মো: আলমগীর হোসেন মো: নজরুল ইসলাম,  মো. আজিজুল হক রাজা, মো. জাকির হোসেন আকন্দ, শাহনাজ পারভীন,  হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ,  নাজমা হোসেন লাকী,  কেরামত উদ্দিন, উম্মে আসমা পলি,  ফরহানা ইয়াসমীন রুবি,  নাসির উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল সেলিম, অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম মুন্সী, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, এ কে এম জানে আলম, আইসুল রহমান, মো: বাসার, মো: রেজাউল হক, ১-১২ তম নিবন্ধন পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক শাহানাজ পারভীন,  আব্দুল জব্বার জয় প্রমুখ।

সভা শেষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দ শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহানুভূতি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

শিক্ষাবার্তা /এ/ ২৯ /০৪/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.