ঢাকা, ২৯ এপ্রিল: বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল উত্থাপন করেছে, যা ইতোমধ্যে উপসচিব ও যুগ্মসচিবের দপ্তর অতিক্রম করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধনধারীদের আবেদন গ্রহণ করে তা ডি-নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি জটিলতা ও চলমান মামলাগুলোর কারণে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা ধীরগতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ১-১২তম নিবন্ধনধারীদের একাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণে প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, বয়সসীমা ও সনদের মেয়াদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগে পাঠানো সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, ৩৫ বছর অতিক্রম করা প্রার্থীদের বিষয়ে আলাদা বিবেচনা প্রয়োজন। পাশাপাশি সনদের মেয়াদ ৩ বছর নির্ধারণের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এ বিষয়ে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন—“১-১২তম নিবন্ধনধারীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। তারা যোগ্যতা অর্জন করেও নিয়োগ পাননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে একটি বিশেষ নীতিমালার মাধ্যমে তাদের দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করা সম্ভব।”তিনি আরও বলেন—“আইনি জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে দেখালে হবে না। বরং সরকারের উচিত দ্রুত আইনি সমাধান করে একটি মানবিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বয়সসীমা ও সনদের মেয়াদ শিথিল করে অন্তত একবারের জন্য হলেও এই নিবন্ধনধারীদের সুযোগ দেওয়া উচিত।”
নিয়োগ প্রত্যাশীদের প্রধান সমন্বয়ক মমিনুল হক পলাশ বলেন— “দীর্ঘদিন ধরে আমরা ১-১২তম নিবন্ধনধারীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। বারবার আবেদন, আন্দোলন এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরও আমরা কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি। এখন যেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফাইলটি তোলা হয়েছে, আমরা এটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছি। তবে আমরা চাই, বিষয়টি আর বিলম্ব না করে দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।”
তিনি আরও বলেন— “আমাদের অনেকের বয়সসীমা পেরিয়ে গেছে, আবার অনেকের সনদের মেয়াদ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ বিবেচনায় অন্তত একবারের জন্য নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় হাজারো মেধাবী প্রার্থী স্থায়ীভাবে বঞ্চিত হয়ে পড়বে।”
নিয়োগ প্রত্যাশীদের মুখ্য সমন্বয়ক শাহনাজ পারভীন বলেন— “আমরা বছরের পর বছর ধরে একটি ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো জটিলতার কারণে আমাদের আশা ভেঙে যায়। বর্তমান উদ্যোগ আমাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে, তবে এই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন— “নারী প্রার্থীদের একটি বড় অংশ এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন, আবার পারিবারিক ও সামাজিক কারণে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ হারিয়েছেন। তাই সরকার যদি একটি বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করে আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে, তাহলে এটি হবে একটি ন্যায়সংগত ও মানবিক সিদ্ধান্ত।”
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১ম-১২তম ব্যাচের প্রার্থীরা মূলত সনদপ্রাপ্ত হলেও সরাসরি নিয়োগের নিশ্চয়তা পাননি। পরবর্তীতে নিয়োগ সুপারিশ প্রক্রিয়া চালু হলে তারা একাধিক গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার সুযোগ পেলেও নানা কারণে অনেকেই সুপারিশ পাননি।
বর্তমানে চলমান মামলা, বয়সসীমা এবং সনদের বৈধতা—এই তিনটি বিষয়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি সরকার দ্রুত একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে, তাহলে দীর্ঘদিনের এই জটিলতার সমাধান সম্ভব। অন্যথায় হাজারো নিবন্ধনধারীর অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হবে।
শিক্ষাবার্তা /এ/ ২৯ /০৪/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
