এইমাত্র পাওয়া

মোস্তফা মল্লিক: একটি তদন্ত রিপোর্ট, মাধ্যমিক শিক্ষা ও শিক্ষাবান্ধব সরকার

মোস্তফা মল্লিক:

১. সম্প্রতি জমা দেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত রিপোর্ট পড়তে গিয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয়েছে। তবুও গণমাধ্যমে ওই তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রতিবেদশ প্রকাশ হয়েয়ে কারণ খোদ মন্ত্রণালয় যখন কোনো তদন্ত করে তখন বোঝাই যায় সরকার চাচ্ছে অনিয়মের প্রকৃত কারণ বেড়িয়ে আসুক। আর এজন্যই শিরোনামের শেষ অংশটি দিয়েই লেখাটিকে এগিয়ে নিতে চাই।

২. সারা বিশ্ব যখন প্রযুক্তি বাণিজ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশের অর্জন হচ্ছে শিক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি। যদিও প্রযুক্তি বাণিজ্যসহ বেশ কিছু খাতেও বংলদেশের অর্জন বেশ, তবে মোটা দাগে আন্তর্জাতিক মহলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বংলাদেশের অর্জন বিশাল উচ্চতায়।

এটা সম্ভব হয়েছে শিক্ষায় শেখ হাসিনা সরকারের পর্যাপ্ত বিনিয়োগের কারণে। শিক্ষায় বিশে^র যে নজরকাড়া-এরো কারণ আছে অনেক। অনগ্রসর দেশগুলো যখন শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রী সমতা অর্জনে বেশ পিছিয়ে তখন বিশ^ পরিসংখ্যান বলছে, বংলাদেশে প্রাথমিকে ৫১ শতাংশ ছাত্রী। মাধ্যমিকে ৫৪ শতাংশ। এখানেই শেষ নয়। শিক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়েও ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশে বাড়ছে।

বিশাল শিক্ষা খাত-সেটা প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি বা যে কোনো খাতের যে অঙ্গই হোক না কেন, খুব সামন্য বিষয়েও সরকার যথেষ্ট নজরদারি করছে এখানে। বরাদ্দ যেমন বেশি তেমনি সরকার চায় দেশের জনগনের একটি পয়সাও যেন অপচয় না হয়। দুর্নীতির নখ যেন আঁচর দিতে না পরে উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো অর্থে।

৩. এবার আসা যাক সেই তদন্ত প্রসঙ্গে। ‘তদন্ত কমিটি’-বোঝাই যায় কোনো বিষয়কে আরো সুনির্দিষ্ট করতে যে কমিটি গঠন করা হয় সেটাই তদন্ত কমিটি। বইয়ের ভাষায় তদন্ত হচ্ছে কোনো কিছু অনুসন্ধান করা বা খুঁজে বের করা। যে ব্যক্তি বা সংস্থা তদন্ত করে তাকে তদন্তকারী বলা হয়।

এরইকমই একটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সম্প্রতি জমা পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। ‘ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০ (দশ) টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ নিয়ে যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে সেটি এরই মধ্যে বেশকিছু গণমাধ্যমে প্রকাশও হয়েছে।

ঢাকার শহরের পাশে ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ২০১৭ সালে। একনেকে এই প্রকল্প অনুমোদিত হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর। ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ডক্টর আমিরুল ইসলাম। এরো এক বছর পর নিয়োগ দেয়া হয় অন্য কর্মকর্তাদের। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে জনবল নিয়োগ করতেই লেগে যায় একবছরের বেশি সময়।

অথচ খুব দ্রুতগতিতে যেন প্রল্পের কাজ হয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় সরকারি স্কুলের যে সঙ্কট সেটি যেন কেটে যায়-এমন লক্ষ্য নিয়েই এই প্রকল্প করা। কিন্তু শুরুইে কমে যায় গতি। প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে প্রকল্পে জমিসহ সম্ভ্যব্য দাম তিনশ’ কোটি টাকা বেশি দেখানো। আর একারণে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।
তদন্ত রিপোর্টটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার পরপরই একাধিক পত্রিকা, অনলাইন এবং টেলিভিশন চ্যানেলে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদটি প্রচার করে। কারণ তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, জমিতে ‘যদি থাকে’ উল্লেখ করে গাছ, অবকাঠামো খাতে ১০১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বেশি ধরা হয়ছে।’

যেহেতু সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি এই কথা বলছে সে কারণেই এই সংবাদের গুরুত্ব অনেক। যদিও তদন্ত রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, ‘টাকাটা এখনো আত্মসাত হয়নি বা একেবারে সরকারের আর্থিক কোন ক্ষতি হয়নি। তবে যে কোন দুর্নীতির শুরু হয় প্রাক্কলন তৈরির সময় থেকে। অর্থাৎ সঠিকভাবে চিহ্নিত না হলে বা ধরা না পড়লে এই টাকা যে কোন চ্যানেলে সময়ে পরিক্রমায় সিন্টিকেট কর্তৃক আত্মসাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না’।

গণমাধ্যমের কাছে রিপোর্টটি আরো গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, সম্ভাব্য দামে নারায়ণগঞ্জের একটি নাল জমিকে বাণিজ্যিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি বলছে, এটি ‘শুভংকরের ফাঁকি’। এটা অত্যন্ত অনৈতিক এবং পূর্ব পরিকল্পিত’।

তদন্ত রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক তদন্তে শুধু এই খাতে অতিরিক্ত ১২৫ কোটি টাকার মত বেশি সম্ভাব্য প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে যা নৈতিকতা বিবর্জিত। এই দুর্নীতিকে ‘অস্বাভাবিক দুরভিসন্ধিমূলক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। এই সব দিক বিবেচনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যম।

মন্ত্রণালয়ের গঠন করা যে কোনো তদন্ত কমিটি স্বচ্ছ হবে এটই স্বাভাবিক। আবার এগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠাও অস্বাভাবিক নয়।

৪. ১০টি স্কুল প্রকল্প নিয়েও কথা হচ্ছে চারদিকে। কোনো কোনো গণমাধ্যম এই রিপোর্টকে একপেশে বা আংশিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্ত রিপোর্টের ভাষায়, ‘সম্ভাব্য অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক দূরভিসন্ধিমূলক’ প্রক্কলন প্রস্তুতে দায়ী করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ আমিরুল ইসলামকে। তদন্ত কমিটি বলছে, গাছপালা ও অবকাঠামো (যদি থাকে) একটি অনুমান নির্ভর এবং দূরভিসন্ধিমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। দুর্নীতির শুরু প্রাক্কলন থেকেই। একই সঙ্গে জমির দাম বৃদ্ধি কি কারণে হলো ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে’ দেখানো হয়নি।

অথচ প্রাক্কলন তৈরিতে জমিসহ যে মূল্য দেখানো হয় তার মূল কাজটি করে থাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ২০১৯ সালের ২৩ জুন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং ৩০ জুন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এই প্রাক্কলন মূল তালিকা পাঠানো হয়। এই মূল্য তালিকায় জেলা প্রশাসন ‘যদি থাকে’ উল্লেখ করে শত কোটি টাকা গাছের দাম এবং টিনের অবকাঠামোর সম্ভাব্য দাম দিয়ে দেয়। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গাছের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কিছু টিনের কাঠামো পাওয়া গেছে মাত্র।

জেলা প্রশাসনের দেয়া সম্ভাব্য মূল তালিকা ঠিক রেখে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক’কে চিঠি দেন প্রকল্প পরিচালক। যেটি উল্লেখ নেই তদন্ত রিপোর্টে। ওই চিঠির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রকল্প পরিচালক আমিরু ইসলাম লিখেছেন ‘এমতাবস্থায়, পুনর্গঠিত ১ম ডিপিপি’র খসড়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনপূর্বক জরুরীভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাউশি বিভাগে প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

’ অর্থাৎ প্রকল্প পরিচালক’কে পুরো বিষয়টি দেখতে মাহপরিচালক’কে অনুরোধ করেছেন। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি বা আবেদন পাঠান। ওই আবেদনে মহাপরিচালক স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেন, ‘সংশোধিত আরডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যায় ১১২৪৭৬.৯০ লক্ষ টাকা এবং বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।’ এরপর ২০১৯ সালের ২১ মার্চ শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই সময়ে শিক্ষার সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জমি দ্রুততার সাথে অধিগ্রহণ শেষ করে তা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়। সেখানে জমির দামের বিষয়ে আলোচনা হয়। একজন অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে চলতি বছরের ১০ মার্চ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই প্রকল্প নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। কোন জমির কতো দাম, কোন খাতে কতো মূল্য ধরা হয়েছে এরসবই সেখানে আলোচিত হয়। এর মানে হচ্ছে পুরো প্রকল্পে কতো খরচ হচ্ছে, সম্ভাব্য দাম, কোন খাতে কতো দাম ধরা হয়েছে-সবকিছুই সবার জানা।

যদিও তদন্তে শুধুই প্রকল্প পরিচালক ড. আমিরুল ইসলামকে দায়ি করা হয়েছে। অথচ যারা এই সম্ভাব্য দাম নির্ধারণ করেছে তাদের কাউকেই তদন্তে আনা হয়নি। ড. আমিরুল ইসলাম একজন অধ্যাপক এবং তিনি কলেজ শাখার কর্মকর্তা। অথচ তাঁর বিষয়ে তদন্ত করেছে অন্য আরেকটি বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সেটি হতেই পারে, তবে প্রশ্ন হচ্ছে সবাই সবকিছু জানার পরেও অভিযুক্ত শুধু একজনই কেন? সরকার চায় যারা অপরাধী তাদের সবার নাম আসুক। যারা তদন্তে আছেন তাদের সেই স্বাধীনতাও দিয়েছে সরকার। কিন্তু কখনো কখনো দুর্বল তদন্তের কারণে শতভাগ আসল চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে শুধুই একজন প্রকল্প পরিচালকের কারণে কলাগাছ, লতা পাতা আর ৭/৮টি টিনের ঘরের দাম অন্তত শত কোটি টাকা-এটা আদৌ সম্ভব কিনা? যদি সম্ভভ না হয়, অপরাধী আরো থাকে তাহলে শাস্তি তো সবারই হওয়া উচিত। আর না থাকলে তদন্ত রিপোর্টে তো সেটাও উল্লেখ থাকতে হবে।

বিষয়টি যেহেতু সরকারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা স্কুল নির্মাণ, সে কারণেই এর বেশি আলোচনা প্রয়োজন। সরকারের হাজার কোটি টাকার এমন সাহসী প্রকল্প আছে বলেই এখনো শিক্ষা নিয়ে ভরসা করতে চান নীতিনির্ধারকরা। তদন্তে সহকারি পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ) দিল আফরোজ বিনতে আছির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে তিনিও ‘দায় এড়াতে পারেন না’।

অথচ এই সহকারি পরিচালকের দাপ্তরিক কাজই হচ্ছে তার কাছে আসা কাগজ পত্র সঠিক কি-না সেটি যাচাই করা। অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যদি কোনো চিঠি আসে তাহলে সেটি যদি সত্যিই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চিঠি হয় তাহলে তিনি তাতে সাক্ষর করবেন। একই ভাবে এই প্রকল্পের সম্ভাব্য দামের ৬টি পাতায় তিনি সাক্ষর করেছে। যেহেতু পদের কারণে তিনি সাক্ষর করেছেন তাই তদন্ত কমিটি তাকেও দায় মুক্তি দেয়নি। অথচ মূল্য নির্ধারণে তার কোনো দায় থাকার কথা নয়।

স্রেফ দায়িত্বের কারণেই সাক্ষর করা। কারণ সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করার মতো কোনো ক্ষমতাই নেই তার। অথচ তদন্ত রিপোর্ট পড়লে মনে হবে দায়টা তারও। একই সঙ্গে প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসেবে তাকে বলা হয়ছে-অথচ তিনি সদস্য সচিব একটি কমিটির, প্রকল্পের নয়।

তদন্ত রিপোর্টে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমার কাজের ক্ষেত্র যেহেতু শিক্ষা কেন্দ্রীয় তাই তাদের নিয়ে কোনো অনুসন্ধানে যাইনি আমি। একারণে কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে-শুধুই কি দু’জন সার্ভেয়ার ‘যদি থাকে’ দিয়ে সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করার এখতিয়ার রাখে কি-না?

যদিও তদন্ত কমিটির প্রধান বলেছেন, পুরো প্রকল্প নিয়ে তদন্ত করেননি তারা। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে গাছ ও অবকাঠামো এবং জমির সম্ভাব্য দাম নিয়ে তাই তদন্ত অতোটুকুতেই সীমাবন্ধ রেখেছে কমিটি। যদিও করোনায় আক্রান্ত থাকার সময়েও তদন্ত করতে মাঠে গিয়েছেন তদন্ত কমিটি। নির্দিষ্ট সময়েই রিপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করেছেন-এজন্য অবশ্য ধন্যবাদও পাওয়ার যোগ্য তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য আমাকে বলেছেন, ‘সব কথা ফোনে বলা যাবে না। একদিন আসুন সব বলবো’। প্রশ্ন করলাম-ঊর্ধ্বতনরা কি বিষয়টা জানতেন না? তিনি বলেন, ‘অতো কাগজ কি পড়ার সময় আছে’?
তদন্ত কমিটি যাদের অভিযুক্ত করেছে তারা আসলেই অপরাধী কিনা তা খুঁজে বের করবে মন্ত্রণালয়। অভিযুক্তদের দায় দেয়া কিংবা দায় থেকে মুক্তি দেয়া নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। অপরাধীর শাস্তি হবে এটাই স্বাভাবিক। আবার অপরাধ না করে দোষী হবেন এটাও হওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে।

নিজের উপর অর্পিত দায়িত্বকে ধারণ করতে হবে, বললেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ≣ [১] বরিশালে তিন কিশোরকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলি ≣ [১] করোনাভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব পরিদর্শন করলেন, উপচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া

৫. দেশ যখন স্বাধীন হলো তখন প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ছিত্র মাত্র এক জন। আর এখনকার পরিসংখ্যানটা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি। অনেক কষ্ট আর বিভিন্ন খাতে অনেক আর্থিক ছাড় দিয়ে শিক্ষায় ধীরে ধীরে উন্নয়ন হওয়াতেই এটা সম্ভব হয়েছে।

স্বাধীনতার পর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশই বেসরকারি। ৫ম শ্রেণির পরের শ্রেণিতে যাওয়া হতো না অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। আর এখন পঞ্চম শ্রেণি পাস করা ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারছে।

৫ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে সরকারি বিদ্যালয় কয়টি? একসময় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল মাত্র ৫২টি। গত কয়েক বছরে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করায় এখন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৮২টি। এর মানে হচ্ছে এখনো মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বেসরকারি।

এরকম একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে ঢাকার পাশের ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ সরকারের অবশ্যই একটি ভালো কাজ। একটি রাস্তা বা ভবন নির্মাণে দুর্নীতি হলে তা যেমন মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, ঠিক তেমনি স্কুল তৈরির প্রকল্পে দুর্নীত হলে পুরো জাতির মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এই স্কুল তৈরি থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে যারা থাকেন তাদের অধিকাংশই শিক্ষা প্রশাসনের।

একটা সময় পর্যন্ত মাঠে শিক্ষকতা করে শিক্ষা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক চেয়ারে বসেন। সেখানে যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাহলে সেটা উদাহরণ হয়। যদিও এই অধিদপ্তরে এমন অভিযোগ নতুন নয়। আর এরচেয়েও বড় কথা যে কোনো তদন্ত রিপোর্টে যদি বেছে বেছে ‘পানি নিচের দিকে গড়ায়’ এই নীতি মেনে চুনোপুটিদের দায়ী করা হয়-তাহলেও যারা সত্যিই পর্দার আড়ালে থাকেন-তারা মুচকি হাসেন।

৬. বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে মোট শিক্ষার্থীর ৬ শতাংশ। আর অন্যসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তাই শুধু ঢাকার পাশেই নয়, প্রতিটি জেলায়, উপজেলায় আরো সরকারি বিদ্যালয় স্থাপন জরুরী হয়ে পড়েছে।

কারণ ২০৩০ সালের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রাথমিকের মতোই অবৈতনিক করার ইচ্ছে আছে সরকারের। আমরাও চাই এই ইচ্ছা পূরণে সফল হোক প্রিয় বাংলাদেশ।

পরিচিতি: মোস্তফা মল্লিক, বিশেষ প্রতিনিধি, চ্যানেল আই।
সভাপতি, বাংলাদেশ এডুকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম-বিইআরএফ।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.