এইমাত্র পাওয়া

জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনলাইন ক্লাস: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কি আবার ঝুঁকিতে?

।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান ।।

গ্রামের এক ছোট্ট ছেলে রাকিব। সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার জন্য তার কত প্রস্তুতি—ইস্ত্রি করা ইউনিফর্ম, মায়ের হাতে গরম ভাত, আর বাবার দেওয়া সামান্য হাতখরচ। স্কুল তার কাছে শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, খেলার মাঠ, আর স্বপ্ন দেখার জায়গা।

কিন্তু একদিন হঠাৎ ঘোষণা এলো—স্কুল বন্ধ, ক্লাস হবে অনলাইনে। প্রথম দিন সে খুশি হয়েছিল, কিন্তু কয়েকদিন পরই বুঝলো—তার কাছে তো ভালো মোবাইল নেই, ইন্টারনেট নেই, আর আছে শুধু অজানা এক শূন্যতা। বইয়ের পাতার বদলে সে তাকিয়ে থাকে ভাঙা স্ক্রিনের দিকে। শিক্ষক পড়ান, কিন্তু সে ঠিকমতো শুনতে পায় না। একসময় তার পড়াশোনা আর আগের মতো থাকে না।

আজ আবার সেই পুরনো গল্প নতুন করে সামনে আসছে—জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব। প্রশ্ন উঠছে—এটা কি বাস্তবসম্মত সমাধান, নাকি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরেকটি বিপজ্জনক পরীক্ষা?

সরকারের যুক্তি—অনলাইন ক্লাস চালু করলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে। স্কুলে যাতায়াত কমবে, পরিবহন খরচ কমবে। বিষয়টি কাগজে-কলমে ভালো শোনালেও বাস্তবতা ভিন্ন।

বাংলাদেশে জ্বালানি খরচের সবচেয়ে বড় অংশ আসে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, এবং ভারী পরিবহন খাত থেকে। সেখানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মোট জ্বালানি ব্যবহারের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তাহলে প্রশ্ন জাগে—শিক্ষা খাতকেই কেন পরীক্ষাগার বানানো হচ্ছে?

এখানে অনেকেই মনে করছেন—জ্বালানি সংকট একটি বাস্তব সমস্যা হলেও, এর সমাধান হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা কোনো টেকসই নীতি নয়। বরং এটি একটি সহজ অজুহাত, যেখানে সবচেয়ে দুর্বল অংশ—শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।

অনেক শিক্ষার্থীর মুখে একটাই প্রশ্ন—“আবার কি সেই অনলাইন ক্লাসে ফিরে যেতে হবে?” করোনাকালীন সময়ে অনলাইন শিক্ষার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারেনি। ইন্টারনেট সমস্যায় পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে। মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করছে, অনলাইন ক্লাস মানেই পড়াশোনার মান কমে যাওয়া। তারা বলছে—স্কুলের পরিবেশ, সরাসরি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ, সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা—এসব কিছুই অনলাইনে সম্ভব নয়।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের অনেকের কাছে স্মার্টফোন নেই, বা থাকলেও সেটি পরিবারের একমাত্র ডিভাইস। ফলে অনলাইন ক্লাস তাদের জন্য বাস্তবে “ক্লাসের বাইরে থাকা”র সমান।

অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা—মোবাইল ফোন। করোনাকালে অনেকেই বাধ্য হয়ে সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দেখা গেছে—
© পড়াশোনার চেয়ে গেমস ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় বেশি যাচ্ছে।
© আসক্তি তৈরি হচ্ছে.।
© অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

একজন অভিভাবকের কথায়—
“অনলাইন ক্লাসের নামে আমরা বাচ্চাদের হাতে এমন একটা জিনিস তুলে দিচ্ছি, যেটা তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে।”

তাদের মতে, শিক্ষা শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়—শৃঙ্খলা, সামাজিকতা, এবং মানসিক বিকাশের বিষয়। অনলাইন মাধ্যম এই দিকগুলোকে দুর্বল করে দেয়।

অনেক শিক্ষকই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তাদের মতে—
© অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না
© মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে
© শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন-
“করোনা মহামারির সময় অনলাইন ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের হাতে অবাধে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস তুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল—এটা সময়ের দাবি। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখেছি, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী না করে বরং দুর্বল করেছে। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, মোবাইল আসক্তি বেড়েছে, শিক্ষার মান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। আজ আবার জ্বালানি সংকটের অজুহাতে একই পদ্ধতি চালুর কথা বলা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—এটি কোনো সমাধান নয়, এটি একটি বিপজ্জনক পুনরাবৃত্তি। আগের সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে আবার সেই একই পথে হাঁটা মানে ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া। আমরা মনে করি, শিক্ষানীতি কোনো পরীক্ষাগার নয় যে, বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। অনলাইন শিক্ষা একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু সেটিকে মূলধারা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি বাস্তবতা বিবেচনা না করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে, তাহলে আবারও শিক্ষা ব্যবস্থার ‘বারোটা বাজবে’—এটা শুধু আশঙ্কা নয়, বরং অতীত অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া কঠিন বাস্তবতা।”

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ বজলুর রহমান মিয়া বলেন-

একজন শিক্ষক স্কুলে/কলেজে ৫–৭টি ক্লাস নিয়ে স্কুল/কলেজ সময়ের পরে আবার অনলাইনে ক্লাস নেবার যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন। তাছাড়া শিক্ষকের কর্মঘণ্টা ও আইনগত দিকও ভেবে দেখতে হবে। অপরদিকে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী দিনের জন্য প্রদত্ত বাড়ির কাজ/পড়া কখন করবে সেদিকটাও ভেবে দেখতে হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব  জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন

তিন দিন অন লাইনে আর তিন দিন সরাসরি ক্লাসের বিষয়ে সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পারছি না। করোনা কালীন সময়ে অন লাইন ক্লাসের অভিজ্ঞতায় দেখেছি বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মোবাইলে আসক্ত হয়ে লেখা পড়া থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। আজকে তেল এবং বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের জন্য আবারও অন ক্লাস চালু করার ফলাফলও খুব একটা ভালো হবে এমনটা আশা করা সমীচীন হবে না। বিষয়টি সমাধানের জন্য মর্নিং স্কুল চালানো যেতে পারতো, শীতকালে কর্মঘণ্টা বাড়ানো যেতো। বেশির ভাগ শিক্ষক মনে করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শনিবারের ছুটি বাতিলেরও এটি একটি কৌশল। বিশেষ করে নগর মহানগরের শিক্ষার্থীদের জন্য যানবাহন ও বিদ্যুৎ ব্যয় বেশি হয় তাই এক্ষেত্রে তাদের জন্য অনলাইন ক্লাস প্রযোজ্য কিন্তু গ্রামাঞ্চলে র জন্য বিষয়টি মোটেও প্রযোজ্য নয়। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ রইল যেন নগর- মহানগরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু করে। আর সরকার শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে চাইলে শিক্ষক-কর্মচারীগণ কাজ করতে বাধ্য। প্রতিটি সরকারের আমলেই দেখা যায়, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীগণ তাদের প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে, এ সরকারের আমলে যেন না হয়। সরকারের বিবেচনা করা উচিত, “শিক্ষা জাতীর মেরুদণ্ড হলে শিক্ষক শিক্ষার মেরুদণ্ড। 

বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন

আবারো অনলাইন ক্লাস শুরু হলে শিক্ষা ব্যবস্থা বিশাল সংকটে পড়বে। গত করোনা চলাকালিন সময়ে বিগত সরকার অনলাইন ক্লাস চালু করেছিল। এবং শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল তুলে দিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। কিছুটা শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হলেও আজো শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছাড়তে পারেনি। তাই পূণরায় মোবাইল হাতে দিয়ে অনলাইন ক্লাস না দিয়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মর্নিং শিফটে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তা ছাড়া এক দিন অনলাইন এক দিন অনলাইন ক্লাস হলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত কমে যাবে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে।

বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো) এর নির্বাহী মহাসচিব- মোঃ এনামুল ইসলাম মাসুদ এ বিষয়ে বলেন-

করোনা কালীন সময়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয় এবং এটি ভালো সুফল বয়ে আনেনি। আমাদের অবকাঠামোও এখনো অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো যথেষ্ট উপযোগী নয়।’ তিনি আশংকা করছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়তো কৌশলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ শনিবারেও খোলা রাখার কৌশল হিসেবে এটি করছেন।

বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি  সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন-

জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। এতে ভোকেশনাল শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ তাদের শিক্ষায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার মান আরও অবনতি ঘটবে।”

শিক্ষক নেতারা মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোনো গভীর গবেষণা বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়নি।
তাদের মতে—
© দেশে এখনো ডিজিটাল অবকাঠামো সমানভাবে গড়ে ওঠেনি
© সকল শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি
© প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক শিক্ষক অনলাইন ক্লাসে কার্যকরভাবে পড়াতে পারেন না
ফলে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি তুলে ধরছেন তা হলো—বৈষম্য।
অনলাইন শিক্ষা চালু হলে—
© শহরের সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কিছুটা এগিয়ে থাকবে
 © গ্রামের ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে।

এতে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি “ডিজিটাল বিভাজন” তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক বৈষম্যের কারণ হতে পারে।

একজন শিক্ষা বিশেষজ্ঞের মতে, “অনলাইন শিক্ষা একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই মূল ধারার বিকল্প হতে পারে না।”

বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো— এখনো নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সবার কাছে পৌঁছায়নি
© বিদ্যুৎ সংকট অনেক এলাকায় বিদ্যমান
© প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে
এই বাস্তবতায় অনলাইন ক্লাস চালু করা মানে অনেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার বাইরে ঠেলে দেওয়া।

প্রশ্ন হচ্ছে—জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কি অন্য কোনো পথ নেই?
অবশ্যই আছে। যেমন—
© অফিস সময়সূচি পুনর্বিন্যাস
© গণপরিবহনের দক্ষতা বৃদ্ধি
© শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ
কিন্তু সেসব কঠিন সিদ্ধান্ত না নিয়ে সহজ পথ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে টার্গেট করা হচ্ছে।

শেষে আবার ফিরে যাই সেই রাকিবের গল্পে। সে এখন আর আগের মতো বই খুলে বসে না। স্কুলের মাঠ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—সবই যেন দূরের স্মৃতি। অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে যে শিক্ষা তার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেটিই ধীরে ধীরে তাকে শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

আজকের এই পরিস্থিতিতে একটি তিক্ত বাস্তবতা সামনে আসে। কথিত আছে – “সব সাপেরই সমান বিষ, পার্থক্য শুধু উনিশ-বিশ”
হয়তো আমাদের শিক্ষানীতির বর্তমান অবস্থাকেই প্রতিফলিত করে।

একটি সরকার অনলাইন শিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের হাতে অপরিকল্পিতভাবে মোবাইল তুলে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছিল—এমন অভিযোগ বহুদিনের। এখন আরেকটি সরকার জ্বালানি সংকটের যুক্তি দেখিয়ে সেই একই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভিন্ন প্রেক্ষাপট, ভিন্ন যুক্তি—কিন্তু ফলাফল কি শেষ পর্যন্ত একই দিকে যাচ্ছে না?

যদি শিক্ষা খাতকে বারবার পরীক্ষার মঞ্চ বানানো হয়, যদি বাস্তবতার চেয়ে সিদ্ধান্ত বড় হয়ে ওঠে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু একটি প্রজন্ম নয়—পুরো জাতির ভবিষ্যৎ।

রাকিবদের গল্প যেন বারবার না ফিরে আসে—এ দায় শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি সচেতন মানুষের। এখনই সময় প্রশ্ন তোলার, এখনই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নইলে “উনিশ-বিশ” এর এই পার্থক্য একসময় পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই অচল করে দিতে পারে।

লেখক: শিক্ষক ও গবেষক। 

শিক্ষাবার্তা /এ/৩১/০৩/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.