জামালপুর: জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ (৫০) ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরীফা আক্তারের (৪২) বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কটূক্তির অভিযোগে মানববন্ধন করেছে সাধুরপাড়া এলাকাবাসী। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সর্বস্থরের জনগণ।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সাধুরপাড়ায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী জানান, পারিবারিক ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ জালিয়াতি করে আপন শ্যালিকাকে নিয়োগ দেওয়ায় মাউশির তদন্তের আলোকে মাউশি কর্তৃক বেতন বন্ধ হওয়া জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলাধীন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তার নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এর আগে এলাকাবাসীকে অভিযুক্ত করে ও সাধুরপাড়া মোল্লা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান ও এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে স্কুলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তার।

তারা জানান, ওই দুই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণে জড়িত। এরই ধারাবাহিকতায় তারা সম্প্রতি সাধুরপাড়া মোল্লা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান ও এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। এতে এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শরীফা আক্তার শিক্ষকতার মতো মহৎ পেশাকে অসম্মানিত করেছেন। তাদের কথাবার্তা ও আচরণে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় সাংবাদিক আল মোজাহিদ বাবু (৩৮)। তিনি বলেন, “শিক্ষক সমাজ আমাদের আলোকবর্তিকা। অথচ এই দুইজন শিক্ষক তাদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে এলাকায় বিভেদ সৃষ্টি করছেন। এমনকি কবরস্থান ও সম্মানি ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে কটূক্তি করে তারা জনসাধারণের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। আমরা চাই, শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”
এ সময় এলাকার প্রবীণ, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, পারিবারিক ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী ১৬ বছরের শাসনামলে সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ তার আপন শ্বশুর গোলাম মোস্তফাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করে ব্যাকডেটে তার আপন শ্যালিকা শরিফা আক্তারকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে মাউশি ও জামালপুর জেলা প্রশাসকের আলাদা দুইটি তদন্ত এই জালিয়াতি প্রমাণ হওয়া চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও শ্যালিকা সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তারের মাসিক বেতন ভাতা (এমপিও) বন্ধ করে দেয় মাউশি। তবে এই দুইজনের মাউশি বেতন বন্ধ করে দিলেও তারা এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী ইউএনও, মাউশি মহাপরিচালক ও শিক্ষা সচিব বরাবর সম্প্রতি স্বারকলিপিও দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ
- বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়: ২ বছর পর জানা গেল তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক
- নিয়োগ জালিয়াতি: সাধুরপাড়ার প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধ করলো মাউশি
- ‘মাউশির পরিচালক কাইয়ুম শিশির’কে মাউশি থেকে অপসারণের দাবিতে জামালপুরে বিক্ষোভ
- এমপিও বন্ধে শোকজ: বকশীগঞ্জের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে মাউশিতে তদবির
- বেতন বন্ধ করলো মাউশি, এলাকাবাসীকে অভিযুক্ত করে প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলন
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
