।। ড. মুহাম্মদ সৈয়দুজ্জামান।।
এমসিকিউ MCQ পদ্ধতির পূর্ণরূপ হল মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন (multiple choice question) এটি একটি প্রশ্ন পদ্ধতি যেখানে একটি প্রশ্নের সাথে একাধিক সম্ভাব্য উত্তর দেওয়া থাকে এবং পরীক্ষার্থীদের সঠিক উত্তরটি বাছাই করতে হয়। এটি সাধারণত শিক্ষাগত মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি।
যা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন নামেও পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা যেমন এসএসসি এইচএসসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়। এমসিকিউ পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হল এখানে একটি প্রশ্নের জন্য একাধিক সম্ভাব্য উত্তর দেওয়া থাকে এবং পরীক্ষার্থীদেরকে সঠিক উত্তরটি বাছাই করতে হয়।
এমসিকিউ পদ্ধতি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং পরীক্ষার খাতার ঝামেলা কমানো। ১৯৯২ সাল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ পদ্ধতি চালু করা হয়। এমসিকিউ বা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন নিয়ে বিগত দেড় যুগ যাবৎ আলোচনায় এসেছে বারবার। শিক্ষার মানের ধস আনার জন্য এই পদ্ধতিতে দায়ী করেছেন অনেকে। আবার প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে না পারার জন্য এই পদ্ধতিতে দায়ী করেছেন কেউ কেউ।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চলমান এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। য়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে সঠিক উত্তরটি চিহ্নিত করতে হয় শিক্ষার্থীদের যা তাদের গভীর জ্ঞান এবং সমালোচনামূলক চিন্তা ভাবনার বিকাশকে বাঁধাগ্রস্ত করতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের গভীর জ্ঞান ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার অভাব তাদের জ্ঞানকে সীমিত করে ফেলে এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে প্রশ্নের উত্তর না জেনেও শুধু অনুধাবন করে সঠিক উত্তর চিহ্নিত করতে পারে যা তাদের প্রকৃত জ্ঞান যাচাই করা কঠিন করে তোলে। এমসিকিউ এর উপর নির্ভর করে অনেক শিক্ষকরা পাঠ্যক্রমের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো যেমন রচনা, বক্তৃতা বা ব্যবহারিক কাজ এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারেন না।
কিছু শিক্ষার্থীদের জন্য এমসিকিউ পদ্ধতি ভীতি তৈরি করতে পারে যা তাদের কর্মক্ষমতা কে প্রভাবিত করতে পারে লাভবান হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন পরীক্ষা সংস্থা ও সফটওয়্যার কোম্পানি। এম সি কিউ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা এবং সমস্যার সমাধানের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ কম থাকে। চিহ্নিত করতে হয় কারণ এখানে একটি নির্দিষ্ট উত্তর চিহ্নিত করতে হয়।
বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অন্যতম জনবহুল ও দরিদ্রতম দেশ। এদেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। তাছাড়া এ ধরনের এমসিকিউ পদ্ধতির জন্য সরকারের কোটি কোটি টাকা দেশ ও বিদেশ থেকে ধার দেনা করে সংগ্রহ করতে হচ্ছে ।তথাপি এর মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফল আসতো তাহলে কোন কথাই ছিল না। কিন্তু বর্তমান সময়ে নামিদামি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দশ শতাংশর বেশি শিক্ষার্থী পাস মার্ক অর্জন করতে পারিনি বিগত দিনে আমরা লক্ষ্য করেছি। তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে কার পকেট ভারি করা হচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে সে টাকা, নাকি অর্থ পাচার হয়ে আবার বিদেশে চলে যাচ্ছে, বিষয়টি গভীরভাবে ভাবার এখনই উপযুক্ত সময়।
লেখক: লেখক ও গবেষক।
শিক্ষাবার্তা /এ/0৩/০৮/২০২৫
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
