এইমাত্র পাওয়া

বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা : দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর আরোপ করা ‘প্রত্যয়’ পেনশন স্কিম বাতিল দাবিতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন এবং কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচির পর এবার সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যত অচল থাকবে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের এই সময়ে হল প্রাধ্যক্ষরা হলের অফিসও বন্ধ রাখবেন, বন্ধ থাকবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিও। অনলাইন, সান্ধ্যকালীন ক্লাস এমনকি শুক্র ও শনিবারের প্রফেশনাল কোর্সের কার্যক্রমও চলবে না। মিডটার্ম, ফাইনাল, মৌখিক ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোনো পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হবে না। বিভাগীয় অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগারের তালাও খুলবে না। অনুষ্ঠিত হবে না কোনো একাডেমিক বা অন্য কোনো কমিটির সভাও। সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া এ অচলাবস্থার কারণে সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা বলছেন, প্রত্যয় স্কিম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের পাশাপাশি সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিও রয়েছে এ আন্দোলনের পেছনে। তারা বলছেন, এসব দাবি আদায়ে শিক্ষকরা বিবৃতি প্রদান, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন, প্রতীকী কর্মবিরতি, অবস্থান কর্মসূচির মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ ছাড়া গত ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্ধ দিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। গতকাল পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা। এরপরও শিক্ষকদের দাবি আদায়ে কোনো কর্ণপাত করতে দেখা যায়নি সরকারকে। তাই বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া গতকাল  বলেন, প্রত্যয় পেনশন স্কিম বাতিলসহ শিক্ষকদের দাবিগুলো মেনে না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। আশা করি সরকার অবিলম্বে দাবি মেনে নেবে যাতে দ্রুত আমরা ক্লাসে ফিরতে পারি। ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনে গতকাল শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত প্রত্যয় স্কিম বাস্তবায়ন করা হলে মেধাবীরা ভবিষ্যতে শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবেন না। যারা আসবেন তারাও ভুক্তভোগী হবেন। আমাদের আন্দোলন তরুণ সমাজের স্বার্থ রক্ষার পক্ষে এবং উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, যেসব শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী চলতি বছরের ১ জুলাইয়ের পর থেকে যোগ দেবেন তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ‘প্রত্যয় স্কিম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য বিদ্যমান অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য যে প্রত্যয় স্কিম আরোপ করা হয়েছে, তা তাদের পারিবারিক সুরক্ষা নষ্ট করছে। এ প্রত্যয় স্কিমের ফলে মেধাবীরা আর শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবেন না। তাই সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিল দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, প্রত্যয় স্কিমে মূল বেতন থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়া হবে, যেটা আগে কাটা হতো না। বর্তমানে পেনশনার ও নমিনি আজীবন পেনশনপ্রাপ্ত হন; কিন্তু নতুন এ স্কিমে পেনশনাররা ৭৫ বছর পর্যন্ত পেনশন পাবেন। বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাওয়া যায়, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সেটিও সুস্পষ্ট করা হয়নি। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল ৬৫ থেকে ৬০ বছর করা হয়েছে। মাসিক চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতাও নতুন প্রত্যয় স্কিমে প্রদান করা হবে না বলে জানা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, দাবি আদায়ে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আজ থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাসে যাবেন না। কোনো দাফতরিক কাজে অংশ নেবেন না। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া প্রত্যয় স্কিম বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/জামান/০১/০৭/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.