এসএসসি পরীক্ষায় শাস্তিযোগ্য ২০ অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে নকল। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তার আগের মেয়াদে নকলবিরোধী যে পদক্ষেপ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, তা আবারও সামনে আসছে।

মন্ত্রী বিভিন্ন সভা এবং সেমিনারে নকলের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি এটি প্রতিরোধে সব শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তার এমন কঠোর অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি নানা হাস্যরস হচ্ছে। তবে, এ অবস্থার মধ্যেই পরীক্ষায় নকলসহ ২০ ধরনের কাজকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিমালা প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

পরীক্ষায় অনিয়ম ও অসদুপায় রোধে এসব কার্যকলাপকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যাতে আছে- বহিষ্কারসহ সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ। সম্প্রতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নীতিমালায় পরীক্ষা কক্ষে এদিক-ওদিক তাকানো, নকল গিলে ফেলা, মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা, পরীক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ ২০ ধরনের অপরাধ ও তার শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ অপরাধে পরীক্ষা বাতিল
নীতিমালা অনুযায়ী পাঁচ ধরনের অপরাধের জন্য শুধু ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এগুলো হলো-

  • পরীক্ষা কক্ষে এদিক-ওদিক তাকানো।
  • একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা বা কথা বলে লেখা।
  • কেন্দ্রের সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র ইত্যাদি ছাড়া অন্য কোনো প্রকার লিখিত বা মুদ্রিত যেকোনো প্রকার দূষণীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা বা তা দেখে নকল করা।
  • সেট কোড পরিবর্তন করা এবং অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে উত্তরপত্র দেখালে তার বিরুদ্ধেও সমান শাস্তির সুপারিশ করা হবে।
  • ডেস্ক, বেঞ্চ, দেয়াল, হাত বা পোশাকে পরীক্ষার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু লেখা থাকলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের লেখা থেকে নকল করলে সংশ্লিষ্ট অংশ লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এক বছরের শাস্তি যেসব অপরাধে
পরীক্ষার কক্ষে আট ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি হিসেবে ওই বছরের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী এক বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে। সেগুলো হলো-

  • পরীক্ষা কক্ষে যেকোনো ধরনের অপরাধ করতে সাহায্য করা।
  • মোবাইল ফোন বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে থাকলে বা এমএসএসের মাধ্যমে পরীক্ষার বিষয় সম্পর্কিত কোনো কিছু লেখা থাকলে কিংবা ওইসব ইলেকট্রনিক ডিভাইসে প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কোনো তথ্য সংরক্ষিত রাখা।
  • উত্তরপত্রে আপত্তিকর কিছু লেখা অথবা অযৌক্তিক মন্তব্য বা অনুরোধ করা।
  • পরীক্ষা কক্ষে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি বা গোলযোগ করা।
  • দূষণীয় কাগজপত্র কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে না দিয়ে তা নাগালের বাইরে ফেলে দেওয়া বা গিলে খাওয়া।
  • একই উত্তরপত্রে দুই রকম বা দুই ব্যক্তির হাতের লেখা থাকা।
  • প্রশ্নপত্র বা সাদা উত্তরপত্র বাইরে পাচার করা।
  • কক্ষ প্রত্যবেক্ষক বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গালাগালি বা ভীতি প্রদর্শন করা।

যে ৭ ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি
নীতিমালায় সাত ধরনের গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি হিসেবে পরীক্ষা বাতিলসহ তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে-

  • উত্তরপত্র জমা না দিয়ে কক্ষ ত্যাগ।
  • রোল নম্বর পরিবর্তন।
  • উত্তরপত্র বিনিময় বা অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করা।
  • কেন্দ্রের সরবরাহ করা মূল উত্তরপত্রের পাতা পরিবর্তন করা।
  • পরীক্ষা কক্ষে, কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বা কেন্দ্রের বাইরে কোনো কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে আক্রমণ করা বা আক্রমণের চেষ্টা করা।
  • অস্ত্র প্রদর্শন করা।
  • অন্যের লিখিত উত্তরপত্র বা অতিরিক্ত উত্তরপত্র দাখিল করা।

শিক্ষাবার্তা /এ/ ১৮/০৪/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.