এইমাত্র পাওয়া

আসছে আরও ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক।। 

দেশে আরও ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে এসব বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতির বিষয়ে মতামত জানতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৭ জানুয়ারি একটি চিঠিতে প্রস্তাবিত ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়। এগুলো হলো—নৌবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা; আশ্রয় ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী; ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, রাজশাহী; বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্স, খুলনা; ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ঠাকুরগাঁও; ইউনিভার্সিটি অব ইন্টিগ্রেটেড থট, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। এ ছাড়া আরও কয়েকটি চিঠিতে বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর; যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটি, সাভার; ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ঢাকা এবং সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয়, ঝিনাইদহের বিষয়েও মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন গত সোমবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

দেশে বর্তমানে ১১৬টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১১০টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৫৭টি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি।

১৯৯২ সাল থেকে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদেশমুখী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো। তবে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইউজিসির বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বল অবস্থাও উঠে এসেছে।

ইউজিসির সূত্র জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মোট ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার বিষয়ে ইউজিসির মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গত বছরের ১৮ মার্চ সরকার গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন দেয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানায় রয়েছে গ্রামীণ ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাকি ১১টির আবেদন ইউজিসিতে আছে।

সূত্র আরও জানায়, ইতিমধ্যে ইউজিসির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রস্তাবিত একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে। এগুলোর মধ্যে সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি থেকে জানা যায়, প্রস্তাবিত নৌবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আবেদন করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। আশ্রয় ইউনিভার্সিটির জন্য বেসরকারি সংস্থা আশ্রয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মো. আহসান আলী, ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জন্য মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্সের জন্য ড. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান, ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জন্য ড. এম আবদুল আজিজ এবং যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জন্য যমুনা গ্রুপ, বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির জন্য সৈয়দ জাবেদ মো. সালেহ উদ্দিন, গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটির জন্য কৃষিবিদ গ্রুপের পক্ষে ড. মো. আলী আফজাল, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির জন্য আনোয়ারুল ইসলাম এবং সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এম হারুনুর রশীদ আবেদন করেছেন।

ইউজিসি থেকে জানা যায়, এত দিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর অধীনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, অনুমোদনের জন্য উদ্যোক্তাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার বিষয়ে মতামত জানাতে চিঠি দেয় ইউজিসিকে। এরপর মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

দেশে আদৌ আর কোনো নতুন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করা উচিত বলে মনে করেন বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের আগে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন স্থগিত রাখা উচিত। অনুমোদন দিতে হলে তা অবশ্যই একটি যুগোপযোগী নীতিমালার আওতায় দিতে হবে।

অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আছে এগুলোর মান রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কেননা, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মানসম্পন্ন নয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.