এইমাত্র পাওয়া

চিল করে লেখাপড়া হয় না!

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: ছাত্রাবস্থা থেকে শুরু করে কর্মজীবনেও আমাদের সবাইকেই কোনো না কোনো সময় একটা ডেডলাইনের সম্মুখীন হতে হয়। প্রজেক্ট, থিসিস, হোমওয়ার্ক, এসাইনমেন্ট ইত্যাদি জমা দেওয়ার একটা ডেডলাইন থাকে। কোনো একটা কিছুর ডেডলাইন যদি আজ থেকে ১ মাস পরে হয় আমি ২৫ দিন তেমন কিছু একটা করি না। তবে কিছু না করলেও মাথার মধ্যে চিনচিন করে একটা ব্যথার মতো ওই ২৫ দিন এটা থাকে। কাজ শুরু করি চাপ যখন জমতে জমতে একটা ক্রিটিক্যাল চাপে উপনীত হয় তখন। আবার ডেডলাইন বর্ধিত হলে গড়িমসি বা প্রোকাস্টিনেশনও এক্সটেন্ডেড হয়। যেমন কিছুদিন আগে ট্যাক্স রিটার্নের একটা ডেডলাইন ছিল। কাগজপত্র প্রস্তুত করে সবকিছু প্রায় গুছিয়ে এনেছিলাম। এর মধ্যে ডেডলাইন এক্সটেন্ডেড হয়েছে। সাথে সাথে ওইটা রেখে দিয়েছি আর কাজটি শেষ হয়নি। আবার যখন ডেডলাইন খুব কাছাকাছি আসবে ধরে শেষ করব। আমি এরকমই।

আসলে আমি একা নই, এটি একটি ইউনিভার্সাল ব্যাপার এবং এর জন্য একটা উনিভার্সাল ল আছে ছবিতে দেখানো হয়েছে। এখানে ১০০০ মানুষের একটা সাবমিশন ডেডলাইন দিয়ে সাবমিশনের সংখ্যাকে সময়ের সাপেক্ষে একটা গ্রাফ দেখানো হয়েছে। সাবমিশনের সংখ্যা N(t) প্রথমদিকে সঙ্গত কারণেই শূন্যের কাছাকাছি এবং যতই ডেডলাইনের কাছাকাছি আসি ততই সংখ্যাটি বাড়তে থাকে এবং ডেডলাইনের একদম কাছে সংখ্যাটি দ্রুত উপরে উঠে। ক্রমবর্ধমান চাপ আমাদের কাজ শেষ করতে বাধ্য করে। আমরা ডেড-লাইনের যত কাছাকাছি যাচ্ছি, চাপ তত বেশি। পরীক্ষা বিষয়টিও তেমনি।

পরীক্ষা একটা চাপ। পরীক্ষার ঠিক আগে ১ ঘণ্টার পড়া আর পরীক্ষার ১ সপ্তাহ আগে ১ ঘণ্টার পড়া এক না। পদার্থবিজ্ঞানে কাজের সজ্ঞাটিও এখানে মনে রাখা জরুরি। কাজ হতে হলে বল বা চাপ লাগবেই। বিশেষ করে জ্ঞানের সরণ ঘটাতেও চাপ লাগবে। বিশেষ করে ছাত্রাবস্থায় ফর্মাল এডুকেশনে। এখানে কেউ কেউ ব্যতিক্রম থাকবে যারা চাপাটি ভেতর থেকে অনুভব করবে এবং নিজে নিজেই পড়বে। কিন্তু অধিকাংশের জন্য চাপটি এক্সটার্নাললি সিস্টেমের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে হবে এবং তার নাম পরীক্ষা বা এসাইনমেন্ট জমা দেওয়া। বর্তমান নতুন যেই শিক্ষাক্রম এই সরকার চালু করতে যাচ্ছে তাতে এই সূত্রটি মানছে না। এরা মনে করছে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ছাড়া চাপ ছাড়া শিখে যাবে। ব্রিটিশরা কি এই সিস্টেম মানে? চীনারা কি এই সিস্টেম মানে? হ্যাঁ একদম ক্লাসে চাপ না দিয়ে আনন্দের সাথে পঞ্চম পর্যন্ত লেখাপড়া ঠিক আছে। কিন্তু ক্লাস সিক্স থেকে শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সম্মুখীন করে ট্রেইন্ড করতে হবে। বিশেষ করে যেই দেশের মানুষ পরীক্ষা সিস্টেমে অভ্যস্ত তাকে রাতারাতি বলা হচ্ছে ‘যাও কাল থেকে আর পরীক্ষা নাই’! এখন থেকে চিল করে লেখাপড়া কর। ফলাফলটা বুঝতে পারছেন? চিল করে লেখাপড়া হয় না।

লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৯/১২/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়

“মুক্তমত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মুক্তমত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.