অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: ফিনল্যান্ডের স্কুলের শিক্ষকদের যদি বাংলাদেশে আনা হয় বাংলাদেশের বাংলা মাধ্যমের শিক্ষকদের ফিনল্যান্ডে নেওয়া হয় তাহলে আমি নিশ্চিত ফিনল্যান্ডের শিক্ষার মান বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষার মানে নেমে আসবে, আর বাংলাদেশের শিক্ষার মান প্রায় ফিনল্যান্ডের শিক্ষার মানে উঠে যাবে। তাহলে কী দাঁড়ালো? সবকিছুর আগে দরকার উচ্চ মানের সুখী, শিক্ষিত শিক্ষক। যারা বড় হবে একদিন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্নবান সফল মানুষেরাই আপনার আমার সন্তানদের মাঝে স্বপ্ন বুনতে পারবে। এতে কী বোঝা গেলো? বুঝলাম কারিকুলাম পরিবর্তনের চেয়ে বেশি জরুরি ছিল আগে শিক্ষকদের মান বাড়ানো। শিক্ষকদের মান বাড়াতে হলে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়ানো। শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়াতে হলে শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। একদিকে বলবেন শিক্ষার মান বাড়াতে চান আর অন্যদিকে শিক্ষায় বরাদ্দ কমান এই দ্বিচারিতা কেন? গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি দিলেতো হবে না।
ফিনল্যান্ডে স্কুলের শিক্ষক হতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কুল শিক্ষা’ বিভাগ থেকে মাস্টার্স করা লাগবে। আমাদেরকেও এমন নিয়ম করুন যে স্কুলের শিক্ষক হতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন এন্ড রিসার্চ আছে সেখান থেকে অনার্স মাস্টার্স বাধ্যতামূলক করুন। দেখবেন তখন আর কারিকুলাম পরিবর্তন করার দরকার নেই। শিক্ষকদের মানের প্রতিফলন শিক্ষার্থীদের উপর পড়তো। সক্রেটিসের কাছে প্লেটো, প্লেটোর কাছে এরিস্টোটল পড়েছে। তাদের কাছে ছাত্ররা সারা দিন কাটিয়েছে, গল্প করেছে, আড্ডা দিয়েছে। তাদের কোনো কারিকুলাম ছিল না। ওই মানের শিক্ষক হলে কারিকুলামও লাগে না। কারিকুলাম পরিবর্তন করার দাবি কি কেউ করেছিল? কোনো শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে ছিল? তাহলে এটা নাজিল হলো কিভাবে?
তাই উদ্দেশ্য যদি থাকে শিক্ষার মান উন্নয়নের তাহলে কারিকুলামে হাত না দিয়ে শিক্ষকদের মান বাড়ান, স্কুলের ম্যানেজমেন্টকে এমপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের খপ্পর থেকে উদ্ধার করুন। আগের নবম ও দশম শ্রেণীর কারিকুলামের কী সমস্যা ছিল? সেখানে পড়ানো হতো বাংলা সাহিত্য, বাংলা সহপাঠ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ইংরেজির জন্যও একইরকম ইংলিশ সাহিত্য ও গ্রামার, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, ভূগোল ও পরিবেশ, অর্থনীতি, কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ইত্যাদি অনেক কিছু ছিল। এসব বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বাদ কিংবা গুরুত্ব কমিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জীবন ও জীবিকা ইত্যাদির মতো বিষয় কিভাবে আসলো? এসব বাদ দিয়ে এবং একই সঙ্গে সব সাবজেক্ট বাধ্যতামূলক না করে ইংরেজি, বাংলা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতাকে বাধ্যতামূলক রেখে বাকি সব বিষয় থেকে যে যার পছন্দমতো বিষয় নির্বাচনের স্বাধীনতা দিন। আপনারাতো অল্প স্বল্প যতটুকু স্বাধীনতা আগে ছিল সেটা কেড়ে নিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা হরণ করা হলো যা একদম ঠিক হলো না।
লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৭/১২/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
“মুক্তমত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
