ঢাকাঃ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সম্মেলনে ‘ইনিশিয়েটিভ ফর কোয়ালিটি হ্যায়ার এডুকেশন অব বাংলাদেশ: ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার স্বরূপ, গতি, প্রকৃতি, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রসারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ব্যাংককে সম্মেলনে যোগদান শেষে মঙ্গলবার দেশে ফেরেন উপাচার্য। শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিস অব এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (এইউএপি) আয়োজিত ৩৬তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ১৬ নভেম্বর তিনি থাইল্যান্ডে যান। থাইল্যান্ডের সিয়াম ইউনিভার্সিটিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচদিনের এই সফরে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- থাইল্যান্ডের সিয়াম ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. প্রোনচাই মংকনভানিত, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাপ্টিস্ট ইউনিভার্সিটির ড. রেবেকা মেয়ার, চীনের সিয়াস ইউনিভার্সিটির সাওন চ্যান, ভারতের জাগরন লেকসিটি ইউনিভার্সিটির ড. হারি মোহন গুপ্ত, হ্যাঙ্গেরির জন ভোন নিউম্যান ইউনিভার্সিটির ড. নরবার্ট সিজমাডিয়া, অস্ট্রিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. এন্ড্রেস জেহেতনারসহ ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
এই সম্মেলনে পোস্ট গ্রাজুয়েটস ডিপ্লোমা (পিজিডি) এবং শর্ট কোর্সের শিক্ষার্থী বিনিময় নিয়ে ফিলিপাইনের মাউন্টেইন প্রোভিন্স স্টেইট পলিটেকনিক কলেজের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এতে শিক্ষার্থী বিনিময়সহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়।
‘ইউটিলাইজিং ইনস্টিটিউশনাল অ্যাসেটস টু এনহ্যান্স গ্লোবাল আউটরিচ’ শীর্ষক সম্মেলনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের ১৯টি দেশের ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞসহ শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতের পাশাপাশি এশিয়া অঞ্চলের আন্তঃসম্পর্ক বৃদ্ধি ও শিক্ষার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমুন্নত করার আহ্বান জানান উপাচার্য। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দেশ ও বিশ্বায়নের মূলধারায় আনার জন্য প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এইউএপি ১৯৯৫ সালে এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের ৫১ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য করে যাত্রা শুরু করে এবং সময়ের বিবর্তনে এটির সদস্য সংখ্যা ও কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়ে সারা বিশ্বব্যাপী এর প্রসার ঘটে। এইউএপির লক্ষ্য সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ও সহযোগিতার সম্পর্ক বৃদ্ধি করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকরী মঞ্চ তৈরি করা।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২২/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
