এইমাত্র পাওয়া

মূল্যহীন ডিগ্রির মূল্যায়ন কোন পর্যায়ে?

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীঃ স্বাধীন মাতৃভ‚মি প্রতিষ্ঠার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শনের প্রতিপাদ্য ছিল আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক গুণগত শিক্ষা।

প্রস্তাবিত কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনে একমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মৌলিক অনুষঙ্গ ছিল ধার্মিকতা-অসাম্প্রদায়িকতা-মানবিকতা-নীতিনৈতিকতা-সততা এবং সর্বোপরি দেশপ্রেমে পরিপূর্ণ কর্মবীর তৈরি করা।

জীবনমান উন্নয়নের প্রাসঙ্গিক সব খাতকে প্রাধান্য দেওয়াই ছিল শিক্ষাকাঠামোর প্রকৃত উদ্দেশ্য। শিক্ষা-গবেষণায় কল্যাণমুখী জ্ঞান সৃজন-বিতরণ ও সমৃদ্ধ মানবসম্পদ উন্নয়নে কৃষি-শিল্প-সামরিক-বেসামরিক দক্ষ-যোগ্য সোনার মানুষ অনুসন্ধানী সোনার বাংলা বিনির্মাণে কার্যকর ভ‚মিকা রাখার নির্দেশনা ছিল জাতীয় আদর্শ।

অদম্য পদচারণায় দেশের সব অর্জন বিশ্বস্বীকৃত হলেও শিক্ষার আমূল পরিবর্তন একই পর্যায়ে এগিয়েছে কিনা, তার বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি। সাক্ষরতার হার আশাব্যঞ্জক হলেও প্রকৃত শিক্ষিত-জ্ঞানী-প্রগতিমনা-মননশীল-সৃজনশীল ঐতিহ্যিক আধুনিকায়ন ধারা কতটুকু পরিপুষ্ট; বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মূল্যায়নে উলে­খযোগ্য যৌক্তিক অগ্রগতি তেমন কোনো দৃষ্টান্ত রচনা করেছে বলে মনে হয় না। পুঁথিগত শিক্ষা সনদ এক ধরনের আ ত্মতৃপ্তি প্রণোদনায় উচ্চকিত হলেও উন্নত বিশ্ব, বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব অবগাহনে যোগ্যতর মানব কারিগর আদৌ কোনো যুক্তিযুক্ত ভ‚মিকা রাখতে পারবে কিনা, তার যথার্থ মূল্যায়ন অবশ্যম্ভাবী।

গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যমতে, প্রতিবেশী ভারতে মূল্যহীন ডিগ্রি নতুন প্রশ্নের জ ন্ম দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্ল–মবার্গের তথ্যানুসারে, হাজার হাজার ভারতীয় তরুণ একটি চাকরি পাওয়ার আশায় প্রচুর অর্থ ব্যয়ে দুটি বা তিনটি পর্যন্ত ডিগ্রি নিচ্ছে। দেশটির ছোট ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গড়ে উঠেছে বহু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। রাস্তাগুলোর পাশে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সারি সারি বিলবোর্ড নিয়মিত দেখা গেলেও চাকরি পাচ্ছে না দুই বা তিনটি ডিগ্রি নেওয়া তরুণ প্রজ ন্ম । দেশটির বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি অদ্ভুত প্যারাডক্স বৈপরীত্য। যারা প্রচুর অর্থ খরচ করে স্না তকসহ দুই-তিনটি ডিগ্রি নিচ্ছে, তাদের কর্মক্ষেত্রের জ্ঞান খুবই সীমিত। প্রতিভা মূল্যায়ন সংস্থা হুইবক্সের বিশ্লেষণে জানা যায়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনসংখ্যার দেশটির সরকার দেশে বেশি তরুণ-তরুণী থাকার সুবিধার কথা বললেও মোট স্না তকদের অর্ধেকই বেকার সমস্যায় ভুগছে। ভারতের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্যমতে, মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন স্না তক পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে ভারতে বেকারত্ব এখন ৭ শতাংশের বেশি। অথচ ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রধান অর্থনীতি। সেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও উচ্চ ও মধ্যম মানের চাকরির বিপরীতে উপযুক্ত সংখ্যক ভালো মানের গ্র্যাজুয়েটের অভাব দেখা দিয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্র“তি দিলেও কিভাবে এ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা অজানা। এটিও ভাবার বিষয় যে, কোন ধরনের রহস্যজনক কারণে শিক্ষায় এত বেশি বিনিয়োগে ভারতবাসী প্রমোদিত।

ব্ল–মবার্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় অধিক বিনিয়োগের পেছনে বিভিন্ন কারণ উলে­খ করেছে। তারা জানায় যে, সামাজিক মর্যাদা-বিয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোসহ সরকারি চাকরির জন্য একাডেমিক ডিগ্রির প্রয়োজন। তারা দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত ডিগ্রির পাশাপাশি ভালো চাকরির প্রত্যাশায় কারিগরি ডিগ্রি নিচ্ছে। তথাপিও কাক্সিক্ষত চাকরি মিলছে না একাধিক ডিগ্রি নেওয়া শিক্ষার্থীদের। দিলি­ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সদস্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ ধরনের ডিগ্রিকে মূল্যহীন বললেও আসলে কম বলা হয়। একদিকে শিক্ষার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে শিক্ষিত বেকারও বাড়ছে। প্রতিবছর এভাবে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে চাকরির অযোগ্য করে তোলার মাধ্যমে পুরো সমাজকেই অস্থিতিশীল করে তুলছে। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগুলো যোগ্য কর্মীর খরায় ভুগছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ থেকে পরিচালনা সর্বক্ষেত্রে।’ ভারতের মানবসম্পদ বিষয়ক ফার্ম এসএইচএল এর গবেষণায় দেখা যায়, স্টার্ট আপে সফটওয়্যার সংক্রান্ত চাকরিরত মাত্র ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে।

জনঅধ্যুষিত ক্ষুদ্রায়তনের আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। উচ্চশিক্ষা-ডিগ্রি এখন আর কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তরুণরা যত বেশি পড়ালেখা করছে, তাদের তত বেশি বেকার থাকার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা মেটাতে অক্ষম। শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার ব্যাপারে কার্যকর কোনো ভ‚মিকা দৃশ্যমান নয়। সবকিছুই চলছে গতানুগতিকভাবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমনসব বিষয় যুক্ত করছে, যার সঙ্গে চাকরির বাজারের বিন্দুমাত্র সংযোগ নেই। পক্ষান্তরে আমাদের শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানি করে দেশের বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করছে। তাই আমাদের উচ্চশিক্ষা-ডিগ্রি নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার। চাকরির বাজারে যে শিক্ষার চাহিদা নেই, সেই শিক্ষা নিয়ে কী লাভ? উচ্চশিক্ষার নামে এ অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। মনে রাখতে হবে, একজন স্না তক কিংবা স্না তকোত্তর ডিগ্রিধারীর পেছনে কেবল পরিবারই বিনিয়োগ করে না, রাষ্ট্রেরও বিনিয়োগ থাকে। তাই উচ্চশিক্ষিত বেকার তৈরি মানে রাষ্ট্রেরও বিরাট ক্ষতি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্না তক শেষ করে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে তারা শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পান না। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুসারে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশই বেকার। ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী স্না তক কিংবা স্না তকোত্তর শেষ করে চাকরি পান। ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অন্য কোনো বিষয়ে স্না তকোত্তর বা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে বা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ৩ শতাংশ স্ব-উদ্যোগে উপার্জনের কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। অ্যাকশনএইডের ২০১৯ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটের ৪৬ শতাংশের বেশিই বেকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত বিশ্বব্যাংকের জরিপ প্রতিবেদনে স্না তক পাস করা শিক্ষার্থীদের ৪৬ শতাংশের বেকারত্বের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্না তকই বেকার, যেখানে ভারতে ৩৩, পাকিস্তানে ২৮, নেপালে ২০ ও শ্রীলংকায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

গত ১৮ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ‘ইকোনমিক সিচ্যুয়েশন রিভিউ অ্যান্ড পসিবল স্ট্র্যাটেজিস’ শীর্ষক প্রেজেন্টশনে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশের বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশের বিপরীতে ২০২২ সালে নভেম্বর মাসে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৬-১৭ সালের জরিপে পরিসংখ্যান ব্যুরো বেকারত্বের হার পেয়েছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০০০ সালে দেশে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর এ হার গত দুই দশকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কখনো ছাড়ায়নি। এ সংস্থার ২০১৬-১৭ সালে শ্রমশক্তি জরিপের তথ্যে জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্বের হারের তুলনায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। দেশের ১৫-২৯ বছর বয়সি ১২ দশমিক ২৮ মিলিয়ন তরুণের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ পড়ালেখা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের আওতায় নেই।

দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১১। ১৯৯২ সাল থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের পর এর সংখ্যা বাড়ার বিপরীতে কমেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এর মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করেছে, সেগুলোর বেশ কয়েকটির বিরুদ্ধে রয়েছে নানামুখী অনিয়মের অভিযোগ। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়েছে। ত ন্ম ধ্যে ৮টিতে নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার ৩১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য না থাকার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে পরিবেশিত হয়েছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান না থাকায় শিক্ষার মান নিয়েও আছে হরেক রকমের প্রশ্ন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, সক্ষমতা না বাড়িয়ে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই না করে নতুন নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়ায় বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গুণগত উচ্চশিক্ষা দিতে পারছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান পরিস্থিতি তদারকি করা এবং চাহিদার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা হওয়া দরকার।

গত ১৯ জানুয়ারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা, উৎপাদন ও উৎকর্ষতার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। একইসঙ্গে পরিকল্পিতভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার ধীরে ধীরে দেশকে শিল্পায়নের দিকেও এগিয়ে নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও মনোযোগী হতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নপূরণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সোনার ছেলে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকে, সে লক্ষ্যে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা-সংস্কৃতি চর্চা-সৃজনশীল কাজে তাদের যুক্ত রাখতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসাবে গড়ে তুলতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি উপাচার্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত বিজ্ঞজনের মতানুসারে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম শিক্ষাগত-প্রশাসনিক যোগ্যতা না থাকা সত্তে¡ও জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বা অনৈতিক লেনদেনের ফলে লবিং-তদবিরের অপসংস্কৃতির মোড়কে কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত শিক্ষকরাও সর্বোচ্চ পদ-পদায়ন দখলে নিচ্ছে। দক্ষ-যোগ্য মানবসম্পদ তৈরিতে এসব অযোগ্য প্রশাসনিক উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিরা উচ্চশিক্ষাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, নির্মোহ-নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যাবশ্যক; অন্যথায় আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ অর্জনের সব ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়কে ম্লান করে দেবে কিনা; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সেদিকে নিবিড় মনোযোগ প্রত্যাশিত।

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী: শিক্ষাবিদ; সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২৭/০৪/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.