এইমাত্র পাওয়া

লকডাউনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম।।

করোনা সংক্রমন ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে ১ জুলাই বৃহষ্পতিবার থেকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় জরুরী সেবা ব্যতীত সবকিছু বন্ধ থাকবে। যদিও সীমিত আকারে জরুরি পরিষেবাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে শিল্পকারখানা এবং ব্যাংক চালু থাকবে।
এই লকডাউন সময়ে সবচেয়ে কষ্টে পড়েন দিনমজুর, রিক্সাশ্রমিকসহ যারা দৈনিক কাজের বিনিময়ে রোজগার করেন তারাই। অন্য কোন উপায় না থাকায় তারা খেয়ে না খেয়ে দিন গুজরান করেন। লকডাউনে এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত সরকার, বিত্তশালী মানুষসহ সামর্থ্যবান সকল মানুষকে। সম্ভব হলে লকডাউন দেয়ার সময় তাদের জীবিকার বিকল্প কোনকিছুর ব্যবস্থা করা গেলে সেটাই হবে অতি উত্তম। অবশ্য এসময়টাতে অনেক সংগঠন, ব্যক্তিকে অসহায়দের সহায়তা করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত সহায়তা পেলে মানুষগুলোর অন্ততপক্ষে লকডাউন চলাকালে আর কোনা দু:শ্চিন্তা থাকবেনা।
আমাদের দেশে অর্থশালী মানুষের অভাব নেই। আছে উদার মানসিকতার অভাব। সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে দারিদ্রকে জয় করতে পারা কোন কঠিন কাজ হবেনা। কেবল দরিদ্র ও অসহায় মানুষ নন কষ্টে পড়েন বহু মধ্যবিত্ত লোকজনও। তারা না পারেন কাউকে বলতে, না পারেন সাহায্যের জন্য হাত পাততে। এজন্য তাদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনে যেন কেউ না জানে
সেভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে তারাও অভাবে থাকবেনা।
প্রাণঘাতি করোনা যে সহজে যাচ্ছেনা সেটা একপ্রকার নিশ্চিত। সেজন্য করোনাকে সাথে নিয়ে কীভাবে জীবনকে স্বাভাবিক করা যায় সেই কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে। করোনা সংক্রমনের কমবেশির উপর নির্ভর করে সময়ে সময়ে লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। এসময় ‘দিনে আনে দিনে খায়’ এসব মানুষের উপার্জনহীন দিনে যেন আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই সে পরিকল্পনাও আমাদের নিতে হবে। তবেই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তাই সকলের উচিত সামর্থ্যানুযায়ী লকডাউনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

 লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.