এইমাত্র পাওয়া

কলারোয়ায় সরকারের ভাতার টাকা অন্যের নাম্বারে

কামরুল হাসান, সাতক্ষীরা থেকে।।

স্বামী নেই, বাস্তুভিটা ছাড়া জমিজমাও নেই। দুই সন্তান প্রতিবন্ধী। উপার্জন বলতে ভিক্ষাবৃত্তি আর বিধবা ভাতার সামান্য ক’টা টাকা। সেই টাকা অন্যের নাম্বারে চলে গেছে।-কথাগুলো বলতে বলতে দু’চোখের কোণে জমা হওয়া পানি পড়তে থাকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৬নং সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাদরা গ্রামের আতিয়ার রহমানের বিধবা কন্যা ফিরোজা খাতুনের।

স্বামীর ২কাঠা বাস্তুভিটার উপর বাস করে একই গ্রামের অহেদ সরদারের কন্যা হাসিনা খাতুন। জমিজমা না থাকায় স্বামী মারা যাওয়া ও ৩ কন্যা বিয়ের পরে ভিক্ষা করে সংসার চলতো। কিন্তু দু’বছর আগে হার্টের একটা ভাল্ব অকেজো হওয়ায় চলতে পারেন না তিনি। এখন মেয়েরা কিছু সাহায্য করে আর বিধবা ভাতায় দিন চলে তার। কিন্তু সেই ভাতার টাকা পায়নি হাসিনাও।
একই উপজেলার চান্দা গ্রামের প্রতিবন্ধী বিউটি, বিধবা সালেহা, রহিমা, মাদরা গ্রামের প্রতিবন্ধী আসমা, প্রতিবন্ধী তৌহিদ, সোনাবাড়িয়া গ্রামের বিধবা ফিরোজাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শত শত ব্যক্তি ভাতার টাকা পায়নি। ভাতার টাকা হিসাব ধরে খুড়িয়ে খুড়িয়ে তাদের সংসার চলে। ওষুধ কিনতে হয়, কিনতে হয় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
স্থানীয় সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মনিরুল ইসলাম, ওয়ার্ড মেম্বর কামরুজামান, ওয়ার্ড মেম্বর হাসান তাদের ইউনিয়নে প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তির ভাতা না পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান- ‘সমাজসেবা দপ্তরের নির্দেশ মোতাবেক মাইকিং করে তিনবার বয়স্ক বিধবা প্রতিবন্ধীদের ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে হাজির করা হয়। প্রথমবার আইডি কার্ডের কপির উপর মোবাইল নাম্বার লিখে জমা নেওয়া হয়। ২য় বার সমাজসেবা দপ্তরের কর্তারা ভাতাভোগীদের আইডি ও মোবাইল নাম্বার যাচাই করেন। তৃতীয় দফায় সমাজসেবা দপ্তরের সংগে মোবাইল ব্যাংকিং ‘নগদ’ এর কর্মচারীরা এসে মোবাইল সেট নিয়ে নাম্বারগুলো যাচাই করেন।’
একই অভিযোগ করে দুইবার বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক প্রাপ্ত দেয়াড়া ইউনিয়নের মহিলা মেম্বর আকলিমা খাতুন জানান, ‘তার এলাকা ৪, ৫ ও ৬ ওয়ার্ডের অন্তত: দুই শতাধিক ভাতা ভোগী এবার টাকা পায়নি। ভুক্তভোগীরা সমাজসেবা দপ্তরে যোগাযোগ করলে বলা হচ্ছে টাকা দেওয়া হয়েছে।’
‘তবে যে নাম্বারে টাকা গেছে বলা হচ্ছে, তা ভাতাভোগীর নয়। জানাগেছে সেই সব নাম্বারধারীদের অবস্থান ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, যশোরে বা দেশের বিভিন্ন স্থানে। রিং দিলে বেশির ভাগ টাকা পাওয়ার কথা অস্বীকার করছে। অনেক নাম্বারে কল দিলে ফোন রিসিভ হচ্ছে না। অনেক নাম্বারে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।’-এভাবে সমগ্র উপজেলার হাজার হাজার ভাতাভোগী এবার টাকা পায়নি। টাকা না পেয়ে প্রতিদিন দলে দলে ভাতাভোগীরা উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে ভীড় করছে। তবে সমাজসেবা দপ্তর থেকে এ বিষয়ে কেউ সমাধানও পাচ্ছেন না।
এব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা মোবাইল নাম্বার তালিকাভূক্ত করার সময় ভুল লেখার কারণে সমস্যা হয়েছে। তবে টাকা উদ্ধারের সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.