শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ভট সিদ্ধান্ত: মাউশি ডিজি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক পদে ড. আজাদ খান কর্মরত থাকা অবস্থায় একই পদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারিকে উদ্ভট সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে এবং বিজ্ঞপ্তি জারির প্রতিবাদ ও প্রত্যাহারের দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারিকে মহাপরিচালক ড. আজাদ খানের জন্য ‘অসম্মানজনক ও অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ড. আজাদ খান মহাপরিচালকের পদে থাকায় আওয়ামী লীগের ‘দোসররা’ তাদের অপকর্ম পরিচালনা করতে পারছিলেন না। একারণেই ড. আজাদ খানের বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করেছেন। অবিলম্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ওই পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রুহানি, আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বায়েজিদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।

গত ৬ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মাউশির মহাপরিচালক পদে কাজ করতে আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্তসহ আবেদন করার অনুরোধ জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই বিজ্ঞপ্তি জারির পরই পরের দিন, ৭ অক্টোবর, মাউশির মহাপরিচালক পদ থেকে ড. আজাদ খান অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন। 

 অধ্যাপক ড. আজাদকে ডিজির পদ থেকে প্রত্যাহারের উদ্যোগের নেপথ্যে কী ? 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বর্তমান মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকেরা সন্তুষ্ট নন। এ জন্য তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এ অবস্থায় এ পদে তদবির করে যেনতেন ও অভিযুক্ত কেউ যাতে নিয়োগ পেতে না পারেন, সে জন্য সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দিতেই এই আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। 

আসলেই কী আজাদ খানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকেরা সন্তুষ্ট নন, না মূল ঘটনা অন্য কিছু?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক আবু কাজী কাইয়ুম শিশির মাউশি ডিজির চেয়ারে অধিষ্ঠিত হবার আশায় দীর্ঘদিন ধরে তদবির চালাচ্ছিলেন। পাঁচ আগস্টের পরে সর্বপ্রথম পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে পদায়ন পাওয়ার পরে মাত্র তিন মাসের মাথায় ঘুষ দুর্নীতির দায়ে তাকে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ছয় মাসের মাথায় ফের মন্ত্রণালয়ে একটি পদায়ন চক্রের হাত ধরে মাউশির পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং) পদে পদায়ন নেন। মাউশির পরিচালক পদ বাগানোর পর নিজের ইচ্চেমত শোকজ ও তদন্ত করতে থাকেন। নিয়ম অনুযায়ী মাউশির সব কর্মকাণ্ডে মাউশির মহাপরিচালকের অনুমোদন প্রয়োজন কিন্তু অধ্যাপক শিশির কোনো নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছে মত কর্মকাণ্ড করতে থাকেন এবং মহাপরিচালকের সাথে বিবাদে জড়ান। এ নিয়ে সর্বপ্রথম গত ১৪ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘শিক্ষা ক্যাডারের আবু কাইয়ুম শিশিরই যেন শিক্ষা উপদেষ্টা, মাউশি ডিজি তার ‘অধীনস্থ’!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গত ২০ জুলাই ‘আরও বেপরোয়া মাউশির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির‘ এবং ২০ আগস্ট ‘‘খালেদা জিয়া’কে পুঁজি করে চাঁদাবাজি করা শিশির হতে চান এনসিটিবির চেয়ারম্যান‘ শিরোনামে শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রতিবেদক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানি মামলা করেন অধ্যাপক কাজী শিশির। আর এই মামলাটি করেন মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইংয়ের পক্ষ থেকে। নিয়মানুযায়ী কোনো দপ্তরের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সেই দপ্তরের প্রধানের নিকট থেকে অনুমোদন নিতে হয় এবং মামলায় স্বশরীরে উপস্থিতির জন্য ছুটি নিতে হয়। কোনো অনুমোদন না নিয়ে এই কর্মকাণ্ড করায় আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টবর তাকে  শোকজ করে মাউশি মহাপরিচালক। একই দিন অধ্যাপক কাজী কাইয়ুম শিশিরের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগে তদন্তের চিঠি ইস্যু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

জানা গেছে, শিশিরের সাথে বিবাদের কারণে (শিশিরের অপকর্ম নিয়ে বিবাদ) বিভিন্ন তদবির ও একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় গত ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ জামালপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে এক প্রেজেন্টেশনে স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে দেওয়া এক বক্তৃতার ভিডিওতে শেখ মুজিবের বন্দনা করা হয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. আজাদের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশ করে এবং সেই সংবাদ বিভিন্ন দপ্তরে দিয়ে অপপ্রচার চালান। এর আগে গত আগস্ট মাসে অধ্যাপক আজাদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকলে অসুস্থতার সময়ে নজিরবিহীনভাবে বিতর্কিত পরিচালক অধ্যাপক শিশির তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেতে নিজেই একটা আবেদন নিয়ে হাজির হন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। তবে সে যাত্রায় সে না পারলেও এবার মন্ত্রণালয় কর্তৃক তার নানা অপকর্মের অভিযোগ তদন্তাধীন অবস্থাতেই তিনি ব্যাপক তদবির চালান ডিজির চেয়ারের জন্য। কোনো অনিয়ম না করেও অধ্যাপক ড. আজাদের চেয়ারের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অন্যদিকে নানা অপকর্ম করেও এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন অধ্যাপক শিশির। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.