২০ বছরেও টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড পায়নি সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা

শাহাব উদ্দীন মাহমুদ সালমী: সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা, অবমূল্যায়ন, পদোন্নতির বঞ্চনা সহ নানাবিধ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যোগদান থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির বেতন স্কেলভুক্ত সরকারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা পাওয়ায় যোগদান থেকে চাকরিকাল গণনা করে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল প্রাপ্য। “জাতীয় বেতনস্কেল,২০০৯” এর ৭(২) ধারা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা পদে ৮ বছর চাকরি পূর্তিতে ‘প্রথম টাইমস্কেল’ হিসেবে ৮ম গ্রেড এবং ১২ বছর পূর্তিতে ‘দ্বিতীয় টাইমস্কেল’ হিসেবে ৭ম গ্রেড প্রদানের বিধান আছে। তাছাড়া “জাতীয় বেতনস্কেলে,২০০৯” এর ৭(৯)ধারা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা পদে ৪ বছর পূর্তিতে ৯ম গ্রেড প্রদানের বিধান আছে।

পে-স্কেলের বিধান অনুযায়ী সরকারি স্কুলে কর্মরত শিক্ষক/ শিক্ষিকাদের সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পাওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মোট ৩ (তিন) বার DPC সভা (১৭/০৫/২০১৬, ২০/০৭/২০১৬, ০৭/০৮/২০১৬ খ্রি.) কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারনে সিদ্ধান্ত ছাড়াই স্থগিত হয়। ফলে দীর্ঘ ২০ বছর যাবত চাকরী করেও কোনো টাইমস্কেল/সিলেকন গ্রেড পাননি প্রায় ৬ হাজার শিক্ষক। যা বঞ্চিত শিক্ষকদের মনে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করছে।

অবশেষে অনন্নোপায় হয়ে ভূক্তভোগী শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পাওয়ার জন্য ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় ও জটিলতা নিরসনে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করেন (রীট নং- ৩৫৪৫/২০১৮, ৩৮৪৮/২০১৮ ও ৩৯২৫/২০১৮)। বিগত ০২/০৫/২০১৯ তারিখ উক্ত রীট পিটিশনগুলোর রায় শিক্ষকদের পক্ষে প্রদান করা হয়। ৩ মাসের মধ্যে উক্ত রীট পিটিশিনগুলোর রায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকলে তা না করে রায় ঘোষণার প্রায় ১০ মাস পর আপিল করা হয়।

অতঃপর বিগত ০৪/০৫/২০২৫ খ্রি. আপিল বিভাগ থেকে (মামলা নং: CP-1030/2020, 1031/2020, 103২/2020) শিক্ষকগণের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হয়। ৩ মাসের মধ্যে আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ভূক্তভোগী শিক্ষকগণের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মহামান্য আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী শিক্ষকদের ন্যায্য বকেয়া পাওনা টাইমস্কেল-সিলেকশন গ্রেড প্রদান করে বৈষম্যের শিক্ষার সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকগণের ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চণার প্রশমন করা উচিত, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত তথা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে।

লেখকঃ সিনিয়র শিক্ষক, গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৫/০৮/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.