মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন: বদলি বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘ দিনের দাবি। বদলির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিষয়টি আমলে নিয়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার । কিন্তু কারা বদলি হতে পারবেন, কেমন হবে বদলি নীতিমালা তা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চলছে বিতর্ক। তবে বদলি হতে হবে সকল বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য। তাহলেই কেবল বদলি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। শুধু এনটিআরসিএ’র সনদধারীদের জন্য বদলি চালু হলে তা হবে বিতর্কিত। তাই সকল বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কিভাবে চালু করা যায় তার একটি সহজ পদ্ধতি তুলে ধরছি-
বদলি দু’ ভাবে হতে পারে-
১. পারস্পরিক(মিউচুয়াল) বদলি।
২. শূন্য পদে বদলি।
মিউচুয়াল বদলির ক্ষেত্রে-
সমপদের দু’জন শিক্ষক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করে পরস্পরের প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ নিতে পারেন।
শূন্য পদে বদলি –
এ প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে খুব সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব। এনটিআরসিএ’র বর্তমান শিক্ষক নিয়োগের মতো বদলির কার্যক্রমটিও তারাপরিচালনা করতে পারেন। প্রথমে এনটিআরসিএ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ করবে। তারপরে শূন্য পদে বদলির জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দিবে। আগ্রহী শিক্ষকরা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সমপদে বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন করবে। প্রার্থী বাছাই সম্পূর্ণটাই অনলাইনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভাবে সম্পন্ন হবে। বাছাই প্রক্রিয়াটি নিম্নোক্ত বিষয় গুলো বিবেচনা করে পয়েন্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা যেতে পারে।
একাডেমিক সার্টিফিকেটের উপর পয়েন্ট –
* প্রতিটি A+/ প্রথম বিভাগের জন্য ৩ পয়েন্ট।
* A / A- গ্রেড/ দ্বিতীয় বিভাগের জন্য ২ পয়েন্ট।
* B / C গ্রেড/ তৃতীয় বিভাগের জন্য ১ পয়েন্ট নির্ধারিত থাকবে।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের কাম্য যোগ্যতার অতিরিক্ত যোগ্যতা বিবেচনায় আসবে না।
নিবন্ধন পরীক্ষার মার্কস বিবেচনায় আনলে যারা অনিবন্ধিত তারা বদলির সুযোগ হতে বাদ পড়বে। তাই নিবন্ধনের মার্কস বিবেচনায় না আনাই ভালো। যদি আনতেই হয় তাহলে অনিবন্ধিতদের নিয়োগ পরীক্ষার মার্কও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
চাকরির অভিজ্ঞতার উপর পয়েন্ট-
* চাকরির অভিজ্ঞতার উপর প্রতি এক বছরের জন্য ১ পয়েন্ট। সর্বোচ্চ ১৬ বছরের জন্য ১৬ পয়েন্ট। ১৬ বছরের অতিরিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য কোনো পয়েন্ট থাকবে না।
* একাধিক প্রার্থী একই পয়েন্টের অধিকারী হলে যার বয়স বেশি তিনি অগ্রাধিকার পাবেন।
* প্রার্থীদের নিজ উপজেলায় অগ্রাধিকার থাকবে।
বর্তমান এমপিও নীতিমালার শুধু একটা যাগায় সংশেধনী আনলেই বদলি কার্যকরে আর কোন বাধা থাকে না। সেটা হলো- সহকারী অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে শতকরা ৫০% হার পরিবর্তন করে ১৬ বছরে সকলের জন্য সহকারী অধ্যাপক হওয়ার বিধান চালু করা। এটা করলে তারাও সহজে বদলি হতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র / জুনিয়র নিয়ে কোন বিতর্ক থাকবে না।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দূর দুরান্তে চাকরি করে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া তাদের বাড়ি ভাড়া মাত্র ১ হাজার টাকা। এ সামান্য টাকা দিয়ে দূরে বাসা ভাড়া করে থাকাও কঠিন। তাই দুর্মূল্যের এ বাজারে স্বল্প টাকায় সংসার পরিচালনার জন্য নিজ উপজেলায় চাকরির বিকল্প নাই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বহুবিধ কল্যাণের জন্য বদলিটা জরুরী । তাই বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, জিরাইল আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসা, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল।
মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/৩০/০৮/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
