মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া: পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। পেনশন নিয়ে অন্যরা তো আন্দোলন করছে না। আমরাও যেন আন্দোলনের পথে না থাকি, আমাদের যেন আন্দোলন করা না লাগে, সেই ব্যবস্থা সরকার করবে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনায় বসা হয়নি। প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারের বিষয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছি।
এর আগেও পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারে দাবিতে আমরা তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি করেছি। কিন্তু যখন কোনো প্রকার আশ্বাস দেওয়া কিংবা আলোচনা করেনি তখন নিজেরাই উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গেছি দুইবার। শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে টেলিফোনে এ বিষয়ে জানিয়েছি।
কিন্তু, কোনোভাবেই আমাদের দাবি পূরণ হয়নি। গণস্বাক্ষর, সংবাদ সম্মেলন, অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালনসহ বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। গতকাল (৩০ জুন) পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচিও পালন করলাম। এত কিছুর পরও সরকার যখন দাবি মেনে নেয়নি, তাই আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
একটা জাতির জন্য খুব দুঃখজনক যে, শিক্ষকদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়। এটা কী কোনোভাবে কাম্য? পরবর্তী প্রজন্ম যখন দেখবে শিক্ষকদের বারবার পথে নেমে সংগ্রাম করতে হয়— তাহলে তারা কী এই পেশায় আসতে আগ্রহী হবে? মেধাবীরা চলে যাবে দেশের বাইরে। প্রতিবেশি দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বেতন আমাদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ভারত, শ্রীলঙ্কা এমনকি পাকিস্তানের শিক্ষকরাও আমাদের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেশ আগেই সুপারগ্রেড দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজও তা পেলাম না। এবার কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে বলেছেন যে, এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়। তিনি যথাযথ বলেছেন যে, এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিষয়।
খুবই ভালো কথা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলোচনা করা উচিত ছিল। আমরা স্টেকহোল্ডার ছিলাম। আমাদের প্রতিনিধির সঙ্গেও আলোচনার প্রয়োজন ছিল। কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধি পাঠালো না? তাহলে আজ বলতে পারতাম তাদের উপস্থিতিতে এটি হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও ইনভলব না করেও যে এটি করা হয় সেটি শিক্ষামন্ত্রীর কথায় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।
লেখক: সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি; মহাসচিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশ
মতামত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মতামত ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক ও আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের;- শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০১/০৭/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
