এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকের মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধি জরুরি: নতুন শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘মুখস্থবিদ্যা, কোচিং সেন্টার বা গাইড বই নির্ভরতা কমানো, প্রতিযোগিতার অস্থিরতা থেকে বের হওয়া ব্যাপারগুলো আমরাও চাই। তবে নতুন কারিকুলাম (শিক্ষাক্রম) এই মুক্তির পথ দেখাচ্ছে কিনা– সেটাই প্রশ্ন। শিক্ষকের মর্যাদা, মানসম্মত স্কুল এবং বেতন বৃদ্ধিসহ ধাপে ধাপে সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো জরুরি।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। অবিলম্বে সাইবার নিরাপত্তা আইনে কারারুদ্ধ অভিভাবকদের মুক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন উদ্বিগ্ন অভিভাবক, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজ। বক্তারা নতুন শিক্ষাক্রমের সমালোচনা করে কারারুদ্ধ অভিভাবক ও শিক্ষক কাজী সাইফুল হক পনির, আল আমিন হোসাইন, জাহাঙ্গীর কবির ও তাপসী খানের মুক্তির দাবি জানান.

আনু মুহাম্মদ বলেন, কারিকুলাম নিয়ে কথা বললে কেন অপরাধ হবে। ভিন্নমত থাকলে তা নিয়ে পর্যালোচনা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার বার্তা দিচ্ছে, কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারবে না। তিনি বলেন, এ সরকারের প্রথম মেয়াদের শিক্ষানীতিতে সৃজনশীল পদ্ধতি ছিল। বলা হলো– এতে গাইড, কোচিং আর প্রাইভেট টিউটর লাগবে না– সেগুলোর কী হলো? একই লোকেরাই এখন নতুন শিক্ষাক্রম করছেন, তাহলে আগে যে ভুল হয়েছে তার ব্যাখ্যা তো দিতে হবে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এখন স্কুলে মাঠ নেই, বড় বড় ভবন হয়েছে। নতুন স্কুল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক স্কুল সবচেয়ে অবহেলিত। শিক্ষকের মর্যাদা-বেতন এমন জায়গায় নিতে হবে, যাতে তারা যেন ফুলটাইম শিক্ষক হন, কোচিংয়ে না যেতে হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষানীতি যারা করেছে, তাদের সন্তান-আত্মীয়রা কেউ এখানে পড়ে না। অবস্থা ভালো হলে বাইরে নইলে দেশে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। যেসব দেশের উদাহরণ দেওয়া হয়, তাদের পড়ার শতভাগ খরচ দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যত উপকরণ প্রয়োজন, সব সরকার দেবে। অথচ আমাদের এখানে ল্যাপটপ-স্মার্টফোন, ইন্টারনেট জোগাড় করা অভিভাবকের বড় চিন্তার কারণ।

অভিভাবক সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, বাচ্চার কোনটা ভালো কিংবা খারাপ তা আমরা (অভিভাবক) সিদ্ধান্ত নেব। সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক রাখাল রাহা বলেন, অভিভাবকরা সন্তানের শিক্ষায় উদ্বিগ্ন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, অভিভাবকদের ব্যয় বাড়ছে। অভিভাবকরা দেখেন বাচ্চার চালচলন, ভবিষ্যৎ। অবিলম্বে অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার চাই।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/০১/২০২৪

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.