এইমাত্র পাওয়া

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষাসংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা

মো. আবদুল লতিফঃ কেউ কেউ মনে করছে বা বলছে, দেশের পরীক্ষাব্যবস্থা উঠে গেল, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেল ধারাবাহিক মূল্যায়নের কারণে। দেশে কোনো নতুন পদ্ধতি বা কৌশল এলে অথবা নতুন কোনো সিস্টেমের সঙ্গে খাপ খেয়ে নিতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। পরে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়। তেমনই ধারাবাহিক মূল্যায়ন নতুন সিস্টেম হওয়াতে আমরা অনেকেই অনেক রকম কথা বলছি। প্রশিক্ষণ করার পর পাঠ চলাকালীন, পাঠ শেষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে, যা মৌখিক, লিখিত, পর্যবেক্ষণ (একক কাজ, জোড়ায় কাজ, দলগত কাজ, ব্যাবহারিক কাজ, কোনো প্রজেক্ট বা প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ ইত্যাদি), সাক্ষাৎকার, স্ব-মূল্যায়ন, সতীর্থ বা সহপাঠী কর্তৃক মূল্যায়ন ইত্যাদি কৌশল ও টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে। মূল্যায়ন শেষে ডায়ারি-১ এ পিরিয়ডভিত্তিক নম্বর সংরক্ষণ করে অধ্যায় শেষে ডায়ারি-২তে রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়। প্রথম প্রান্তিক শেষে শিক্ষার্থীর অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর ০-৩৯ শতাংশ হলে সহায়তা প্রয়োজন, ৪০-৫৯ শতাংশ হলে সন্তোষজনক, ৬০-৭৯ শতাংশ হলে ভালো, ৮০-১০০ শতাংশ হলে উত্তম। এভাবে অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রদান করা হবে।

ধারাবাহিক মূল্যায়নের সময় শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের যাচাই করা হয়ে থাকে। কোনো যোগ্যতা অর্জন না হলে সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর কোনো নম্বর পাবে না। তিনটি যোগ্যতা পুরোপুরি অর্জন হলে সর্বোচ্চ ২ নম্বর পাবে। আংশিক যোগ্যতা অর্জন হলে ১ নম্বর পাবে। তবে নির্দেশনা রয়েছে কোনো শিক্ষার্থীই যেন ০ নম্বর না পায়, সেই দিক শিক্ষককে সতর্ক থাকতে হবে। প্রথম পিরিয়ডে নম্বর না পেলেও পরবর্তী পিরিয়ডে ফিডব্যাক প্রদান, নিরাময়মূলক ব্যবস্থা, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ১ নম্বর অথবা ২ নম্বর পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করাতে হবে। এক্ষেত্রে সম্মানিত শিক্ষকদের অত্যন্ত আন্তরিকতা, দক্ষতা ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিখন শেখানো কার‌্যাবলী পরিচালনা করতে হবে।

প্রতিটি পাঠ শেষে মূল্যায়ন নির্দেশক অনুযায়ী শিখনফলের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। বর্তমান শিক্ষাক্রম অনুযায়ী চলতি বছরে প্রথমিক শ্রেণিতে ১০০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন, পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে পরিচালিত হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৪০ শতাংশ করা হবে। সর্বোপরি ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রতিটি পিরিয়ডেই পরীক্ষা।

সবশেষে বলা যেতে পারে, একজন শিক্ষক যদি সঠিক পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করে শিখন শেখানো কার‌্যাবলী পরিচালনা করেন, তাহলে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে চিন্তাচেতনা, তাতে শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশে বিনির্মাণ করবে এটাই হোক দেশ ও জাতির প্রত্যাশা।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, কাউনিয়া, রংপুর

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/১২/২০২৩

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়

“মুক্তমত ও সাক্ষাৎকার কলামে প্রকাশিত নিবন্ধ লেখকের নিজস্ব। শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, শিক্ষাবার্তা কর্তৃপক্ষের নয়।”


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.