রাজশাহীঃ অবরোধ চলাকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাসের দুটো ট্রিপ বন্ধ রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন দফতর। কিন্তু এরই মধ্যে দলীয় কাজে অংশ নিতে ছাত্রলীগকে পাঁচটি বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মহানগর আওয়ামী লীগের ‘আনন্দ মিছিলে’ যোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি বাস নিয়ে অংশ নেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
তবে এমন সময়ে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সুবিধা দেয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এদিন বিএনপির অবরোধ চলার কারণে বিহাস-কাটাখালি-বানেশ্বর রুটে কোনো বাস যায়নি। এছড়া দুপুর ১টা ১০ ও রাত ৮টা ১০-এর বাসের ট্রিপও অবরোধ চলার দিনগুলোতে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দফতর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজ বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাস দিতে পারে। তবে এভাবে প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দফতরের প্রশাসক মোখছিদুল হক ছাত্রলীগকে বাস দেয়ার বিষয়ে জানান, ‘যারা বাস নিয়েছে, তারা শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। সেখানে কোনো সংগঠন বা দলীয় কর্মসূচির বিষয় উল্লেখ ছিল না। তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়াও পরিশোধ করেছে।’
পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গেছে, একটি বাস ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ট্রিপ প্রতি জ্বালানি খরচ এক হাজার ৫০০ টাকা ও স্টাফ খরচ বাবদ ৯৬০ টাকা পরিশোধ করে ব্যাংক রশিদ আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।
তবে এই প্রতিবেদক নিশ্চিত হয়েছে, পাঁচটি বাসের জন্য নির্দিষ্ট ফি হিসেবে ১২ হাজার ৩০০ টাকা আদায় না করেই জরুরি ভিত্তিতে বাসগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় নগরের আলুপট্টি এলাকায় আনন্দ মিছিল করা হয়। সেখানে যোগ দেয়ার জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করে বাস নিয়েছিলাম ও ভাড়াও পরিশোধ করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দফতরের প্রশাসক ভাড়া পরিশোধের কথা বললেও, পরিবহন অফিস সূত্রে জানা গেছে কোনো ফি না দিয়েই তাদের পাঁচটি বাস নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে এটি নিয়ম বহির্ভূত বলে জানান অফিসের কর্মকর্তারা।
বাস নেয়ার জন্য সমাজকর্ম বিভাগের পরিচয় দিয়ে মো: মিনহাজুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তবে সেই আবেদনে ঠিক কোনো কারণে বাসগুলো ব্যবহৃত হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনের একটি কপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/১১/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
