এইমাত্র পাওয়া

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হলেও মূলত ৯০% শিক্ষকের বেতন কমে যাবে

নিউজ ডেস্ক।।

গত কয়েকদিন যাবত দায়িত্বশীলগণসহ অনেকেই বলে চলেছেন, প্রিন্ট মিডিয়ায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উন্নীতকরণের প্রচারে লিপ্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী জনাব রওশন এরশাদ এমপি মহোদয়ের এক প্রশ্নের জবাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মহান সংসদে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে মর্মে তাঁর বক্তব্যে উপস্থাপন করেন।

প্রাথমিক শিক্ষকরা দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর ধরে যোগ্যতা ও সামাজিক মর্যাদা বিচারে তাদের সময়োপযোগী বেতনস্কেল প্রাপ্তির প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যম হিসেবে আন্দোলন করে আসছিলাম। এরই মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তিন তিন মহাপরিচালক ও প্রাগমের সচিব মহোদয়গণ দায়িত্বপালন শেষ করেছেন। বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন মহলের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষক সম্প্রদায় প্রাথমিক শিক্ষকরা আমরা নিজেদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়েছি।

 

অতি সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রনালয়ের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের মতামত তথা সম্মতি ব্যক্তকরণের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মানুষ জানতে সক্ষম হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১১ তম গ্রেড ও সহকারি শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকরা ৯ মার্চ ২০১৪ থেকে তথা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পূর্বেই এ ১১ তম গ্রেডে বেতন পরিগ্রহ করে আসছে। প্রাগমের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ও সচিব মহোদয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বেড়েছে মর্মে তথ্য নিশ্চিত করলেও মূলত এ প্রস্তাবনায় ২০১৫ খ্রিঃ পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল শিক্ষকেরই বেতনভাতা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

BSR Part -1 এর 42 ( i) (ii) বিধানানুসারে উন্নীত বেতনস্কেলে বেতন নির্ধারণহেতু নিম্নধাপে বেতন নির্ধারনজনিত কারনে প্রায় শিক্ষকের পূর্ব বছরের চেয়ে পরবর্তী বছরে কম বেতন গুণতে হবে।
১২/৯/১৯৯ শিক্ষক হিসেবে যোগদান করা শিক্ষক ৩০০০-৫৯২০ বেতনস্কলে ২৮/৮/২০০৬ তারিখ ৩৪৫০/- টাকায় নির্ধারিত হওয়ার পরে উন্নীত বেতনস্কেলে ২৯/৮/২০০৬ এ ৩১০০- ৬০৮০/- স্কেলে তা ১০/- কমে ৩৪৪০/- টাকায় নির্ধারিত হয় ( সমসাময়িক সময়ে টাইমস্কেল মজ্ঞুরী পাওয়ায় বড় মাপের বেতন কমতি হয়নি ।

আবার ৮/৩/২০১৪ তারিখ ৫৫০০- ১২০৯৫ বেতনস্কেলেে ৮২৯৫/- নির্ধারিত হলেও ৯/৩/২০১৪ তারিখের উন্নীত বেতনস্কেলে ৮১৮০/- টাকায় নির্ধারণ হয়ে মূলবেতনে ১১৫/- কম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ঠিক সেই নিয়মের নিরিখে ২০১৯ খ্রিঃ উন্নীত বেতনস্কেল প্রতিমাসে ১২৫০০- ৩০২৩১ বেতনস্কেলে মূল বেতন ২০৪২০/- টাকা ১/৭/২০২০ এ মূল বেতন ১০১০/- বাড়ি ভাড়া ভাতা ৪০৪ /- সহ মোট ১৪১৪/- প্রতিমাসে কম গ্রহনকরণ, তথা বেতন কমে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।( ১৯৯৮,১৯৯৯,২০০০ নিয়োগকৃত হাজার হাজার শিক্ষক প্রতিমাসে ১৪১৪/- বেতনভাতা নিতে হবে)

এ একই কালো নিয়মের প্রেক্ষিতে ২৩/৫/ ২০১২ খ্রিঃ যোগদান করা শিক্ষকটি ডিপিএড প্রশিক্ষণ গ্রহন শেষে পরবর্তী বেতনগ্রেডে উন্নীত হওয়ার পরেও ২৩/৫/২০১৮ খ্রিঃ এসে প্রতিমাসে ৬১০/- মূল বেতন কম তুলতে হচ্ছে অর্থাৎ বেতন কমে যাচ্ছে। ( ২০১২ তে নিয়োগকৃত হাজার হাজার শিক্ষক প্রতিমাসে ৬১০/- মূলবেতন ও বাড়িভাড়া কম নিতে হবে।)

 

সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উন্নীতকরণের ম্যাসেজটি সরবরাহ করণের মধ্য দিয়ে সমাজে শিক্ষকদের আরো চ্যালেঞ্জের সম্মূখীন করা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবির শাস্তি সরুপই এ উন্নীত স্কেল নামীয় বেতন কমিয়ে দেয়ার অভিশাপ ১১ ও ১৩ গ্রেড। সুপারিশকৃত ও প্রস্তাবিত এ বেতনস্কেল উন্নীতকরণ করা হলে প্রায় সকল শিক্ষককেই প্রতিমাসে কম বেতনভাতা গ্রহন করতে হবে। যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষক আমাদের জীবন মাণে প্রভাব বিস্তার করবে।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। তাই শিক্ষক সম্প্রদায়ের মর্যাদার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে ১০ ও ১১ তম গ্রেডের বিষয়টির সুরাহা প্রয়োজন বলে মনে করছি। তা না হলে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভই তৈরি হবে এবং এতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ভাটা পড়বে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.