স্বকৃত নোমান: নেকাব নিষিদ্ধের ঘটনায় বাংলাদেশের ধর্মব্যবসায়ীরা কি মিশরের মুসলমানদের কাফের ফতোয়া দেবে? না, সেই সাহস এদের নেই। দিলেও ধোপে টিকবে না। দেবেই-বা কোন মুখে? মিশরের স্কুলে নিষিদ্ধ হয়েছে নেকাব। হিজাব পরতেও জোর করা যাবে না বলে জারি হয়েছে আইন। দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য ও জগদ্বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক আইনের এক অধ্যাপক বলেছেন, নেকাব পরতে ইসলামে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এই সংস্কৃতি অন্য ধর্ম থেকে ইসলামে এসেছে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবের ইহুদিদের ঐতিহ্য ছিল নেকাব। আর নারীদের মুখ ঢেকে রাখার বিষয়টি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কিছুদিন আগে কোনো এক সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, ‘বোরকা পরা আমার অধিকার। শিক্ষকদের কোনো অধিকার নেই আমার অধিকারে হস্তক্ষেপ করার।’ মেয়েটির কথাগুলো তোতাপাখির বুলির মতো লাগছিল। নিজ চিন্তাপ্রসূত কথা নয়, অন্যের শিখিয়ে দেওয়া কথা। ভালো কথা তোমার অধিকার। কিন্তু শিক্ষকেরও অধিকার আছে তোমার চেহারা দেখার। কারণ তুমি জরিনা, আমিনা, ছকিনা, নাকি জুলেখা—শিক্ষক নিশ্চিত না হয়ে কীভাবে তোমার পরীক্ষা নেবেন? জরিনার হয়ে জুলেখাও তো প্রক্সি দিতে পারে। আমিনার হয়ে ছকিনাও তো প্রক্সি দিতে পারে। সুতরাং, কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন, যেখানেই পড়ালেখা করতে কিংবা পরীক্ষা দিতে যাও, মুখ ঢেকে রাখা চলবে না। তুমি আসলেই তুমি কিনা, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মুখের নেকাব তোমাকে খুলতেই হবে।
এই দেশে ইসলাম এসেছিল পশ্চিম থেকে। ইসলামের সংস্কারও আসবে পশ্চিম থেকে। সৌদিতে সংস্কার চলছে, মিশরে চলছে। মুসলমান অধ্যুষিত দেশে দেশে সংস্কার চলছে। বাংলাদেশেও যে সংস্কার শুরু হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সূর্য উঠলে তার আলো আসতে একটু সময় তো লাগেই। ধর্মব্যবসা, ধর্মের নামে মানবতার অবদমন বন্ধ হবেই।
লেখক: কথাসাহিত্যিক
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/০৯/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
