নিজস্ব প্রতিবেদক।।
এক সময় নির্বাচন ছিল ঈদ উৎসবের মতো। গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হতো উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্বাচন নিয়ে সহিংসতার খবর তখন খুব কমই শোনা যেত। এ দৃশ্যপট এখন নেই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার মতো ভয়ংকর সব খবর। এর ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কে ভোটকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। সমস্যাটি দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে ও ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা যায়, দুটি বিবদমান রাজনৈতিক শক্তি পরস্পরকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতার কারণ বহুবিদ। জিততেই হবে, যেকোনো প্রকারে জিতব, প্রয়োজনে হত্যা করে জিতব।—এ মানসিকতা নির্বাচনে যাবতীয় সন্ত্রাসের জন্ম দেয়।
আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মানাতে না পারাও এমন সহিংসতার কারণ। মাস্তান–সন্ত্রাসীরা প্রার্থীদের হাতিয়ার—এমন হাতিয়ার মূলত. সহিংসতার আরো একটি কারণ।
আইনের দূর্বলতা। প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা। রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আচরণ। দুনীতি। অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনের বিষয় গুলোকে দেখাও সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রক্রিয়া গুলো হতে বের হতে হবে। আমরা দেখেছি বিগত জাতীয় নির্বাচনে প্রায় সবদল অংশ নিলেও কার্যত নির্বাচন হয়েছে একদলীয়। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমি, আমার পরিবার, আমার আত্নীয় স্বজনও নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। সকাল থেকে রাস্তার মোডে মোডে যেমন একটি দলের কর্মীরা বসে ছিল যাতে কেন্দ্রে কেউ যেতে না পারে অপরদিকে ভোট কেন্দ্র যাদের কাছে নিরাপদ থাকার কথা তারাও তা দখলে রেখেছে একটি দলের জন্য। নির্বাচনী সহিংসতায় মূল টার্গেট হল ভোটার। ভোট কেন্দ্র। সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ও টার্গেটে পরিণত হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বহু দেশে প্রভাব রেখেছে। আমাদের দেশেও এর ব্যতয় হবে বলে মনে হয় না।
বিশ্বাসযোগ্য বিষয় হলো এমন চরম সত্য আমরা অনেকেই বলতে পারি না।
সমাধানের উপায় : অতীত ঘটনাবলির বাস্তবতা অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে মতৈক্যের সম্ভাবনা খুব একটা আশা করা যায় না। অনেকে ঠাট্টা করে বলে থাকেন, রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে ‘সালিস মানি কিন্তু তালগাছ আমার’ নীতিতে বিশ্বাসী। সে কারণে, যদি কোনো বিষয়ে মতৈক্য না হয় তখন পৃথক মতগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত করা যায়। এ ক্ষেত্রে জনগণ যে মত দেবেন তা সব পক্ষ মেনে নেবে, এ মতৈক্যটি শুধু প্রয়োজন হবে।
আমাদের এ দেশের নাম ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। এখানে জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। ফলে জনগণের মতামতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াটাই দলমত-নির্বিশেষে সবার জন্য যুক্তিসংগত ও বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে দ্বিমত করার অবকাশ দেখি না। সরকারের এবং সরকারদলীয় জোটের কাছে এখন সমস্যা সমাধানের একটিমাত্র পথই খোলা আছে, সেটি হলো বিরোধীপক্ষের সঙ্গে উপরিউক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা। একই সঙ্গে সুষ্ঠ রাজনৈতিক পরিবেশের সংস্কৃতি গড়ে তোলার স্বার্থে আরও কিছু রাজনৈতিক বিষয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যের ভিত্তিতে সুরাহার প্রচেষ্টা নেওয়া যেতে পারে। এ অবস্থায়, বিবদমান ওই জোট দুটির বাইরের অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি বৃহত্তর সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে।
নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়সমূহ, যেমন: নির্বাচনপদ্ধতি নির্ধারণ, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, মধ্যবর্তী নির্বাচন এসব বিষয়ে মতৈক্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। অন্যথায় গণতন্ত্র বলতে আমরা যা বুঝি সেটি কার্যত সুদুর পরাহুত হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
