দেবহাটায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ!

আল আমিন হোসেন মৃধা, ঢাকাঃ সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার ভাতশালা সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে তথ্য গোপন করার মাধ্যমে জালিয়াতি করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জালিয়াতি ও তথ্য গোপন করে নিয়োগ পাওয়া ঐ প্রধান শিক্ষকের নাম শিরিনা পারভিন। তিনি একই বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং নিয়োগকালীন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নিকটাত্বীয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে সভাপতির আত্মীয় শিরিনা পারভিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। যা ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রধান শিক্ষক পদে এমপিওভুক্ত হন।  প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া শিরিনা পারভিন একই বিদ্যালয়ে ২০১২ সালের ০১ মার্চ তারিখে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভের সময় বিভাগীয় প্রার্থী হলেও তিনি পূর্বের প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়মুক্তিপত্র গ্রহণ না করায় সরকারের দেওয়া এমপিও অংশ পাবেন না বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১০ সালের এমপিও নীতিমালা ও জনবলকাঠামোর ১২নং অনুচেছদে উল্লেখ আছে যে, বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবহিতকরণের মাধ্যমে কোন শিক্ষক-কর্মচারী অন্য যেকোন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমপদে / উচ্চতর পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে তাকে বিভাগীয় প্রার্থীরূপে গণ্য করা হবে। এরূপ প্রার্থী যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হবেন সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হলে পূর্বোক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়মুক্তিপত্র গ্রহণ এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তিনি নতুন প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্য হবেন।

শিরিনা পারভীন এ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পূর্বে পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলাধীন রোকেয়া বেগম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধন শিক্ষক কর্তৃক  (২০০৩ সালের ১২ মার্চ তারিখে স্বাক্ষরিত) প্রত্যয়ন পত্রে ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর তারিখ হতে কর্মরত আছেন। খুলনা জেলার সোনালী জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক (২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি তারিখে স্বাক্ষরিত) অভিজ্ঞতার সনদে উল্লেখ করেন যে, শিরিনা পারভীন সহকারী শিক্ষক পদে বিগত ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ তারিখ হতে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু শিরিনা পারভিন ভাতশালা সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে যোগদানকালে পূর্বোক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়মুক্তিপত্র দাখিল করেননি। 

শিক্ষাবার্তা’র হাতে থাকা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি শিক্ষা পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল আলম ও শিক্ষা পরিদর্শক অধ্যাপক এ.এইচ.এন জাহানীর আলম স্বাক্ষরিত অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, সহকারী প্রধান শিক্ষক শিরিনা পারভীন ২০১২ সালের ০১ মার্চ তারিখে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থাপিত তার পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলাধীন রোকেয়া বেগম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধন শিক্ষক কর্তৃক  (২০০৩ সালের ১২ মার্চ তারিখে স্বাক্ষরিত) প্রত্যয়ন পত্রে ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর তারিখ হতে কর্মরত আছেন। খুলনা জেলার সোনালী জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক (২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি তারিখে স্বাক্ষরিত) অভিজ্ঞতার সনদে উল্লেখ করেন যে, শিরিনা পারভীন সহকারী শিক্ষক পদে বিগত ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ তারিখ হতে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসিতেছেন। ৪/২/২০১০ তারিখের জনবলকাঠামোর ১২নং অনুচেছদে উল্লেখ আছে যে, বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবহিতকরণের মাধ্যমে কোন শিক্ষক-কর্মচারী অন্য যেকোন ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমপদে / উচ্চতর পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে তাকে বিভাগীয় প্রার্থীরূপে গণ্য করা হবে। এরূপ প্রার্থী যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হবেন সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হলে পূর্বোক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়মুক্তিপত্র গ্রহণ এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তিনি নতুন প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্য হবেন। শিরিনা পারভীন এ প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পূর্বে পূর্বোক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়মুক্তিপত্র দাখিল না করায় তিনি সরকারি বেতন ভাতা পাবেন না।

জানা গেছে, সহকারি প্রধান শিক্ষক শিরিনা পারভিনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট আপত্তি থাকা স্বত্বেও অডিট তথ্য গোপন করে অতি সুকৌশলে অন্য যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তৎকালীন সভাপতি আব্দুল জলিল বিশ্বাসের নিকট আত্মীয় হওয়ায় তিনি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভাতশালা সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শিরিনা পারভিন অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষাবার্তা’কে বলেন,  তাঁরা (অটিড কর্মকর্তারা) একটা মনগড়া রিপোর্ট দিয়েছেন। খুবই সামান্য বিষয় নিয়ে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও তাঁরা রিপোর্ট দিয়েছে। জানি না কেন তাঁরা এমনটা করেছেন। আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া সব ঠিক আছে। কোনো কাগজে ঘাটতি নেই।

তিনি বলেন, অডিট কর্মকর্তারা যে বিষয়টি নিয়ে আমার সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আপত্তি তুলে সরকারি বেতন ভাতা পাবেন না উল্লেখ করেছেন সেটা সঠিক নয়। আমি আমার পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি পত্র নিয়েছি যেখানে প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার কোনো দায়মুক্তি নেই উল্লেখ করা আছে। তাহলে দায়মুক্তি পত্র দেয়নি তাঁরা কেন লিখছেন তারাই ভালো জানেন। অডিট আপত্তি্র বিষয়ে আমি লিখিত দিয়েছি।  যদি এটা সমস্যা হতো তাহলে আমার এমপিও হতো না।

প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগকালীন বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল বিশ্বাসের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ানুর রহমান শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, এখানে তো আমি নতুন আসছি। আর এই বিষয়ে আমি আগে শুনিনি আপনার থেকেই প্রথম শুনলাম। যদি অডিট আপত্তি থাকে তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান হোসেন শিক্ষাবার্তা’কে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অটিড আপত্তি যদি থাকে তাহলে তার জবাব তো অবশ্যই দিতে হবে। সেটাতে যদি সত্তষ্ট হয় কর্তৃপক্ষ তাহলে নিষ্পত্তি হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৭/০৮/২০২৩ 

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.