বাগেরহাটঃ নিয়োগ বিধিমালা উপেক্ষা করে অনৈতিক অর্থের বিনিময়ে বাগেরহাটে স্কুলে নৈশ প্রহরী নিয়োগ করার অভিযোগে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার পালকে অবশেষে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি ওই প্রধান শিক্ষক সোমবার (১০ জুলাই) বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনাবেদন করলে আদালতে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আসামি আনন্দ কুমার পাল বাগেরহাট সদর উপজেলার মগরা এলাকার কাড়াপাড়া, যাত্রাপুর ও ষাটগম্ভুজ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক এবং খুলনা জেলার দিঘলিয়া সেনহাটি গ্রামের লক্ষন চন্দ্র পালের ছেলে।
আদালত সূত্রে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবারণ ও তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার পাল ২০২০ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় কাড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ বশিরুল ইসলাম যোগসজাসে প্রতিষ্ঠানে পদ না থাকা স্বত্তেও সরকারি নিয়োগ বিধি উপক্ষো করে সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে মগরা এলাকার আজাহের শেখের ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে চাকুরী দেয়। এরপর দুই বছর হলেও সাদ্দাম হোসেনের চাকরি এমপিওভুক্ত হয়নি এবং বেতন ভাতা পায় না। বিষয়টি নিয়ে পরে খোজ খবর নিয়ে জানা যায় সাদ্দামের নিয়োগ বিধি মোতাবেক হয়নি তাই তার বেতন ভাতা হয় না। অর্থের বিনিময়ে স্কুলে নৈশ প্রহরী নিয়োগ দিয়ে প্রতারণা করায় সাদ্দাম হোসেনের পিতা আজাহার শেখ বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার পাল কে আসামি করে বাগেরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলার অভিযোগ তদন্তের জন্য বাগেরহাট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশনা দিলে পিবিআইর এসআই আতিকুর রহমান দীর্ঘ তদন্তশেষে ১০ জন নিরপেক্ষ স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত সিআর ৩৭৬/২৩ নং এ মামলায় আসামি আনন্দ কুমার পালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এক পর্যায়ে আনন্দ কুমার পাল সোমবার বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হলে অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ড. মুহা. আতিকুস সামাদ প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার পালের জামিনাবেদন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
কে.জে.এস.পিইউ স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সোহাগ বলেন, নৈশ প্রহরী নিয়োগসহ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দুর্নীতি করার সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগে আনন্দ কুমার পালকে প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর শুনেছি সে একটি মামলায় আদালতে হাজির হলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তার জামিনাবেদন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১১/০৭/২০২৩
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
