একদিকে অডিও ফাঁস অন্যদিকে নিয়োগ বোর্ড

কুষ্টিয়াঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ সংক্রান্ত উপাচার্যের একের পর এক অডিও ভাইরাল হচ্ছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ টি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তবে এবিষয়ে কোনো সুরাহা না হয়েই আবারও নিয়োগ বোর্ড চালু।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ১১ জুন ‘দরবেশ সালাম’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে উপাচার্যের আরও একটি অডিও ভাইরাল হয়। অডিওতে উপাচার্যকে জুবায়ের নামের একজন চাকরিপ্রার্থীর বিষয়ে কারো সাথে কথা বলতে শোনা যায়। ওই চাকরিপ্রার্থীকে আবেদন করার পর উপাচার্যের সাথে দেখা করতে বলা হয়।

এর আগে, ‘রক সালাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ৯ ও ১০ জুন মধ্যরাতে দুটি অডিও ভাইরাল হয়। এসব অডিওতে দুটি বিভাগ ও চিকিৎসা কেন্দ্রের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিও ক্লিপে অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তির কথা শোনা যায়নি।

৯ জুন রাতে ছড়িয়ে পড়া ৫৩ সেকেন্ডের অডিওতে উপাচার্যকে বলতে শোনা যায়, ‘ফাইন আর্টসের ওটা করে দিতে পেরেছি। সিন্ডিকেট পর্যন্ত কাউকেই কিছু করার দরকার নেই। সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত হবে। আজকে সকালে দেখলাম যে মার্কেটিংয়ের একটা ইয়ে পাঠিয়েছিলেন। ওটা তো কালকে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমি একটু আগে জানলে হয়তো…(অস্পষ্ট)। খুব খারাপ ছিল না, হয়তো পাঁচেটাচে ছিল। সোজা কথা, আমি আপনার ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এখানে কাউকে নিয়োগ দিব না।

১০ জুন রাতে ছড়িয়ে পড়া ৪৬ সেকেন্ডের অডিওতে শোনা যায়, ‘আমরা কিন্তু মেডিকেলটা ডিসিশন নেইনি। একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে, ওর জন্যই নেইনি। ৭ তারিখের ভিতরেই―না এ মাসের ভিতরেই আরেকটা অ্যাড (বিজ্ঞপ্তি) আছে ওইটাতে ও যেন অ্যাপ্লাই করে দেয়। একটা তো…(অস্পষ্ট) আমাকে এখানে একটা একোমোডেট করতে হবে।’

প্রথমে, ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় ‘ফারাহ জেবিন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পরপর কয়েকটি অডিও ভাইরাল হয়৷ ওই অডিওতে উপাচার্যের অলি নামের একজন চাকরিপ্রার্থীর সাথে নিয়োগ বোর্ডের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে আলাপ হয়। এ ছাড়াও পরবর্তী পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। অডিওতে ওই প্রার্থীকে আগামী নিয়োগ বোর্ডে টাকা দিয়ে আবেদন করানোর জন্য তিনজন প্রার্থীকে জোগাড় করতে বলা হয়।

এদিকে, অডিও ভাইরালের ফলে দীর্ঘদিন নিয়োগ বোর্ড স্থগিত থাকার পর সোমবার (১২ জুন) আবারও নিয়োগ বোর্ড চালু হয়। অডিও ভাইরালের কোনো সুরাহা না হয়েই নিয়োগ বোর্ড চালু হওয়ায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ জুন) উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনটি পদের বিপরীতে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও একজন সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদের বিপরীতে ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

এদিন, পরীক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া ও প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহিদ উদ্দীন মো. তারেক। এ ছাড়ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম মামুনুর রশীদ।

এদিকে, মঙ্গলবার (১৩ জুন) প্লাম্বার পদের ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন টি পদের বিপরীতে সাত জন চাকরি প্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও একজন ইলেকট্রিশিয়ান পদের বিপরীতে অংশগ্রহণ করেন দশ জন চাকরি প্রত্যাশী। ভাইভায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল কে এম সালেহ।

এ ছাড়ও বুধবার (১৪ জুন) পূর্বে লিখিত পরীক্ষা হওয়া ৩ জন চিকিৎসক পদের ভাইভা ও ১ জন চিকিৎসক পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, অডিও ভাইরালের সুরাহা না হওয়ার পরও যদি নিয়োগ বোর্ড হয় তাহলে তো এটা আরও সন্দেহের জন্ম দেয়। আমরা শিক্ষক হিসেবে তো কিছু করতে পারি না। সর্বোচ্চ তাকে বা সরকারকে অবহিত করতে পারি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.