বন্ধ হওয়ার পথে বেরোবির ক্যাফেটেরিয়া

ঢাকাঃ দীর্ঘদিন ধরে বাকি খাওয়ার পর পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়া এবং ব্যবসায় লোকসানের কারণে বন্ধ হওয়ার পথে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একমাত্র নাস্তার স্থান ক্যাফেটেরিয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক উপাচার্যের (অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ) দপ্তর ও চারজন শিক্ষকের কাছে ৭৫ হাজার টাকা এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তুষার কিবরিয়াসহ সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছে ৬৩ হাজার ৪৭০ টাকা পাওনা রয়েছে ক্যাফেটেরিয়ার।

সম্প্রতি বেরোবি ট্রেজারার বরাবর চিঠি দিয়ে আগামী ১০ জুলাই থেকে ক্যাফেটেরিয়া চুক্তি বাতিল ও বন্ধের জন্য আবেদন করেছেন ক্যাফেটেরিয়ার লিজগ্রহীতা এসএস ক্যাটারিং কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে বলা হয়, আমরা সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আগামী ১০ জুলাই থেকে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা করা সম্ভব না। উক্ত তারিখ থেকে চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ক্যাফেটেরিয়া লিজগ্রহীতা এসএস ক্যাটারিংয়ের ব্যবস্থাপক সেলিম মণ্ডল বেরোবি রেজিস্ট্রার বরাবর একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বিদ্যুৎবিল ও ভাড়া মওকুফের আবেদন করে বলেন, কোভিড-১৯ এর সময় ক্যাফেটেরিয়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মজুত ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এছাড়া প্রাক্তন উপাচার্য (অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ) ও চারজন শিক্ষকের কাছে ৭৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাপ্তাহিক তিনদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বিক্রি অনেক কমে গেছে। ভর্তুকির আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করার অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে জানতে ক্যাফেটেরিয়ার সহ-ব্যবস্থাপক মুকুল মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে ক্যাম্পাস তিনদিন বন্ধ থাকায় বেচাকেনা একদম কমে গেছে। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি তাতে প্রতিদিনই লস হচ্ছে। গত মে মাসের ৮ তারিখ থেকে জুন মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো লস হয়েছে। এভাবে আর চালানো যাচ্ছে না।’

পাওনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পাওনাগুলো ছিল করোনা পর্যন্ত। পাওনাদারের বেশিরভাগই এখন ক্যাম্পাসে নেই। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে পরে যোগাযোগ করে সাড়া মেলেনি। তবে এখন আর কেউ আগের মতো বাকি রাখে না বা ঝামেলা করে না। এখন নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছিলাম। তবে লসের মুখে পড়ে আর ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

ক্যাফেটেরিয়ার লিজগ্রহীতা ও ব্যবস্থাপক সেলিম মণ্ডল বলেন, ‘এখন জিনিসপত্রের দাম বেশি, বিক্রি কম, ভর্তুকিও নেই, প্রতিদিন বেচাকেনা শেষে দেখা যায় ক্ষতি হচ্ছে। আগের পাওনাতো আছেই। সব মিলে আমাদের আর পোষাচ্ছে না। তাই ক্যাফেটেরিয়া ছেড়ে দিচ্ছি।’

এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, ‘ক্যাফেটেরিয়ার বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাকি ছিল। লিজগ্রহীতাদের কাছে এটি চেয়েছিলাম। পরে দেখি তারা ক্যাফেটেরিয়া চুক্তি বাতিলের জন্য আবেদন করেছে।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৪/০৬/২০২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.